Latest News

December 27, 2025

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তৃণমূল ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

গত ২৭শে অক্টোবর যখন SIR-এর ঘোষণা করা হয়, আমি ঠিক তার পরের দিনই এই বিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলাম। সেই সময়ে আমি বেশ কিছু সমস্যার আশঙ্কা করেছিলাম এবং সেগুলো আমরা তখনই তুলে ধরেছিলাম। আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গত দুই মাস ধরে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে এই কাজের সাথে সরাসরি যুক্ত কর্মীরা, বিশেষ করে বিএলও-রা—একটি অগোছালো ও অপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছেন। যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সাধারণত দুই বছর সময় লাগে, সেটিকে জোর করে মাত্র কয়েক মাসের সময়সীমায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনই বিএলও-দের নিয়োগ করেছিল, এতে কোনও রাজনৈতিক দল বা বাইরের কোনও শক্তির কোনো ভূমিকা ছিল না। এই প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ, ৫১ জন সাধারণ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন: এঁদের মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিএলও-দের ক্ষেত্রে আমরা এমন ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছি, যার মধ্যে ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই, ভুক্তভোগীরা নিজেরা অথবা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, SIR-এর প্রবল চাপের কারণেই তাঁরা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

গত ২৮ নভেম্বর আমরা পাঁচটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আজ এক মাস কেটে গেলেও, আমরা একটি প্রশ্নেরও উত্তর পাইনি। কমিশনের দপ্তরে যেদিন বৈঠকটি হয়েছিল, ২৮ বা ২৯শে নভেম্বর নাগাদ, সেদিনই নির্বাচন কমিশনের কিছু বন্ধু সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সব প্রশ্নের উত্তর নাকি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খবর শোনামাত্রই আমি এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করে স্পষ্ট জানাই, যদি সত্যিই উত্তর দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। আমাদের কাছে ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে, আমাদের একটি প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়া হয়নি। এক মাস পরেও কোনও সাড়াশব্দ নেই। জ্ঞানেশ বাবু, ‘ভ্যানিশ বাবু’।

গত চার বছর ধরে বাংলাকে বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ২০২১ সালে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর, তারা কেবল জল, রাস্তা এবং গরিব মানুষের আবাস যোজনার টাকাই আটকে রাখেনি, এখন তারা মানুষের মৌলিক অধিকার, অর্থাৎ ভোট দেওয়া এবং নিজেদের নেতা বেছে নেওয়ার অধিকারটুকুও কেড়ে নিতে চাইছে। সরকার আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তারা নিজেরাই ঠিক করতে চাইছে, কে ভোটার হবে আর কে হবে না।

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর আমরা দেখলাম, ৭.৬৪ বা ৭.৬৬ কোটি ভোটারের মধ্যে ৫৮.২ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যেসব রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া চলছে, তাদের সবকটির সঙ্গে তুলনা করলেই আসল চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে উঠবে। তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা ৭.৭৫ কোটি, সেখানে ৫৭.৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে: ১২.৫৭%। গুজরাটের জনসংখ্যা ৭.৪১ কোটি, সেখানে ৭৩.৭৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যা প্রায় ১০%। ছত্তিশগড়ের জনসংখ্যা ৩.১২ কোটি, সেখানে বাতিল হয়েছে ২৭.৩৪ লক্ষ নাম, যা প্রায় ৮.৭৬%। কেরল, যেখানে সিপিআই(এম) ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের ৩.৬২ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ২৪.০৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যার হার ৬.৬৫%। এবং সবশেষে বাংলা, যার জনসংখ্যা ১০.০৫ কোটি, সেখানে ৫৮.২ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে: যার হার ৫.৭৯%, যা অন্য সব রাজ্যের তুলনায় সবচেয়ে কম।

এটা আমাদের দেওয়া কোনও তথ্য নয়, এগুলি স্বয়ং নির্বাচন কমিশনেরই তথ্য। তবুও, এসব সত্ত্বেও বাংলায় এক কোটি রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি বসবাস করছে, এই দাবি তুলে এখানে জোর করে SIR প্রক্রিয়া চালানো হল। আমার প্রথম প্রশ্ন হল: যদি বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়াই আসল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে নির্বাচন কমিশন এখন কীভাবে জানাবে তালিকা থেকে বাদ পড়া এই ৫৮ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ঠিক কারা বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা?

আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হল: যদি SIR-এর লক্ষ্য সত্যিই অনুপ্রবেশকারীদের তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে যেমন মায়ানমার; তাহলে মায়ানমার সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে SIR করা হয়নি কেন? বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বহু রাজ্য আছে, সেখানে কেন SIR হয়নি? আসল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিদের হয়রানি করা।

আমার তৃতীয় প্রশ্ন: যাঁরা প্রকাশ্যে বলেন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিরা নাকি বাংলাকে তাদের মাতৃভূমি মনে করে, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কেন আজও শোকজ নোটিশ জারি করেনি?

আমার চতুর্থ প্রশ্ন: যখন বাংলায় ভোটার বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম, আর উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও গুজরাটে সবচেয়ে বেশি, তখন ওই রাজ্যগুলিতে কেন মাইক্রো-অবজারভার পাঠানো হয়নি? আইন কি বাংলার মানুষের জন্য আলাদা? কেন নোটিফিকেশনের মাধ্যমে শুধুমাত্র বাংলাতেই আইন বদলানো হচ্ছে? গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশে কেন একই নোটিফিকেশন জারি হয়নি? মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশে প্রায় চার কোটি মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। সেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি, অর্থাৎ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ডিলিশন। তাহলে সেখানে বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠানো হল না কেন?

বাংলায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তহবিল বন্ধ করা হল। অথচ একের পর এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বিজেপি মন্ত্রীরা এক ব্যক্তির নামে একাধিক বাড়ির মালিক। তাহলে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে কেন আবাস যোজনার টাকা বন্ধ হয়নি? উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, লক্ষ লক্ষ জব কার্ড মুছে ফেলা হয়েছে-এমনকি বিষয়টি লোকসভাতেও তোলা হয়েছিল। তবুও সেখানে কেন MGNREGA-র টাকা বন্ধ হয়নি?

ম্যাপিং প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার পরের প্রশ্ন। তাঁরা বলেছিলেন মাত্র ৪৫ থেকে ৫৫% ম্যাপিং হয়েছে, বাকিটা নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাঁদের নিজেদের তথ্য বলছে প্রায় ৮৯% ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। তাহলে আজও তাঁরা ক্ষমা চাননি কেন? ৮৯.৬৫% ম্যাপিং হওয়ার পরও কেন ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ছড়ানো হল?

অন্য রাজ্যগুলিতে সময় বাড়ানো হয়েছে: উত্তরপ্রদেশে ১৫ দিন, গুজরাটে ৩ দিন, ছত্তিশগড়ে ৭ দিন, মধ্যপ্রদেশে ৭ দিন, তামিলনাড়ুতে ৩ দিন, এমনকি আন্দামান-নিকোবরেও ৭ দিন, যেখানে জনসংখ্যা খুবই কম।

হোয়াটসঅ্যাপে “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি” নামে একটি তালিকা প্রচার করা হয়েছে, যা মোটেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত কোন‌ও তথ্য নয়, এ যেন হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন চলছে। আমাদের কাছে এর স্ক্রিনশটও আছে। ওই তালিকায় দাবি করা হয়েছে যে, ১.৩৩ কোটি ভোটারের তথ্যে বানান ভুল বা ঠিকানা পরিবর্তনের মতো অসঙ্গতি রয়েছে। এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কবে প্রকাশ করা হল? সংবাদমাধ্যমের কেউ কি আমাকে বলতে পারবেন? ১৬ তারিখ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনই এটি সামনে আসে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে কী এমন জাদু কাঠি আছে? ৮০,০০০ বিএলও, ৮,০০০ বিএলও সুপারভাইজার, ৪,০০০ AERO, ৩০০ ERO এবং ২৩ জন DEO নিয়োগ করার পর কাজ শেষ করতে দুই মাস সময় লেগেছিল। তাহলে নির্বাচন কমিশন কীভাবে সাত কোটি ভোটারের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঠিক একই দিনে এই ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করে দিল? তালিকাটি কোথায়? উদ্দেশ্য যদি ভোটার তালিকা সংশোধন করাই হয়, তবে তালিকাটি লুকিয়ে রাখা হচ্ছে কেন?

এমনকি এই তালিকাটিকে জেলাভিত্তিক ভাগ‌ও করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোচবিহারে এটিকে ছয়টি অদ্ভুত ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে: বংশধর সংক্রান্ত ডিসক্রিপেন্সি ৬৫,২২১; বয়স সংক্রান্ত ডিসক্রিপেন্সি ৪৫,৫৯৬; বাবার নামের অমিল ২,৭৭,৯৯৪; বাবার বয়সে গরমিল ২৭,১৪৬; এবং ঠাকুমার বয়সে গরমিল ৭,১৩৭টি। এটি তো কেবল একটি জেলার চিত্র। এখন এই ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে, যাতে ভেরিফিকেশন করা সম্ভব হয় এবং সংবাদমাধ্যমও এই নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারে।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর আমি নিজে দিল্লি যাব এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে এই তালিকাগুলো প্রকাশের দাবি জানাব। হয় তালিকাগুলো প্রকাশ করুন, নয়তো বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চান। এই তালিকাগুলো জনসমক্ষে আনার দায়িত্ব কার?

সীমা খান্না নামে একজন আছেন। তাঁর ভূমিকা কী? আমাদের কাছে স্ক্রিনশট আছে, যা তাঁর জড়িত থাকা প্রমাণ করে। তিনি কার হয়ে কাজ করেন? আমরা সুপ্রিম কোর্টে এটি জমা দেব। সীমা খান্না, DG ID, যিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত; তাঁর সাহস থাকলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। আমার কাছে স্ক্রিনশট আছে। কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ১.৩৩ কোটি বাঙালিকে “সন্দেহজনক” ক্যাটাগরিতে ফেলা হল? যাই হোক না কেন, তালিকাটি প্রকাশ করুন। সংবাদমাধ্যম এবং সব রাজনৈতিক দল মিলে এটি খতিয়ে দেখবে। আমি সংবাদমাধ্যমের বন্ধুদের অনুরোধ করব নির্বাচন কমিশনকে এই প্রশ্নগুলো করতে।

– এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যেখানে জীবিত ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ডানকুনিতে আমাদের একজন কাউন্সিলর, সূর্যকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের কাছে জেলাভিত্তিক তথ্য আছে: দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ২৪টি কেস; কোচবিহারে ১৬টি; পূর্ব বর্ধমানে ৯টি; হুগলিতে ৭টি; হাওড়ায় ৭টি; নদিয়ায় ৫টি; পূর্ব মেদিনীপুরে ৫টি; দক্ষিণ কলকাতায় ৫টি; বর্ধমানে ৪টি; বীরভূমে ৩টি; দার্জিলিংয়ে ৩টি; আলিপুরদুয়ারে ২টি এবং মুর্শিদাবাদে ২টি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কেন FIR করা হবে না? ৩১ ডিসেম্বর গিয়ে দাবি জানানোর পরেও যদি ওরা তালিকা প্রকাশ না করে, তবে কমিশন ঘেরাও করা হবে।

বাংলাকে বাংলাদেশি ভাষা বলা এবং বাংলা বলার জন্য মানুষকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। শুধু বাংলা বলার অপরাধে গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাটের বাসিন্দাদের মহারাষ্ট্রে জেলে ভরা হয়েছিল, আমরা তাঁদের ফিরিয়ে এনেছি। দুটি ঘটনাই দক্ষিণ দিনাজপুরের। ওই এলাকার সাংসদ হলেন সুকান্ত মজুমদার, যিনি দিল্লির জমিদারদের সেবা করেন। যারা বিজেপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল, তারা বিনিময়ে এতটুকু কৃতজ্ঞতা পর্যন্ত পায়নি। বিজেপির সাংসদরা কখন‌ওই সংসদে মানুষের স্বার্থে সরব হননি বা বিপদে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াননি।

এই বিজেপি নেতারা বলছেন, ভোটার তালিকা থেকে যদি মতুয়াদের নাম বাদ যায়, তবে যাক। তারা এও দাবি করছে, তারা বাংলাকে বিপুল অর্থ দিয়েছে, কিন্তু তার প্রমাণ কোথায়?

বিজেপির হাতে বারবার বাঙালিদের হেনস্থা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আগামী ২ জানুয়ারি থেকে আমরা একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করছি। এই অত্যাচার এখন SIR-এর হাত ধরে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রিপোর্ট কার্ডের মাধ্যমে আমাদের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মানুষের সামনে পেশ করেছেন। ১ জানুয়ারি থেকে কীভাবে এই রিপোর্ট কার্ড বিলি করা হবে, সেই বিষয়ে নির্দেশিকা দিতে গতকালই আমি একটি ভিডিও কনফারেন্স করেছি। ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২ জানুয়ারি থেকে আমি রাস্তায় নামব, মানুষের সঙ্গে দেখা করব, রোড-শো করব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলব। ২ জানুয়ারি আমি দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থেকে শুরু করব এবং ৩ জানুয়ারি জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে চা শ্রমিকদের সঙ্গে সভা করব। কেন্দ্রের এই বাঙালি-বিদ্বেষী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলা কীভাবে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে, এই কর্মসূচিতে সেই বার্তাই দেওয়া হবে: “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।”

কল্পনা করতে পারেন, গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার জন্য একদল দুষ্কৃতী বিক্রেতাকে ধরে মেরেছে। গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁরা জামিন পেল এবং তাঁদের ফুলের মালা দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হল! এমনকি তারা MGNREGA-র নাম বদলে ‘জি রাম জি বিল’ করে দিয়েছে।