March 7, 2026
লড়তে পারে একমাত্র বাংলা, আমরা প্রমাণ করে দেব : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ দ্বিতীয় দিনে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটারদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে এই ধর্না। ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কিছু অংশ :
বিজেপি সাবধান। ভোট কেটে বাংলাকে করা যাবে না বিভাজন। বাংলা লড়াই করছে, করবে, করতে জানে। বেশি কিছু করলে তোমার দিল্লি সরকার ফেলে দেব, যাও!
১ এপ্রিল থেকে বলেছিলাম যুবসাথীর টাকা অ্যাকাউন্টে যাবে। কাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস রয়েছে। তার উপহার হিসাবে ১ এপ্রিলের দিন পরিবর্তন করে, আজ, শনিবার থেকেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি ছেলেমেয়ে দরখাস্ত করেছেন, যাঁরা অন্য কোনও সাহায্য নেন না। বৃত্তিকে ধরছি না, পড়াশোনার জন্য সেই টাকা তাঁদের প্রাপ্য।
৪০ লক্ষ ছেলে-মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের সুবিধা রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা চাইলে সুযোগ পাবেন। পাটশিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাজ্য এক নম্বরে। বেঙ্গালুরুর থেকেও বেশি মানুষ এখানে কাজ করেন। ২০০টি সংস্থা নতুন করে এসেছে। যারা বাংলাকে নিয়ে বদনাম করে, তাদের জানা উচিত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আমরা দেশে এক নম্বরে। চাকরি করে দেড় কোটি মানুষ। লেদার হাবে সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ কাজ করেন।
আমরা জিআই ট্যাগ পেয়েছি। বর্ধমানে সীতাভোগ, মিহিদানা, বিষ্ণুপুরের বালুচরি, ডোকরা থেকে জয়নগরের মোয়া, দক্ষিণ দিনাজপুরের তুলাইপঞ্জি চাল, মুর্শিদাবাদের সিল্ক থেকে অনেক শিল্প রয়েছে, যাতে জিআই ট্যাগ পেয়েছি। অনেক ছেলে-মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। ছ’টি ইকোনমিক করিডর সারা বাংলাকে জুড়বে।
জাতীয় পলিসি করে আমাদের কয়লা নিয়ে চলে যাওয়া হয়। বদনাম দেওয়া হয়। যদিও এটা আমাদের অধীনে নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। সিআইএসএফ দেখে, কোল ইন্ডিয়া দেখে।
দেওচা পচামি হচ্ছে। এক লক্ষ মানুষের চাকরি হবে। ১০০ বছর বিদ্যুতের অভাব হবে না। সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। ৬ লক্ষ কোটি টাকা দেনা আগের সরকারে শোধ করেছি। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ২ লক্ষ কোটি টাকা পাই। ৮ লক্ষ কোটি টাকা বাদ দিয়ে ধনে, জিডিপি, পরিকাঠামো, রাজস্বে উপরে রয়েছি। সব উৎসব পালন হয়।
বাংলা ভাষা দেশ স্বাধীনের অনেক আগে স্বীকৃতি পেয়েছিল। বাংলার অস্তিত্ব, অস্মিতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মেধা, প্রতিভা , চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির। আমি ওদের নাম নিই না। বলছে বাংলা বিহার ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করবে। ওদের ধান্দা বাংলাকে ভাগ করা। বিহারকে করেছে একবার। লুটেপুটে খাওয়া ওদের কাজ।
গত কাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তিন দিন আগে ৪৯ টাকা বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডারের দাম ২১০০ টাকা। ছোট সিলিন্ডার ১০০০ টাকা হয়েছে। ২১ দিন আগে বুক করতে হবে। গ্যাস না থাকলে কার মাথা খেয়ে থাকবেন! এগুলো আগে ভাবা উচিত ছিল না কমরেডদের? ওদের কমরেড বলি। কমরেড শব্দ শ্রদ্ধা করি। বেনামি কমরেডদের নয়।
কেরোসিনও নেই যে স্টোভ জ্বালাবে। বাস্তব জীবনে যা প্রয়োজন, সকলের প্রয়োজন। কেন উপহার নেওয়ার আগে পরিকল্পনা করেননি? জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন! বঙ্গভঙ্গ করার জন্য ভোট কাটার পরিকল্পনা! মানুষ যাতে প্রতিবাদ করেত না পারে, তাই পরিকল্পনা। প্রত্যাঘাত সহ্য করতে হবে। আমরা লেজ গুটিয়ে পালানোর লোক নই। আপনাদের মুখোশ খুলব।
দিনহাটায় ৩৬ হাজার নাম কেটেছে। আমার কেন্দ্রে ৬০ হাজার কেটেছে। সব কেটে নাও, চ্যালেঞ্জ রইল। কাল মিছিল হবে, গ্যাস নাই, রান্না নাই। হাড়ি, কড়াই, হাতা, খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে।
বেচারা নীতীশ কুমার! ভোটের আগে ওবিসি নিয়ে রাজনীতি। ভোটের পরে তুমি হলে দিল্লিবাসী। যে-ই গেছ বিজেপির খপ্পরে, পড়েছ থাপ্পড়ে। দেখলেন তো আনন্দ বোসকে কী ভাবে সরানো হল। ভয় দেখিয়ে।
অধিকার লুট করছে দেখুন, ভোটাধিকার লুট করছে, এই লুটেরাদের ক্ষমা রয়েছে? নোটবন্দি, ভোটবন্দি, গ্যাসবন্দি, সংবিধানবন্দি। লড়তে পারে একমাত্র বাংলা, আমরা প্রমাণ করে দেব।
প্রমাণপত্র নিয়ে এসেছি জনগণের সামনে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য় করছে ওরা। দেখুন, এঁদের সকলের আধার কার্ড রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আধারও একটি নথি হতে পারে। বিজেপির পক্ষপাতদুষ্ট কমিশনের কারণে সব অমান্য করা হচ্ছে। ভোটারদের নাম কেন কাটা হচ্ছে? জবাব দিন।
আপনাদের জবাব দিতেই হবে মানুষকে, সংবিধানকে। আপনারা শুধু বিজেপি-কে সন্তুষ্ট করছেন। ভ্যানিশ কুমার। পক্ষপাতদুষ্ট বিজেপি, ডার্টি, নটি বিজেপি। যারা ভোটারদের নাম ডিলিট করছে, তারাও তা-ই। স্বার্থপর দৈত্যের মতো কাজ করছে।
এরা আমার ভোটার। আমাকে কাটবে! ঘেঁচু করবে। হোঁদল কুতকুত আছে, তিনি বসে বসে কলকাঠি নাড়ছেন। চার মাস ধরে দখল করেছো বাংলা। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে ধনখড়ের মতো বদল করলে আনন্দ বোসকে। আর কত? কত নেবে মানুষের প্রাণ? স্বৈরাচারী, ধ্বংসকারী, হঠকারী। এত মানুষের মৃত্যু, হৃদয়ে মায়া জাগে না! যার নাম কেটেছে, ভাবছে, আমি কি এদেশে থাকতে পারব। আমি পাশে আছে। চিন্তা করবেন না।
বিচারক, বিচারপতিদের অনুরোধ, দয়া করে মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিন। ৫৮ লক্ষ আনম্যাপড। ৬ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম ঢুকেছে। এখন ৪.৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছেন। মহিলা, কৃষক, মতুয়া, রাজবংশী, তফসিলি, সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছেন। নির্বাচনের আগে চাইছে, বিজেপি যাতে জেতে। ওরা জিতবে না।
দিল্লি দূরে নয়। বাংলা রাজি মানুষের স্বার্থে যে কোনও লড়াই করতে।