Latest News

December 22, 2025

যতই করুন এসআইআর, বাংলা হবে না আপনাদের : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

যতই করুন এসআইআর, বাংলা হবে না আপনাদের : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের বিএলএ ও বিএলএ-২দের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কিছু অংশ:

যতই করুন এসআইআর, বাংলা হবে না আপনাদের। এবার ওদের দিল্লি কেড়ে নেব!

এইরকম হোম মিনিস্টার দেখিনি। স্বৈরাচারী, দূরাচারী। তিনি টোটালটা কন্ট্রোল করছেন। প্রধানমন্ত্রীও কন্ট্রোল করেন না। আমার সন্দেহ আছে। প্রধানমন্ত্রীকেও উনিই কন্ট্রোল করেন। দেশটাকে উনিই কন্ট্রোল করেন। দাঙ্গাকারীরা যদি দেশ চালায়, সেই দেশটার কী হতে পারে! দেখতেই পাচ্ছেন। মাথায় বুদ্ধি আছে! জাতির জনকের নাম বাদ দিয়ে কী করল! রাম নাম। রাম নামের প্রতি আমার কোনও আপত্তি নেই। ওটা তো একটা মহাকাব্য। কিন্তু আমি দেখেছি হিন্দিভাষীরা যখন মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যায়, তখন ওরা বলে, ‘রাম নাম সত্য হ্যায়। আর কত যাবে বাংলার সম্মান? বিশ্বকবি, বিদ্যাসাগর, গান্ধীজিকে অসম্মানিত হতে হবে? বাংলা ভাষার অস্মিতাকে অসম্মানিত হতে হবে?

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিজেপির অফিস থেকে যা বলে দেওয়া হচ্ছে, তা-ই চেঞ্জ করা হচ্ছে। আমি শুনেছি নির্বাচন কমিশনের অফিসে বিজেপি একটা এজেন্ট রেখে দিয়েছে। সে অনলাইনে যাঁর ইচ্ছে নাম বাতিল লিখছে। পুরো লিস্টটা করে দিচ্ছে বিজেপির পার্টির লোকেরা। এমন নির্লজ্জ কমিশন আমি জীবনে দেখিনি, দেখতেও চাই না।

এখন আবার এআই (ব্যবহার) করেছে শুনলাম। ধরুন আমার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি যখন ভোট দিতে গেলাম, দেখলাম এআই-এ আর একটা নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে রেখে দিয়েছে। অর্থাৎ আমি ভোটটা দিতে পারলাম না। তাঁর নামে ভোটটা চলে গেল। বুদ্ধি খরচ করুন।

আরও দেড় কোটি নাম নাকি বাদ দিতে হবে। বিজেপির খোকাবাবুদের আবদার।

বিএলও-দের নামে গালাগালি দেওয়ার আগে ট্রেনিং দিয়েছিলেন? পুরোটাই অপরিকল্পিত। বিজেপির কথায় বিজেপি কমিশন করেছেন। যত কেস করবেন, করবেন। চাইলে গলাটাও কেটে নিতে পারেন। কিন্তু আমি মানুষের কথা বলব। কাউকে না কাউকে তো মুখ খুলতে হবে। সবাই যদি ভয়ে গুটিয়ে যায়, তা হলে তো দেশটাই শেষ হয়ে যাবে। বাংলা না থাকলে, দেশটা থাকবে না। মাথায় রাখবেন।

এর দায় কার! নির্বাচন কমিশন ৪৬ জন লোকের প্রাণ নিয়েছ। বিএলও-দের দোষ নয়, দোষ তোমাদের। দায়িত্ব নিতে হবে। ডিলিমিটেশনে ঠিকানা বদলেছে, (তার জন্য নাম) বাতিল। বিয়ে হয়ে অন্য বাড়িতে গিয়েছে, তাতেও বাতিল। বাংলা ও ইংরেজিতে নামের বানানে ফারাক রয়েছে, তা-ও বাতিল। এই অধিকার কে দিল?

২০০২ সালকে ভিত্তি করে নাম, অংশ নম্বর, ক্রমিক সংখ্যা খোঁজার ক্ষেত্রে কোনও অ্যাপ নেই। ফলে বহু বৈধ ভোটারকে হয়রান হতে হচ্ছে। ক’টা লোক এপিক নম্বর খুঁজে বার করতে পারে! অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে ২০০২ সালের এপিক নম্বরের সঙ্গে বর্তমান এপিক নম্বরের কোনও সামঞ্জস্য নেই। এটা কি ক্রিমিনাল অফেন্স নয়! অপরিকল্পিত, বেআইনি, অসংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক।

কেন্দ্রীয় সরকারের অনেককে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রত্যেক এলাকায় খবর রাখুন তো, কাকে কাকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা কোন দফতরে কাজ করেন, কোথায় থাকেন। আমরা ডিটেলস চাই। আমি তাঁদের সহযোগিতা করব, কিন্তু আমার ডিটেলস চাই। এটা রাজ্যকে জিজ্ঞেস করে করেনি। নির্বাচন কমিশন ইচ্ছা করে করছে।

প্রাণ দিয়ে, জীবন দিয়ে বিজেপিকে রুখতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, নেতারা পারবে না-কর্মীরা পারবে। এই লড়াই আমাদের বাঁচার লড়াই। এ লড়াই আমাদের জিততেই হবে।

নির্বাচন কমিশন এক বারও কি ভেবেছেন? ভ্যানিশকুমারবাবুরা, বিজেপির দালালেরা একবারও ভেবেছেন?

এবার পিকনিক হবে না। পিকনিক একেবারে ২০২৬-এর জয়ের পর হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগে কাজ করে যেতে হবে। কোন বৈধ ভোটারের নাম ওঠেনি- বুথ স্তরে তার বিস্তারিত খোঁজ নিতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে