Latest Newsসাম্প্রতিক খবর


November 14, 2018

Working for the welfare of people despite huge debt burden: Mamata Banerjee

Working for the welfare of people despite huge debt burden: Mamata Banerjee

Bangla Chief Minister Mamata Banerjee today gave away Biswa Bangla Sharad Samman at a ceremony at Nabanna Sabhaghar. During the event she also inaugurated the new correctional home at Baruipur.

Speaking on the occasion, the CM said that the government was working hard for the welfare of the people, despite the huge debt burden. She said in the future more infrastructure projects will be taken up.

She also urged the various Puja committees to spread the word about keeping the city clean. She said it looks bad if newly-constructed infrastructure like roads and bridges and smeared with beetle juice and waste materials.

For her full speech in Bangla, click on the button above.


নভেম্বর ১৪, ২০১৮

ঋণের বোঝা সত্ত্বেও উন্নয়ন চলছে: মুখ্যমন্ত্রী

ঋণের বোঝা সত্ত্বেও উন্নয়ন চলছে: মুখ্যমন্ত্রী

আজ নবান্ন সভাঘরে বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যেমন বারুইপুরে নবমিসমিত সংশোধনাগার। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যের বিপুল দেনার দায় থাকা সত্ত্বেও তিনি উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছেন একনিষ্ঠভাবে। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ক্লাবগুলোকে অনুরোধ করেন যেন শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে তারা নিজেদের এলাকায় প্রচার করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু অংশ:

নবান্ন আমাদের রাজ্যের সচিবালয়। এটা পাশের ভবন। এই নবান্ন সভাগৃহটা তৈরি হয়েছে কারণ আমাদের অনেক সময় অনেক বৈঠক করতে হয়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়, যার জন্য অন্য হল ভাড়া করতে হয় বা অন্য জায়গায় যেতে হয়। তার জন্য সময়ও অনেক নষ্ট হয়। এখানে অনেক বৈপ্লবিক বৈঠক হয়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন হয়, অন্য সরকারের সাথে আমাদের সরকারের বৈঠক হয়। অন্য অনেক বৈঠক হয়।

মা দুর্গার পদস্পর্শে যারা মা দুর্গাকে এত করে দেখেছেন,সেই ক্লাবগুলিও সকলে এখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন,এটা আমার ভালো লাগছে। সুতরাং সকলকে ধন্যবাদ। আমরা আলিপুরকে গ্রীন এবং ক্লীন শহর হিসেবে সাজাবো। প্রায় ৭০০০ কোটি টাকার বড় প্রকল্প আসবে কলকাতায়। ফলে অলিপুরের সংশোধনাগারটি আমরা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আগেকার দিনের জেল নোংরা,সেঁতসেঁতে অবস্থায় অনেক দিন ধরে আছে। ভালো উন্নতধরনের জেল করছি আমরা। আবাসিকরা খুব তাড়াতাড়ি বারুইপুরে সিফট হবে। এরপর প্রেসিডেন্সি জেল এবং এইসব জায়গা অন্য কাজে লাগাবো, যাতে শহরটায় আরও বেশি মানুষের থাকার জায়গা হয়।

দুর্গাপুজো বাংলার জাতীয় উৎসব। ক্লাবগুলি সব জাতি, বর্ণ, ধর্মের মানুষকে নিয়ে, ছোট-বড় সকলকে নিয়ে, পুরুষ-মহিলা সকলকে নিয়ে করেন। আজ আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি বাংলাকে হিংসা করে কোনো লাভ নেই। বিশ্বের সব উৎসবের মধ্যে বাংলার দুর্গা উৎসব আজ এক নম্বর। এটা আমাদের গর্ব। প্রত্যেকটা পুজো প্যান্ডেল কমিটি তিন মাস ধরে প্ল্যান করেন। কাজ চালু হয় এক বছর ধরে, অসাধারণ পূজা মণ্ডপ সেজে ওঠে। কার্নিভাল এর প্লানিং আগে থেকে  করা হয়ে থাকে। পুজো কমিটিগুলি পুলিশকে অনেক সাহায্য করেছে।

যাদের ভুল ধরার  স্বভাব তারা ধরবেই। কুৎসার জবাব বাংলার মানুষ দিয়েছে উৎসবের মধ্যে দিয়ে। দুর্গাপুজো থেকে প্রতিটা পুজো শান্তিপূর্ণ হচ্ছে। বড়দিন আসছে। প্রশাসন ও পুলিশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে আছে। সারা পৃথিবীর মানুষ আসেন। তারা পুজো দেখে ফিরেছেন আনন্দ নিয়ে। দুর্গাপুজো আগামী বছর আরও ভালো ভাবে হোক শান্তিপূর্ণ ভাবে হোক। উৎসবই  উৎসব কে পাল্লা দেবে।

ছট পূজা শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটেছে; গঙ্গাসাগর আসছে। গঙ্গাসাগরে ২০ লক্ষ মানুষ আসেন এবং তা সুষ্ঠভাবে যাতে মেটে তা প্রশাসনের নিশ্চিত করে। প্লেন ,ট্রেন, রোড প্রতিটি যোগাযোগ সুষ্ঠভাবে চালনা করে পুলিশ ও প্রশাসন। কুম্ভ মেলার মত গঙ্গাসাগরের লোহার  ব্রিজের উল্লেখ করেন। আগে যে গঙ্গাসাগর ছিল আজ তা সম্পূর্ণ উন্নত। দক্ষিনেশ্বর ঘাট, বালির ঘাট, রানী রাসমনি ঘাট – সব সুন্দর করে বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও স্কাইওয়াক করে দেওয়া হয়েছে।

তারাপীঠের কি অবস্থা ছিল? নতুন করে করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত কিছু। তারাপীঠে গেট হয়েছে, পুকুর উন্নয়ন করা হয়েছে। শশ্মান উন্নয়ন করা হচ্ছে। পুরো যে ড্রেনের সিস্টেম ছিল তা সংস্কার করা হচ্ছে। বীরভূমের কঙ্কালিতলা মন্দির চত্ত্বর সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। এইরকম ভাবে তারকেশ্বরও করে দেওয়া হচ্ছে। ফুরফুরা শরীফকেও করে দেওয়া হয়েছে। পাথরচাঁপারি সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এমনকি গুরুদ্বার, গির্জাকেও বলি তোমাদেরও যদি কিছু করতে হয় বলবে আমরা করে দেব।

আমরা প্রায় দুই হাজার করবস্থানকে বাঁধিয়ে দিয়েছি। আমরা সমস্ত শশ্মান ঘাটও বাঁধিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতিমধ্যেই প্রায় দুই হাজার শশ্মানঘাট বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে গ্রাম বাংলায়। কলকাতার কেওড়াতলা শশ্মানে আগে মৃতদেহ নিয়ে গেলে একটু জলও পাওয়া যেতনা, একটু বসার জায়গাও পাওয়া যেতনা। আমরা সাংসদ তহবিল থেকে প্রথম পানীয় জল ও বসার জায়গা করে দিয়েছিলাম। নিমতলা শশ্মানকেও আমরা পরিবর্তন করেছি।

অনেক মানুষ আছে যাদের পরিবারে কেউ মারা গেলে দাহ করার পয়সা ছিল না। আমি নিজে গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে এগুলো দেখেছি। আমি নানুরে  দেখেছিলাম মারা যাওয়ার পর একটা সাদা কাপড় কেনার পয়সা ছিল না। আমি নিজে কাফন কেনার টাকা দিয়েছিলাম। তাই আমি নিজে একটা সিস্টেম করেছি। মারা যাওয়ার পর যাদের দাহ করতে ও কবরস্ত করতে কষ্ট হবে সরকার তাদের দুই হাজার টাকা করে দেবে। মেয়েদের বিয়েতে পঁচিশ হাজার টাকা করে দিচ্ছি রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে। কন্যাশ্রী এখন সবাইকে করে দেওয়া হয়েছে, এখন আর কোনোও পার্থক্য নেই। এখন আর কোনও আর্থিক সীমা নেই; সবাই পাবে।

সাইকেল সবাই পায়, কন্যাশ্রী সবাই পায়, সবুজশ্রী সবাই পায়, সমব্যাথী সবাই পায়। শিক্ষাশ্রী যেমন তপশীলিদের জন্য আছে, সংখ্যালঘুদের জন্যও আলাদা স্কলারশিপ আছে। তেমনি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া দের জন্যও আমরা স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ করে দিয়েছি। বাংলার প্রায় নয় কোটি মানুষ দু-টাকা কেজি চাল পায়।

আমি কৃষকদের নিয়ে খুশি। আমার কৃষক ভাই বোনেরা সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করে বাংলায়। কেউ কেউ ভাবছে সারা ভারতবর্ষে ২০২২য়ে কৃষকদের আয় দ্বিগুন করবেন কিন্তু বাংলা ইতিমধ্যেই তা তিনগুন করে দিয়েছে। আজকে ঝড়ে বাড়ি ভেঙে পড়ে গেলেও সরকার তাদের সাহায্য করে। সিপিএমের জমানায় যে দেনা হয়ে গিয়েছে, তার জন্য প্রতি বছর  ৪৮০০০ কোটি টাকা কেন্দ্র কেটে নিয়ে যায়। এই টাকাটা কেটে নেওয়ার পরেও বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে থাকি সরকারি হাসপাতালগুলিতে। এই ছ’বছরে ৪৩ টা নতুন হাসপাতাল হয়েছে, ২৯ টি শয্যা তৈরি হয়েছে, আইসিসিইউ, এসটিইউ, সিসিইউ , বাচ্চাদের জন্য পৃথক বিভাগ তৈরি হয়েছে। আগে কত ছিল প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার? ৬৭ % থেকে বেড়ে এই ৬-৭ বছরে এই হার হয়েছে ৯৬%। এটা মুখের কথা নয়। এবং কোনও মা যদি প্রসবের পর এক বছর সরকারী গাড়ি পাঠাতে বলে তাহলে ‘মাতৃযান’ পাঠানো হয়, বাচ্চা-মা কে নিয়ে এসে চিকিৎসা করানো হয়।

একটি বাচ্চা জন্মালেই একটি গাছ দেওয়া হয় – এটা সবুজশ্রী প্রকল্প। বাচ্চাটি যখন ১৮- বছরে পড়বে তখন গাছটির মূল্য হবে ২ লক্ষ টাকা আনুমানিক। এছাড়াও সে শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, সবুজশ্রী সব পাবে সমান্তরাল ভাবে তার এই জীবনচক্র চালানোর জন্য। আগে যেখানে ,ক্যাজুয়াল ওয়ার্কাররা কেঁদে কেঁদে বেড়াত, জানত না কতদিন অবধি তাঁর চাকরি রয়েছে, আমরা তাদের ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরীর সময়সীমা করে দিয়েছি। আগে চাকরীতে সাধারণের জন্য চাকরির বয়সসীমা ছিল ৩৩ – ৩৪ বছর পর্যন্ত। এখন সেই সময়সীমা আমরা বাড়িয়ে করে দিয়েছি ৪০ বছর পর্যন্ত; সিডিউল কাস্ট ও ওবিসিদের জন্য ৪৩ এবং আদিবাসীদের জন্য ৪৫। প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা মানুষদের জন্য কাজ করছি।

বাংলায় কিছু সংবাদমাধ্যম আছে যারা বাংলার সুনাম সহ্য করতে পারে না। আমার দু-লক্ষ লোকশিল্পী রয়েছে, আপনারা ভাবতে পেরেছেন? তারা প্রত্যেকে ১০০০ টাকা করে পায়। এছাড়াও সরকারের বিজ্ঞাপন করা হয় ওদের দিয়ে। যাতে মাসে ৫০০০-৬০০০ করে পায়। আজ যাত্রা শিল্পী থেকে টেলিতে কাজ করা টেকনিশিয়ানরা বীমা, স্বাস্থ্যসাথী সব পাচ্ছে। দেনা শোধ করেও এগুলো আমরা করছি। প্রথম বছর অর্থাৎ ২০১১ সালে ২৫০০০ কোটি টাকা, তার পরের বছর ২৮০০০ কোটি টাকা তার পরের বছর ৩০০০০ কোটি টাকা যত দিন বাড়ছে তত আমরা শোধ করছি। এরপর হয়তো ৫০০০০ কোটি টাকা কেটে নিয়ে যাবে। এত কম সময়ে এত পরিকাঠামো কেউ করতে পারেনি। আগামী দিনও আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে; আমরা বাংলাটাকে পুরো সাজিয়ে দেব। যতটা পারা যায় চেষ্টা করা হয়েছে।

ক্লাবগুলোকে আমি অনুরোধ করবো আপনারা অনেক করেন। এই যে রাস্তাগুলো রং করে দিচ্ছি, হঠাৎ থুথু ফেলে দিয়ে চলে গেল, পানের পিক পেয়ে চলে গেল, পুরো নোংরা করে দিচ্ছে। সবাই করে না, হয়তো কেউ কেউ করে ,আপনারা নিজেরা একটু নজরে রাখবেন এবং দরকার হলে একটু প্রচারও করবেন। স্কাইওয়াকটা এত ভালো করেকরে দিলাম পরেরদিনই নাকি পানের পিক ফেলেছে। ট্রাস্ট এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নোংরা করবে তাকেই পরিষ্কার করতে হবে আর তাকেই ওখানে ৫ হাজার টাকা ফাইনও দিতে হবে।

আমি ক্লাবগুলোকে বলবো যে আপনারা এত বড় পুজো করতে পারেন, একটু এলাকাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যে উদ্যোগ নিন। মনে রাখবেন কাজ করে কিন্তু রাজ্যগুলো, কেন্দ্রের কোনো কাজ নেই দালালী করা ছাড়া। ৩টি দপ্তর শুধু কেন্দ্রের কাছে থাকা উচিত, একটা এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মিনিস্ট্রি ,একটা ডিফেন্স মিনিস্ট্রি ,একটা ফিনান্স ফিনিস্ট্রি আর হোম মিনিস্ট্রি যেখানে বর্ডার আছে সেইটুকু পর্যন্ত। আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের হাতে। বর্ডার আমার হাতে নেই ,বর্ডার থেকে চোর ঢুকিয়ে দিলে আমার কিছু করার নেই, ওটা কেন্দ্রের আওতায়। স্বাস্থ্য রাজ্য দেখবে, শিক্ষা রাজ্য দেখবে, ময়লা পরিষ্কার রাজ্য দেখবে, জন্মের ব্যাপারটাও রাজ্য দেখবে, মৃত্যুর ব্যাপারটাও রাজ্য দেখবে। ওরা দাঙ্গা করবে আমাকে থামাতে হবে। ওরা আগুন লাগাবে। আমাকে থামাতে হবে। অর্থাৎ রাজ্যের কাজটা সবচেয়ে বেশি। রাজ্য সরকারও মনে রাখবেন নির্বাচিত সরকার। প্রত্যেকের কাজ ভাগ করা আছে। কেউ কারও কাজে হস্তক্ষেপ করবে না – এটাই আমাদের সাংবিধানিক রীতি। এটাই যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো।

এই শুভদিনে যে আপনারা সকলে এসেছেন তার জন্য ধন্যবাদ।