Latest News

March 28, 2026

আমার আসল শক্তি বাংলার মানুষ : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আমার আসল শক্তি বাংলার মানুষ : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ রানীগঞ্জের খান্দরা ফুটবল ময়দানে জনসভা করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ওনার বক্তব্যের কিছু অংশ:

অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে স্কুল, কলেজ, রাস্তা এবং ব্রিজ – উন্নয়নের জন্য আমরা অনেক কাজ করেছি।

রানীগঞ্জ ধসপ্রবণ এলাকা। ৬,০০০ ফ্ল্যাট তৈরির জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। আরও ৪,০০০ ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। মানুষের জীবন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা যদি সরে আসেন, সরকার আপনাদের ২টি করে ফ্ল্যাট দেবে। স্থানান্তরের খরচও সরকার বহন করবে। আমরা ১০ লক্ষ টাকার কথা ভেবেছি, যদি অঙ্কটা বাড়ে তাতেও সমস্যা নেই, কারণ টাকার চেয়ে জীবনের দাম বেশি। আমরা চাই না মানুষ ধসের কবলে পড়ুক। আমরা আপনাদের জোর করছি না, অনুরোধ করছি।

বিজেপি পরিচালিত ‘ভ্যানিশ কমিশন’ মানুষকে অত্যাচার ও হেনস্থা করছে। বাংলার ভৌগলিক অবস্থান ভালো বোঝেন, এমন প্রায় ১০০ জন আধিকারিককে কেরল এবং তামিলনাড়ু পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে যাতে বিজেপি বাংলায় টাকা, অস্ত্র এবং ড্রাগ ঢুকিয়ে হিংসা ছড়াতে পারে। আমি নতুন নিযুক্ত আধিকারিকদের অনুরোধ করব মানুষের খেয়াল রাখতে।

আমরাও রামনবমী এবং নবরাত্রি পালন করি যেমন আমরা দুর্গাপূজা, বড়দিন এবং ঈদ পালন করি। আমরা সমস্ত ধর্ম, সম্প্রদায়, জাতি ও বর্ণের উৎসব পালন করি। আমরা বাউরি এবং বাগদি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডও গঠন করেছি। আমরা চাই প্রান্তিক মানুষ এগিয়ে আসুক। ধর্ম মানেই মানবিকতা। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন যে, আপনি একটি আঙুল দিয়ে কখনওই মুঠো তৈরি করতে পারবেন না। আপনার পাঁচটি আঙুলই প্রয়োজন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ডান হাত ছিলেন শাহনওয়াজ খান। নেতাজি কি ভুল করেছিলেন? একদিকে আপনাদের বোলপুর, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, অন্যদিকে চুরুলিয়া গ্রাম যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম জন্মেছিলেন। আমি সাম্প্রদায়িক লোকেদের অনুরোধ করব আমাদের সাহিত্য পড়তে। তবেই তারা বুঝবেন যে কাজী নজরুল ইসলাম অসংখ্য শ্যামাসঙ্গীতও লিখেছিলেন। আমি শুনছি যে, কিছু বুথে যেখানে ৫০০ ভোটার রয়েছে, সেখানে ৪০০ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা কি রসিকতা হচ্ছে? বিজেপি সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কোথায়? তারা বলেছিল ১.২০ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে। প্রথমত, তারা ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। সেই অধ্যায় আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ। এরপর, তারা logical discrepancy-র অজুহাতে আরও ৬০ লক্ষ নাম বিচারবিভাগীয় বিবেচনাধীন করে রেখেছে। বিয়ের পর পদবি ও ঠিকানা বদলে যাওয়ায় বিবাহিত মহিলাদের নাম logical discrepancy-র কারণে বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। অথচ, নিজের নাম লেখা আমার নিজস্ব অধিকার। আপনারা এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। বিচারকদের নাম বিবেচনাধীনের লিস্টে ঢোকাতে আপনাদের কি লজ্জা করে না? আসলে ওরা নির্লজ্জ।

রঘুনাথগঞ্জে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরাও রামনবমী পালন করি এবং মিছিল বের করি। কিন্তু আমরা কখনও হিংসা ছড়াই না বা দাঙ্গা করি না। গত পরশু আপনারা সিউড়িতে মিছিলে বন্দুক নিয়ে ঘুরেছেন। আমি জানি না প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দয়া করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য আমাকে দোষ দেবেন না। আমার হাতে আর কোনও ক্ষমতা নেই, কারণ সমস্ত আধিকারিকদের বদলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি বেছে বেছে আধিকারিক বসিয়েছে।

প্রশাসনিক ক্ষমতা আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপনারা [বিজেপি] রঘুনাথগঞ্জে দাঙ্গা বাঁধিয়েছেন। আমার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার প্রধান কারণই হল, এই ধরনের হিংসা তৈরি করা। আপনারা দোকান ও বাড়িঘর লুঠতরাজ এবং ভাঙচুর করেছেন।

আমি কোনও মন্দির ধ্বংস করা সমর্থন করি না। কাশী বিশ্বনাথ করিডোরে কত মন্দির ভাঙা হয়েছে? তারা দিল্লিতে একটি কালী মন্দিরও ভেঙেছে। জগন্নাথ ধাম তৈরি করার জন্য আমাকে রোজ প্রশ্ন করা হয়। যেন আমি কোনও পাপ করেছি। তাদের জিজ্ঞেস করুন, বাড়িঘর ভাঙার অনুমতি কে দিয়েছে? রঘুনাথগঞ্জে দাঙ্গা বাধানোর অনুমতি কে দিয়েছে? আমরা কোনও দাঙ্গাবাজকে ছাড়ব না। মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।

আমি বেহালার দোকানদারদের কাছেও ক্ষমা চাইছি। ফিরহাদ হাকিম মেয়র হওয়া সত্ত্বেও, নতুন কমিশনার বিজেপির মনোনীত। আমি তাকে অনুরোধ করব, আগুন নিয়ে খেলবেন না। বেহালায় বুলডোজার দিয়ে বেশ কিছু দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমাকে সময় দিন, যে দোকানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমি সেগুলো আবার তৈরি করে দেব। এই পদক্ষেপ আমাদের নির্দেশে হয়নি। আমি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচার করছে। তারা চায় না বাংলা বলে কোনও রাজ্যের অস্তিত্ব থাকুক।

তারা যদি কখনও ক্ষমতায় আসে, তবে সবাইকে তাড়িয়ে দেবে। সবার উপর বুলডোজার চালাবে। বিহারে নির্বাচনের আগে তারা মহিলাদের ৮,০০০ টাকা দিয়েছিল এবং ভোটের পর বুলডোজার নিয়ে ফিরে এসেছে। এখন তারা সেই টাকাও ফেরত চাইছে। আমার মায়েরা ও বোনেরা কি ভোটের আগে একবারের আর্থিক সাহায্য চান নাকি সারাজীবন ধরে সহায়তা পেতে চান? তারা মিথ্যে ছড়ায়। আমরা কাজ করে দেখাই। সবাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পায়।

বিজেপি আমাদের প্রকল্পগুলো নকল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আপনার যদি ফোন, টিভি, পাকা বাড়ি বা স্কুটার থাকে, তবে আপনি সুবিধা পাবেন না। আমাদের প্রকল্পগুলো সবার জন্য। সবাই সুবিধা পায়। আমাদের কাছে সবাই সমান। আমি কেন আপনাদের [বিজেপি] আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করতে দেব? আমাদের অর্ধেক খরচ বহন করতে হওয়া সত্ত্বেও কতজন মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হত? আয়ুষ্মান ভারতের আগেই আমাদের স্বাস্থ্যসাথী ছিল, যেখানে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা দেওয়া হয়। ওরা শুধু ফাঁপা প্রতিশ্রুতি দেয়। ওরা লুঠ করে এবং মিথ্যে ছড়ায়।

দেউচা-পাঁচামিতে ১ লক্ষ যুবক চাকরি পাবে। ২২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ইকোনমিক করিডোর তৈরি হচ্ছে। এখানে প্রচুর শিল্প গড়ে উঠছে। কিন্তু চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভের অবস্থা কী? এটা টিকে থাকার লড়াই করছে। ইসিএল ও বিসিসিএল-এ কোনও আধুনিকীকরণ হয়নি। বেঙ্গল প্যাকেজের অধীনে IISCO-র আধুনিকীকরণ আমরাই করেছি।

উর্দু, গুরুমুখী, নেপালি বা অলচিকি— যাই হোক না কেন, আমরা অনেক ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। আমরা ভেদাভেদ করি না।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কখনও বন্ধ হবে না। আমি চাই মহিলারা স্বনির্ভর হোক। প্রতিটি জেলায় শপিং মল তৈরি করা হচ্ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের পণ্য বিক্রির জন্য সেখানে দু’টি ফ্লোর বরাদ্দ করা হবে। ১২ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। আইসিডিএস এবং আশা কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তারা মা ও শিশুর যত্ন নেন। মনে রাখবেন, আমাদের শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নেই। আপনার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমাদের স্বাস্থ্যসাথীও আছে। আমরা ‘দয়ারে স্বাস্থ্য’ চালু করব। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে আপনার দোরগোড়ায় নিয়ে আসব। ক্যাম্প করা হবে।

যুবকরা যতক্ষণ চাকরি না পাচ্ছে, ততক্ষণ আমরা ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এটা বেকার ভাতা নয়। এটা তাদের পড়াশোনার জন্য হাতখরচ দেওয়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, তিনি প্রতি বছর ২ কোটি চাকরি দেবেন। বাস্তবে দেশে বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলায় আমরা ২ কোটি চাকরি দিয়েছি। বাংলায় বেকারত্ব ৪০% কমেছে। বাংলায় অনেক শিল্প গড়ে উঠছে। সবাই সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। আমরা ১.৭৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছি। আমরা বিনামূল্যে রেশন দিই। প্রধানমন্ত্রী মোদী শুধু প্রচার করেন। তিনি খরচের ২০%-ও বহন করেন না। আমরা সবথেকে বেশি খরচ বহন করি। আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা বিনামূল্যে খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা দিই। যাদের ১ একরের বেশি জমি আছে সেই কৃষকদের আমরা ১০,০০০ টাকা দিই। যাদের ১ কাঠা জমিও আছে, তারা ৪০০০ টাকা পান। ভূমিহীন কৃষকরাও আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। আমরা পরিযায়ী শ্রমিকদের ৫,০০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করছি এবং ১০০ দিনের কাজেও সুযোগ দিচ্ছি।

১০০ দিনের কাজ হোক, গ্রামীণ সড়ক যোজনা বা আবাসন প্রকল্প— গত ৫ বছর ধরে সব ফান্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপনারা কি আমাদের আটকাতে পেরেছেন? আমাদের তহবিল থেকে আমরা ১.২০ লক্ষ কিমি রাস্তা তৈরি করেছি। আমরা এক কোটিরও বেশি পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরি করেছি। যে ক’টি কাঁচা বাড়ি বাকি আছে, আমরা ক্ষমতায় ফিরলে সেগুলোকে পাকা বাড়িতে রূপান্তরিত করা হবে। আমাদের সরকারের চতুর্থ মেয়াদে আমরা নিশ্চিত করব যাতে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল প্রতিটি ঘরে পৌঁছায়।

বাংলা হল বাণিজ্যের গন্তব্য। রঘুনাথপুরে ৭২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তারপর জঙ্গল সুন্দরী প্রকল্প আছে। শেল (Shell) ২২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। আমি ডিভিসি-কে ১০,০০০ একর জমি দিয়েছি। সেখানে একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি হবে। এই অঞ্চলের মানুষ চাকরি পাবে। যারা কয়লা খনি চালাতে অক্ষম, তাদের উচিত সেগুলো রাজ্য সরকারকে হস্তান্তর করা। আমরা সেগুলো সঠিকভাবে চালাব এবং কর্মীদের খেয়াল রাখব। অবৈধ খনিগুলো বিজেপির তহবিল ভরাতে সাহায্য করে। তারপর তারা তৃণমূল কংগ্রেসকে চোর বলে। বিজেপি হল আসল ডাকাত ও দাঙ্গাবাজ।

তারা ভোটের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। বাংলায় যুগ যুগ ধরে বাস করার পর কি আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা এই দেশের নাগরিক? SIR-এর কারণে ২২০ জন মারা গেছেন। তাদের আত্মা ব্যালট বক্স রক্ষা করবে। আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছি। বলা হয়েছিল ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। তবুও আজ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বুঝতে পারল না কার নাম রাখা হয়েছে আর কার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, আমাদের ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে হবে। আমরা তাদের নিখরচায় আইনি সহায়তা দেব। তারা [বিজেপি] কেবল প্রতিটি ভোটারের নাম বাদ দিতে চায়, যাতে মাত্র একটি দল টিকে থাকে।

মনে রাখবেন, নোটবন্দির সময় তারা আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। আধার কার্ডের জন্য আপনারা ১,০০০ টাকা দিয়েছিলেন। অথচ এখন তারা বলছে যে আধার কার্ড আইনি নথি হিসেবে গ্রাহ্য হবে না। তারা যে ১,০০০ টাকা নিয়েছিল তা ফেরত দেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, SIR আপনাদের রাজনৈতিক মৃত্যু নিশ্চিত করবে। আপনারা দেশ থেকেও ক্ষমতা হারাবেন।

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৪০০ টাকা। আপনাদের রাজত্বে তা ১,১০০ টাকা হয়েছে। একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এখন ২,১০০ টাকা। কতবার আপনারা পেট্রোল, ডিজেল এবং রেলের টিকিটের দাম বাড়িয়েছেন? তারা রেল, সেল (SAIL), গেইল (GAIL) এবং এলআইসি (LIC) বিক্রি করে দিয়েছে। তারা নিজেদের স্বার্থে দেশ বিক্রি করে দিয়েছে। আমি অন্য সমস্ত বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে আপনাদের দিল্লি থেকেও ক্ষমতাচ্যুত করার লড়াইয়ে নামব।

তারা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে। তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতঙ্গিনী হাজরাকে অপমান করেছে। তারা আমাদের সংস্কৃতি জানে না। দেশের নেতা হওয়া উচিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, গান্ধীজি, আব্দুল কালাম আজাদ এবং বিরসা মুণ্ডার মতো।

আপনারা [নির্বাচন কমিশন] এসআইআর-এর নামে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারেন না। আপনাদের সঠিকভাবে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে। আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রতিটি বৈধ ভোটার ভোটের অধিকার পায়। এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে পরিবারের একজনের নাম ভোটার তালিকায় আছে অথচ অন্য চারজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আজ এটি একটি সম্প্রদায়ের সাথে হয়েছে, কাল অন্য সম্প্রদায়ের সাথে হবে। তারা NRC চালু করবে এবং মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। আমি তা হতে দেব না।

আপনারা আমার থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন। আপনারা কি অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে চান? মনে রাখবেন, আমার আসল শক্তি বাংলার মানুষ। বিজেপি প্রতিদিন বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। যেহেতু আপনারা বাংলাকে টার্গেট করেছেন, আমরাও দিল্লিকে টার্গেট করেছি।

আমার মায়েরা ও বোনেরা, আপনাদের বলে রাখি যে, তারা কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করবে। তারা ভোটে কারচুপি করার চেষ্টা করবে। তারা মানুষকে কেনার চেষ্টা করবে। সেই টাকা অশুদ্ধ এবং পাপের। কোনও ভুল করবেন না। তারা প্রকাশ্যেই মানুষকে ৫০০ টাকার নোট দিচ্ছে।

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মাছ, মাংস ও ডিম খাওয়া নিষিদ্ধ। এনকাউন্টারের নামে মানুষকে মারা হয়। প্রচুর সংখ্যায় বহিরাগত এসেছে। আমি প্রশাসনকে নাকা চেকিংয়ের ওপর জোর দিতে বলব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে টাকা আসে। আমার কাছে অনেক নথি আছে। অফিসারদের বদলে দেওয়ার কি এটাই কারণ? আমি এখনও বিশ্বাস করি যারা প্রশাসনে আছেন তারা পক্ষপাতদুষ্ট নন।

আমি মহিলাদের বলতে চাই যে ভোটের দিন এবং গণনার দিন ভ্যানিশ ওয়াশিং কমিশন মিথ্যে ছড়াবে। তারা বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। ইভিএম রক্ষা করুন। আপনারা আমার সহযোদ্ধা। নিশ্চিত করুন যাতে তারা মেশিন হ্যাক করতে বা কারচুপি করতে না পারে। ত্রুটিপূর্ণ মেশিনে ভোট হতে দেবেন না। আপনাদের মাতঙ্গিনী হাজরার মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিন।

আমি আপনাদের আমাদের কুলটির প্রার্থী অভিজিৎ ঘটককে সমর্থন করার অনুরোধ জানাব। আমি জামুড়িয়ার প্রার্থী হরেরাম সিংকে অনুরোধ করব যেন তার ছেলে লাল বাতি লাগানো গাড়ি ব্যবহার না করে। আমার সাথে আছেন আসানসোল উত্তরের প্রার্থী মলয় ঘটক। এছাড়া আছেন তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধান উপাধ্যায়, কবি দত্ত, প্রদীপ মজুমদার, কালোবরণ মন্ডল এবং নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তারা যথাক্রমে আসানসোল দক্ষিণ, বারাবনি, দুর্গাপুর পশ্চিম, দুর্গাপুর পূর্ব, রানীগঞ্জ এবং পাণ্ডবেশ্বর থেকে লড়াই করছেন।