Latest News

March 26, 2026

এই দেশ কোনও ব্যক্তির নয়—এই দেশ সবার : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

এই দেশ কোনও ব্যক্তির নয়—এই দেশ সবার : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচিনিতে রোড শো’য়ের পর সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য

আপনারা আমাদের সাথে আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন এবং আমাদের ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন, সেজন্য আমি আপনাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এবার কালচিনিতে ‘জোড়া ফুল’ ফুটবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হবে। জলগাঁও এবং আলিপুরদুয়ারের মানুষের জন্য ‘আচ্ছে দিন’ আসছে। যারা ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে, আমি তাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, যদি সাহস থাকে তবে আমার মতো এই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রোড-শো করে দেখান এবং গত ১২ বছরে মানুষের জন্য কী করেছেন তা জনসমক্ষে বলুন।

২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১৪ বছরে এখানে ৩,৯৪০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। ‘জলগাঁও ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং একটি নতুন ফায়ার স্টেশন তৈরি হয়েছে। আগে আগুন লাগলে হ্যামিল্টনগঞ্জ বা ভুটান থেকে দমকল আসত, কিন্তু এখন আপনাদের নিজস্ব ফায়ার স্টেশন আছে।

চা শ্রমিকদের জন্য ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পের অধীনে তোর্ষা চা বাগানের শ্রমিকদের বাড়ি দেওয়া হয়েছে। কালচিনি ও মেন্দাবাড়িতে আইটিআই কলেজ তৈরি হয়েছে। দুই জায়গাতেই গড়ে তোলা হয়েছে কিষাণ মান্ডি। কেনা-বেচার সুবিধার্থে মাঝেরডাবরিতে একটি বাজারও তৈরি করা হয়েছে। আমি আমার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছি, আমি মিথ্যে বলি না।

কালচিনি বিধানসভায় ৭৫,৪২১ জন মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাচ্ছেন। ‘স্বাস্থ্য সাথী’র সুবিধা পাচ্ছেন ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ। ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের অধীনে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষ প্রতি মাসে বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ১৫,৬০৬ জন মানুষ নিজস্ব পাকা বাড়ি পেয়েছেন। ‘ বাংলার যুব-সাথী’ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল, অথচ আজ সেই সমালোচকরাই সুবিধার জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। প্রায় ১৭,০০০ মানুষ যুব-সাথী থেকে উপকৃত হয়েছেন।

ওরা আমাদের আবাসের টাকা, জল জীবন মিশন এবং ১০০ দিনের কাজের হকের টাকা আটকে দিয়েছে। আর এখানকার বিজেপি প্রার্থী তো জ্যান্ত মানুষকে মৃত ঘোষণা করে পিএফ-এর টাকা লুট করেন। উন্নয়নের নামে তারা নিজেদের পকেট ভরছে।

বিজেপি ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর কথা বলে। কিন্তু আপনার যদি একটি স্মার্টফোন থাকে, তবে মোদীর আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না। পাকা বাড়ি, মোটরসাইকেল বা টিভি থাকলেও এই সুবিধা মিলবে না। কিন্তু দিদির ‘স্বাস্থ্য সাথী’ এই সব শর্ত ছাড়াই সবাই পায়। আমি যদি মিথ্যে বলে থাকি তবে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন, আদালতেই সত্য প্রমাণিত হবে।

এখানকার অন্যতম বড় প্রাপ্তি হল ‘জলগাঁও ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’। আমার হেল্পলাইন নম্বরে প্রচুর মানুষ যোগাযোগ করেন বলেই আমি আপনাদের সমস্যার কথা জানি।

এখানে মানুষের আরও দুটি প্রধান দাবি রয়েছে। আমি কথা দিলে তা রাখি, মিথ্যে বলি না। আজকের এই সভার মাধ্যমে জনগণের সাথে আমাদের এক আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হল। কালচিনির মানুষের কাছে আমরা চিরঋণী। উইলসন তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। আপনাদের এখানে মিউনিসিপ্যালিটি এবং হাসপাতালের দাবি রয়েছে।

যারা উন্নয়নের আশায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, তারা আজ জানেন যে তারা প্রতারিত হয়েছেন। বিশাল লামার মতো লোকেরা আপনাদের ভোটে জিতে কেন্দ্রে চিঠি লিখে আপনাদেরই টাকা বন্ধ করতে বলেছে। গত ১২ বছর ধরে কেন্দ্রে মোদী সরকার আছে, কিন্তু বিপদের দিনে মুখ্যমন্ত্রীই সবসময় এই জেলাগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কোনও বহিরাগত বিজেপি যদি কখনও আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে বা কোনও উন্নয়ন করে থাকে, তবে তা প্রমাণ করে দিলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।

আমি কথা দিচ্ছি, আমাদের প্রার্থী বীরেন্দ্র বারাকে জয়ী করলে কালচিনিতে একটি হাসপাতাল এবং পৌরসভা তৈরি করা হবে। আমাদের বাজেটে ইতিমধ্যেই একাধিক নতুন পুরসভা গঠনের কথা বলা হয়েছে, বীরেন্দ্র জিতলে কালচিনির এই দাবিগুলো অগ্রাধিকার পাবে। আমি আমার নিজের সংসদীয় কেন্দ্রের জন্য যেভাবে কাজ করি, আজকের পর থেকে কালচিনিও আমার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিল।

কোনও বিপর্যয় আসলেও তৃণমূলকেই ভোট দেবেন। বিজেপি আমাদের অসংখ্যবার লাইনে দাঁড় করিয়েছে। আগামী ২৩ তারিখ আমরা শেষবার লাইনে দাঁড়াব, সেদিনই ওদের পরাজিত করব। আমরা সবাই চেয়েছিলাম কালো টাকা বন্ধ হোক—কিন্তু তা কি হয়েছে? স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও আমাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমাদের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে আমরা বাংলাদেশি কিনা।

ওরা দাবি করেছে বাংলায় নাকি ১ কোটি বাংলাদেশি থাকে। সেই বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের তালিকা কোথায়? বিজেপির নিজস্ব সাংসদ অনন্ত মহারাজ নিজেই বলেছেন দেশের সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি হলেন অমিত শাহ। পহেলগাওঁ জঙ্গি হামলা কীভাবে হল—তার জবাব দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিতে হবে। কীভাবে জঙ্গিরা দেশে ঢুকল? এর দায় কে নেবে? প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কি পদত্যাগ করা উচিত নয়? যারা জওয়ানদের নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের পদত্যাগ করা উচিত কিনা?

আমি এখানে উপস্থিত সমস্ত জওয়ানদের সেলাম জানাই। তাঁদের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে। আমি এখানকার মানুষকে বলব, জওয়ানরা যেভাবে দেশের জন্য লড়াই করেন, আমাদেরও সেভাবেই এই লড়াইটা লড়তে হবে। আজ নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলছে—কাল ওরা ঠিক করে দেবে আমরা কী খাব আর কী পরব। ওরা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এই দেশ কোনও ব্যক্তির নয়—এই দেশ সবার। সরকার যারাই গঠন করুক, তারা জনগণের সেবার জন্যই থাকে। আসল ক্ষমতা মানুষের হাতে।

জওয়ানদের থেকে আমাদের শেখা উচিত—কীভাবে তাঁরা দেশের জন্য এবং জাতীয় পতাকার জন্য সীমান্তে ‘করো কিংবা মরো’ মানসিকতা নিয়ে লড়াই করেন। আমাদের লড়াইটাও তেমনই হবে। এই লড়াই বাংলার মাটির লড়াই। আমরা কারো কাছে মাথা নত করব না, দিল্লির কাছেও না। ওরা যেভাবে রিমোট কন্ট্রোলের বোতাম টিপে আপনাদের টাকা আটকে দেয়, আপনারাও সেভাবে ইভিএম-এর বোতাম টিপে ওদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিন। মনোজ টিগ্গা বা বিশাল লামা, কেউই এই টাকা আটকে দেওয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেননি।

ওদের হয়ে প্রচার করার কর্মী নেই, তাই টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করতে হচ্ছে। বিজেপির হয়ে কাজ করার জন্য বা বুথে বসার জন্য যদি ওরা আপনাদের টাকা দেয়, তবে সেই টাকা নিয়ে নিন, ওটা আপনাদেরই টাকা। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় তৃণমূলকেই ভোট দেবেন। গণনার দিনে যেন শুধু জোড়া ফুলই দেখা যায়।

আমি কথা দিচ্ছি, বীরেন্দ্র বারা জয়ী হওয়ার পর এবং তৃণমূল চতুর্থবার সরকার গঠন করলে আপনাদের ওই দুটি দাবি আমি তড়িৎগতিতে পূরণ করব। আমি আবার এখানে আসব।

আমি দেখলাম এখানে প্রচুর ফুটবল প্রেমী মানুষ আছেন। আপনাদের ব্যানারে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি ঠিক করেছি অদূর ভবিষ্যতে এখানে ‘ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব’-এর একটি ম্যাচ নিয়ে আসব। মনে রাখবেন, আমি এখানে বারবার আসতে চাই, তাই ফিরে আসার সুযোগটা আপনাদেরই করে দিতে হবে।