Latest News

March 29, 2026

যতই করো হামলা, তৃণমূল জিতবে বাংলা : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

যতই করো হামলা, তৃণমূল জিতবে বাংলা : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ বাঁকুড়ার রাইপুরে জনসভা করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ওনার বক্তব্যের কিছু অংশ:

প্রত্যেক বার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের রেজ়াল্ট বেরোলেই আমি দেখি বাঁকুড়ার ছেলেমেয়েরা সকলের আগে। কল্পনা করতে পারবেন না। কলকাতায় যত ডাক্তার আছেন, বেশির ভাগের বাঁকুড়ায় একটা না একটা ঘর আছে। বাঁকুড়া জেলা শিক্ষা, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। মা সারদার জন্মস্থান জয়রামবাটি। বিষ্ণুপুরের সঙ্গীত ঘরানা রয়েছে। মুকুটমণিপুর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, জয়রামবাটি কামারপুকুর ডেভেলমেন্ট বোর্ড আমাদের সরকার তৈরি করেছে।

বাঁকুড়ার রাস্তাঘাট আগে কী অবস্থায় ছিল, অনেক রাস্তাঘাট আমরা তৈরি করেছি। অনেক ব্রিজও তৈরি করেছি। অনেক জলপ্রকল্প তৈরি করেছি। অনেক অনুর্বর জমিকে উর্বর করেছি। আগামী দিনে আরও কাজ আমরা করব।

আমাদের আমলে বালুচরি শাড়ি জিআই ট্যাগ পেল। আমি একদিন বালুচরি শাড়ি হাতে নিলাম। দেখলাম খড়খড়ে। আমি তখন তাঁতিদের বললাম, এটাকে হালকা করো। এখনকার মহিলারা একটু হালকা হালকা, একটু নরম জিনিস পরতে ভালবাসেন। এখন দেখবেন বালুচরিটা নরম হয়ে গিয়েছে অনেক। ছেলেদের পাঞ্জাবিও পাওয়া যায়। বিশ্ববাংলার দোকানে বালুচরি শাড়ি আমরা সারা পৃথিবীর যেখানেই যাই, সঙ্গে করে নিয়ে যাই। বাঁকুড়ার ডোকরার কাজ— মা দুর্গা, ঘোড়া, আদিবাসী নৃত্যের কাজগুলি আমরা সঙ্গে করে নিয়ে যাই।

জঙ্গলমহলে একসময়ে সারেঙ্গা, বিনপুর, সাঁকরাইল, নয়াগ্রাম থেকে শুরু করে ঝিলিমিলি, বেলপাহাড়ি, মুকুটমণিপুর, রানিবাঁধ, খাতরা হয়ে সব বন্দুকের নল ঘুরে বেড়াত। ক্ষমতায় এসে প্রথম আমরা যেটা করেছিলাম— জঙ্গলমহলের মাটিতে রক্ত নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম আমরা। তাই আজ আপনারা মনের শান্তিতে বাড়িতে ঘুমোতে পারেন।

আগের বার বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভান্ডার করব। করেছিলাম? এখন তা বেড়ে ১৫০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। এসসি, এসটি-রা পান ১৭০০ টাকা করে। যদি এটা পাঁচ বছরে হিসাব করেন, তা হলে এটা কত হাজার টাকায় দাঁড়ায়? আর বিজেপি ভোটের আগে বলে— আমরা আপনাদের অনেক টাকা দেব। বিহারে কী করেছিল জানেন? ভোট নেওয়ার ছলনায় মেয়েদের অ্যাকাউন্টে ৮০০০ টাকা দিল। যেই জিতে গেল, বুলডোজ়ার চালিয়ে দিল। বলল, টাকা ফেরত দাও। আমাদের টাকা কিন্তু ফেরত দিতে হয় না। ওটা আপনার টাকা। আপনার অধিকার। যখন নোটবন্দি হয়েছিল, তখন এটা আমার প্রথম মনে হয়েছিল। মেয়েরা কিছু পয়সা জমিয়ে রাখে ভবিষ্যতে পরিবারের কাজে লাগবে বলে। কিন্তু যখন নোটবন্দি হয়, আপনাদের সব পুরনো টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিতে হয়েছিল। সেই দিন আমার মনে হয়েছিল, সরকারি প্রকল্প করো লক্ষ্মীর ভান্ডার। যাতে মেয়েদের লক্ষ্মীর ভান্ডার মেয়েদের অধিকার দেয়। যত দিন বাঁচবেন, তত দিন পাবেন। এটা আপনার কর্তব্য যে আপনার অধিকারকে রক্ষা করা। আমরা কেউ নই। আমরা নিমিত্ত মাত্র।

বিধবা ভাতা আমরা আরও বাড়াব। আমাদের আগামী সরকার এলে সকলের কাঁচা বাড়িকে পাকা বাড়ি করে দেব। আমি কথা দিলে কথা রাখি, মাথায় রাখবেন। সকলের বাড়িতে পানীয় জলের কল পৌঁছে যাবে।

যুবসাথী ভিক্ষা বা ভাতা নয়। যে বিজেপি মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে, ভাঁওতা। আমি ওদের বলি, ওরে শোন, তোরা তো কোনওদিন সংসার চালাসনি। গ্রামে জন্মাসনি, পা-ও রাখিস না। অনেক গরিব ছেলেমেয়েরা আছে, যারা স্কলারশিপ পেলেও হাতখরচা নেই। কেউ মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে যাচ্ছে, তার হাতখরচা নেই। এটা তাদের পকেটমানির জন্য দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা নিজেদের খরচ নিজেরা চালিয়ে নিতে পারে।

বেলপাহাড়িতে আমি একবার লুকিয়ে স্কুটারে করে গিয়েছিলাম গ্রামে। গিয়ে দেখেছিলাম, আদিবাসী ভাইবোনেরা কালো কালো কী যেন রান্না করছে কাঠ জ্বেলে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কী। বলল, আমরা সপ্তাহ দু’দিন ভাত খেতে পাই। পাঁচ দিন পাই না। আমি বললাম ওটা কী ফোটাচ্ছ? বলল, ওটা তো পিঁপড়ে। যে পিঁপড়ে আমরা গাছ থেকে তুলে আনি, গাছের শিকড় দিয়ে ওটা ফোটাই। ওটা খেয়ে থাকি। আমি ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নিই, আগে খাদ্য তুলে দিতে হবে মানুষের হাতে। প্রথমে আদিবাসী ভাইবোনেরা পেত। এখন সবাই পায়। প্রায় ৯৫ শতাংশ লোক বিনাপয়সায় রেশন পায় রাজ্যে। বিশ্বসেরা খাদ্যসাথী প্রোগ্রাম।

অনেকের অ্যাক্সিডেন্টে হাত-পা কেটে যায়। তখন তাঁদের সারাজীবন কাঠের পা, কাঠের হাত নিয়ে চলতে হয়। যে পারে না, তাঁদের খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে হয়। আমরা পিজি-তে একটা ‘বোন ব্যাঙ্ক’ তৈরি করছি। ওখানে আমরা হাড়গুলো জমা করব। যদি কারও পায়ে, হাতে সমস্যা হয়, সেই হাড় দিয়ে আমরা সেট করে দেব।

মানুষকে যে অপমান করা হয়েছে, মানুষ ভোটের বাক্সে তার বদলা নেবে। এটা আমরা বিশ্বাস করি। যতই করো চক্রান্ত, সবটাই হবে ব্যর্থ। যতই করো হামলা, তৃণমূল জিতবে বাংলা। বিজেপি তুমি হ্যাংলা। তাই মানুষের ভোট বাদ দিয়ে জেতার চেষ্টা করছো