মে ১৬, ২০২৬
ভোট পরবর্তী অশান্তিতে আক্রান্তদের পাশে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। আক্রান্তদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েও সওয়াল করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই পরিস্থিতিতে বাস্তব চিত্র পরিদর্শনে শনিবার থেকেই জেলা সফরে গেছে তৃণমূলের তথ্য অনুসন্ধানকারী প্রতিনিধি দল। দলের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে সেইসকল পরিস্থিতি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক মহিলা তৃণমূল কর্মী জানিয়েছেন, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যখন তাদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করে, সেই সময় পুলিশ নীরব থেকেছে, বরং বাড়ির মালিকদের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলেছেন। এরপর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন, “পুলিশ বিজেপির জন্য পরিস্থিতি সাজিয়ে দিয়েছে, যাতে তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা যায় আর সেখানে সাহায্য করেছে সেন্ট্রাল ফোর্স। বাংলায় কেন এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী? বাংলার মানুষ এসব দেখে বিচার করুক। সারা বাংলা জুড়ে প্রায় ১০ জন কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর কত মানুষ আক্রান্ত ও আহত এখনও আমরা গুনে চলছি, সংখ্যাটা তিন হাজারের বেশি।”
অন্যদিকে হুগলীর গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের নকুণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ এখনও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।গত ৯ মে বিজেপির গুন্ডারা নৃশংসভাবে খুন করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য চায়না বাগের স্বামী সহদেব বাগকে, স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ের পাশ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ সেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন দলের প্রতিনিধি দল। সেই দলে ছিলেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম, প্রাক্তন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা (Birbaha Hansda), তৃণমূল নেতা শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Sirsanya Bandopadhyay)। অভিযোগ ভোটের ফলাফলের পর তৃণমূল প্রধানের বাড়িতে আক্রমণ করা হয়। বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মারধর করার অভিযোগ করেছেন তারা বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের সদস্যরা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় পরিদর্শনে যায় আর একটি টিম, যে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দোলা সেন (Dola Sen), নাদিমুল হক (Mohammad Nadimul Haque) এবং সুশোভন রায়। ময়নার ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর দোলা সেন অভিযোগ করেন, ৪ তারিখের পর থেকেই তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপর লাগাতার অত্যাচার চালানো হচ্ছে। কোথাও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, কোথাও আবার পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, প্রতিনিধি দল যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা তৃণমূল সুপ্রিমো কে জানানো হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আদালতের কাছেও এই সমস্ত তথ্য তুলে ধরা হবে।
দোলা সেন আরও দাবি করেন, বিভিন্ন বুথ ও গণনাকেন্দ্রে ইভিএম টেম্পারিংয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও ভিভিপ্যাট গণনা করতে দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও কর্মীদের মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। প্রতিনিধি দল সমস্ত অভিযোগ ও তথ্য নথিভুক্ত করেছে বলে জানান তিনি।