Latest News

March 6, 2026

৬০ লক্ষ মানুষ যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকে তাহলে দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকবে না? : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

৬০ লক্ষ মানুষ যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকে তাহলে দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকবে না? : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটারদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে এই ধর্না। ধর্নামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কিছু অংশ :

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে পথে নেমেছি।

সকলকে প্রণাম জানাই। রোজা রেখেছেন, রোজাদারদের, সকল ধর্মের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অপরিকল্পিত এসআইআর। বিচারব্যবস্থার একাংশ, ইডি সিবিআই, সংবাদ মাধ্যম। সবার উপরে চ্যালেঞ্জ থাকল। মানুষ ভোট দেবে, এই লড়াই সেই লড়াই। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ। নাম কেটেছে ৫৮ লক্ষের। এক কোটির বেশি মানুষ! ১ কোটি ২৪ লক্ষ। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার তিন মাস আগে থেকে বিজেপি নেতারা গলা ফাটিয়ে বলেছিল। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না।

বিবেচনাধীন নিয়ে আপত্তি নেই। ৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি বিবেচনাধীন হয়ে থাকে তা হলে দেশের প্রধানমন্ত্রীও বিবেচনাধীন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র নেত্রী যিনি সাধারণ নাগরিক হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে লড়তে গিয়েছেন। আর কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেশের মানুষ সওয়াল করতে দেখেননি।

অপরিকল্পিত এসআইআরের জন্য ১৭২ জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। মাটির জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের বলিদান, প্রাণ আমরা বৃথা যেতে দেব না। এবার নো ভোট টু বিজেপি নয়, বয়কট বলতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করুন। ভারতবাসীর পোড়া কপাল। দেশ কার থেকে পেট্রোল কিনবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

২০২১ সালে কিছু সামাজিক সংগঠন বলেছিল ‘নো ভোট টু বিজেপি।’ আমরা এই মঞ্চে ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ বার বিজেপিকে বয়কট করতে হবে। বিজেপিকে সামাজিক ভাবে বয়কট করুন। যারা বিজেপির হয়ে গলা ফাটাত, তারা যুবশ্রীর ফর্ম পূরণ করছেন। দিলে মমতাদি-ই দেবে। আমায় নিয়ে খুব জ্বালা। আজ অমিত শাহ এলে তাঁর ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি থাকি।

আমি ছোট একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশে অসম, একপাশে ত্রিপুরা, বিহার ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট। সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। মোদীর একটা সরকার দিয়ে দেখাক! যদি দিতে পারে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব। যত মহিলা আছে সবাইকে দিয়ে দেখাক। বাইরের ভোটার নিয়ে এসে নাম লিস্টে তুলে ভেবেছিল ভোটে জিতবে।

সৌরভ যদি দালাল হন, ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীগ ঘোষদের বগলদাবা করে বেহালায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেয়ে এসেছিলেন কেন অমিত শাহ? বাঙালি তো, তাই উনি মাথানত করেননি। চুরি করে ভোটে জেতার জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ১ কোটি মানুষেরক নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। ধরে ফেলেছেন বিএলএ-২-রা। এসআইআর নিয়ে যা হচ্ছে, তার জন্য ‘ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মানসিকতার মতো লড়তে হবে।

আমাদের বক্তব্য খুব সহজ, ৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকে তাহলে নরেন্দ্র মোদির চেয়ারটাও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকবে। এই ৬০ লক্ষ মানুষ ২০২৪ সালে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে। এই ৬০ লক্ষ মানুষ ভারতবর্ষের মন্ত্রিসভায় কে কোথায় বসবেন ঠিক করেছে। এই ৬০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে দেশের রাষ্ট্রপতি কে হবেন উপরাষ্ট্রপতি কে হবেন ঠিক করেছে। যাদের নির্বাচিত করেছে সেই সাংসদরা ভোট দিয়েছেন। এই ৬০ লক্ষ মানুষ যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকে তাহলে দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকবে না? যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন না থাকে তাহলে এই ৬০ লক্ষ মানুষকে তাদের ভোটাধিকার দিতে হবে, এই আমাদের দাবি।