Looking back at 2017 – Bengal on fast track

The sun of 2017 is setting, and 2018 is on the horizon. At this juncture, let us take a look at some of the crucial events that have held up for everyone.

It is an undeniable fact that under the Chief Minister Mamata Banerjee-led Trinamool Congress Government, Bengal has turned a crucial bend on the road to development, and now there is no looking back.

Here are 17 events in 2017 that we will all remember:

1. Kanyashree wins UN award

On June 23, 2017, the Bengal Government was awarded the United Nations Public Service Award for winning the first prize among projects in South Asia for the Kanyashree Scheme.

2. FIFA Under-17 World Cup in Bengal

The Bengal Government earned worldwide praise, including from world football’s governing body, FIFA for successfully organising the Under-17 World Cup. Two of the most crucial matches, a semi-final and he final, were both held at the Vivekananda Yuba Bharati Krirangan in Kolkata.

3. Victory in by-elections

All the four by-elections held in 2017 – for the seats of Cooch Behar, Dakshin Kanthi, Tamluk and Sabang – were won by huge margins by the Trinamool Congress.

4. Bengal gets new districts

The State Government created four new districts for administrative convenience, bringing the total number to 23. Kalimpong was created out of Darjeeling and Jhargram was created out of Paschim Medinipur while Bardhaman was broken up into Purba Bardhaman and Paschim Bardhaman.

5. Trinamool blooms in the Hills

For the first time ever, Trinamool Congress has formed a local government in the Hills region. Mirik Municipality is now with Trinamool Congress.

6. Mega health reform

Setting a benchmark for other states as well as the Union Government, the West Bengal Clinical Establishments (Registration, Regulation and Transparency) Bill was passed by the State Assembly, brining in a raft of new measures for strengthening the health administration. Among other advantages, now, even for treatment in private hospitals, patients would be able to know the details about the cost and other aspects.

7. Balm on demonetisation troubles

The Bengal Government brought in the Samarthan Scheme in March 2017. It has ensured that those who have had to return to the state, having lost their jobs due to the impact of demonetisation, receive a one-time grant of Rs 50,000 to give them stability as well as enable them to start a new business. Along with this, they are also able to enrol in government schemes which would help them to ensure a steady income.

8. ‘Experience Bengal’ become viral

The State Tourism Department’s promotional video, ‘Experience Bengal’ has picked up a lot of praise, both in terms of the visuals and the content.

9. International business summit hits the right notes

The third Bengal Global Business Summit in January became a forum for industry interactions of the highest order. Representatives from about 30 countries attended the summit, and of course those from across India. Memoranda of understanding (MoU) worth Rs 2.34 lakh was signed at the summit.

10. Rosogolla wins it for Bengal

After a long fight, Rosogolla has been officially recognised, through the granting of a geographical information (GI) tag, as belonging to Bengal.

11. Sitalpati and gobindobhog get international recognition

The well-known aromatic gobindobhog variety of rice has earned a GI tag, giving it a locational uniqueness, and thus, a huge marketability. Sitalpati earned a similar recognition from UNESCO when it was recognised as an ‘intangible cultural heritage’.

12. Bengal leads in MSME

Over the last five years, among the states, entrepreneurs of Bengal, as a whole, have received the highest amount of loans, amounting to 15 billion US dollars. Additionally, in terms of both the number of micro, small and medium (MSME) enterprises and the number of people employed in those, Bengal stands second in the country. Almost 37 lakh MSME enterprises employ about 86 lakh people.

13. Bengal is leading in the construction of toilets

Bengal is the leading state in India in the construction of toilets. The State Government’s Mission Nirmal Bangla is ensuring that Bengal wins the race in terms of a sustainable open-defecation free (ODF) culture. UNESCO has specially recognised the state for this. Not just construction, the government is ensuring through various local campaigns that using proper toilets becomes a normal habit.

14. Stress on infrastructural development

The Bengal Government has decided to spend Rs 12,000 crore under the non-Plan head, with special stress on building infrastructure. Among the infrastructural projects completed is building 18,000 km of roads.

15. Chief Minister’s England and Scotland trip

This year, Chief Minister Mamata Banerjee undertook highly successful visits to England and Scotland, drawing a lot of interest from industrialists and entrepreneurs. At the various summits she attended, Mamata Banerjee held up the huge opportunities and every type of help from the government that investors will find in Bengal.

16. Horasis Asia Summit in Kolkata

The prestigious Horasis Asia summit was held in Kolkata in November, which was the first time that it was held in India. Business leaders (CEOs, promoters, founders, etc.) from 65 countries, numbering 350, attended the summit. The Chief Minister addressed the summit too, inviting investment in all sectors in Bengal.

17. Infosys comes to Bengal

That the industrial climate of Bengal is changing for the better became evident when the international IT giant, Infosys decided to invest Rs 100 crore to set up a campus in Rajarhat, which will generate 1,000 jobs.

ফিরে দেখা ২০১৭

২০১৭র সূর্য আজ অস্তাচলে। নবদিগন্তে উদিত হবে ২০১৮র নতুন ভোর। বিগত বছরের কিছু অবিস্মরণীয় ঘটনাই হয়ে উঠুক আগামীর পথ চলার পাথেয়। কেমন কাটল এই বছর? ফিরে দেখা ২০১৭।

১. কন্যাশ্রীর বিশ্বজয়

রাষ্ট্রপুঞ্জে জনপরিষেবা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বাংলার প্রকল্প ‘‌কন্যাশ্রী’‌ প্রথম পুরস্কার পায়। ৬৩টি দেশের ৫৫২ প্রকল্পকে হারিয়ে সেরার শিরোপা পায় কন্যাশ্রী।

২. বিশ্ববাংলায় বিশ্বকাপ

এই প্রথম বার কলকাতায় আয়োজিত হয় অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল। রাজ্য সরকারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় মুগ্ধ হয় ফিফা কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতির জন্য প্রসংশিত হয় কলকাতা।

৩. উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়জয়কার

২০১৭ সালের ৪টি উপনির্বাচনে (কোচবিহার, দক্ষিণ কাঁথি, তমলুক ও সবং) বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস।

৪. বাংলা পেল নতুন জেলা

নতুন তিনটি জেলা গঠিত হল বাংলায়। দার্জিলিং জেলা ভেঙে গড়া হয় কালিম্পঙ, বর্ধমান ভেঙে তৈরী হয় পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ভেঙে তৈরী হয় ঝাড়গ্রাম জেলা।

৫. পাহাড়ে ফুটল ঘাসফুল

রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবার পাহাড়ে (মিরিক পুরসভা) এককভাবে জয়লাভ করে পুরসভা গঠন করল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত, এর আগে কখনও পাহাড়ে সেখানকার আঞ্চলিক দল ছাড়া কেউ জয়লাভ করেনি।

৬. স্বাস্থ্যে বড় সংস্কার

স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে, রোগীদের হয়রানি বন্ধ করতে ও চিকিৎসায় গাফিলতি রুখতে নতুন আইন আনল রাজ্য সরকার, গঠিত হল ১১ সদস্যের স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিশন। রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের বিলিং এর ওপর নজর রাখবে এই কমিশন। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘন করলে হাসপাতালগুলির ওপর জরিমানা চাপাবে কমিশন।

৭. নোটবন্দির ক্ষতে প্রলেপ

২০১৭ সালের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘সমর্থন’ প্রকল্প চালু করেছে। যে সমস্ত শ্রমিক/কর্মচারী কেন্দ্রীয় সরকারের নোটবন্দির ফলে অন্য রাজ্য থেকে কাজ হারিয়ে ফিরে এসেছেন তাদের ৫০০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য স্বরূপ এককালীন এই অনুদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

৮. ভাইরাল ‘এক্সপিরিয়েন্স বেঙ্গল’

জানুয়ারী মাসে প্রকাশিত হয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের নতুন ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে বিপুল আলোড়ন ফেলে এই ভিডিও। প্রায় এক কোটি মানুষ এই ভিডিও দেখেছেন টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউব সহ নানা সাইটে।

৯. বাণিজ্য সম্মেলনে লক্ষ্মী লাভ

তৃতীয় বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জানুয়ারী মাসে। প্রায় ৩০টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এই সম্মেলনে। ২ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকার লগ্নি প্রস্তাব পায় রাজ্য এই সম্মেলনে।

১০. রসগোল্লা বাংলারই

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হাসল বাংলাই। রসগোল্লার জিআই ট্যাগ জিতে নিল পশ্চিমবঙ্গ।

১১. শীতলপাটি ও গোবিন্দভোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলার হস্তশিল্প। রাজ্যের শীতলপাটি স্বীকৃতি পে ইউনেস্কো থেকে। পাশাপাশি, বাংলার সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চাল পায় জিআই ট্যাগ।

১২. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে এগিয়ে বাংলা

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে গত পাঁচ বছরে ব্যাঙ্ক থেকে সব থেকে বেশি ঋণ পেয়েছে বাংলা, যার পরিমাণ হল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনুসারেও পশ্চিমবঙ্গ দেশে দ্বিতীয় স্থানে। বাংলায় প্রায় ৩৭ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। প্রায় ৮৬ লক্ষ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রসঙ্গত এই ক্ষেত্রেও বাংলা দেশে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী।

১৩. শৌচাগার নির্মাণে শীর্ষে বাংলা

অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় শৌচাগার নির্মাণে সবথেকে এগিয়ে বাংলা। এর জন্য ইউনিসেফ-এর প্রশংসা কুড়িয়েছে রাজ্য সরকার।

১৪. পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর

পরিকাঠামো উন্নয়নে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে রাজ্য সরকার। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ধার্য আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে রাজ্য সরকার এই অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করতে পেরেছে। এর পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে ১৮০০০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তার সূচনা করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে।

১৫. মুখ্যমন্ত্রীর ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর

লন্ডনে ভগিনী নিবেদিতার জন্মের সার্ধশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে নিবেদিতার বাড়িতে স্মৃতিফলক উন্মোচনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কটল্যান্ডের এডিনবরাতে শিল্প বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি বাংলায় লগ্নির আহ্বান জানান। তুলে ধরেন রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনার নানা দিক।

১৬. হোরাসিস বৈঠক কলকাতায়

শিল্পের বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’, হোরাসিস তাদের প্রথম এশিয়া সম্মেলন করে কলকাতায়। এই সম্মেলনে ৬৫টি দেশের ৩৫০র বেশী কর্পোরেট লিডাররা যোগ দেন, যারা প্রতিষ্ঠাতা, মালিক, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রেসিডেন্টের মত মর্যাদাসম্পন্ন। এই সম্মেলনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান শিল্পপতি ও শিল্পপ্রতিনিধিদের।

১৭. বাংলায় আসছে ইনফোসিস

বাংলায় বিনিয়োগ করছে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস। জমির মালিকানা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড় পেতে চলেছে দেশের অন্যতম সেরা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। ইনফোসিসকে পুরোপুরি ৫০ একর জমির মালিকানা (ফ্রি-হোল্ড) দেবে সরকার।

Ease of doing business – Bengal rose from rank 30 to rank 3: Mamata Banerjee at Horasis Asia meet

Bengal Chief Minister Mamata Banerjee today addressed a special international session at the 2017 edition of Horasis Asia Meeting, Asia’s foremost gathering of senior leaders from businesses and governments.

It is being co-hosted by the Bengal Government and the Indian Chamber of Commerce (ICC).

This is the first time that this prestigious business summit is being held in India. Horasis is a Zurich-based think tank. About 350 delegates from 65 countries, other than from India are participating in the event.

Highlights of the Chief Minister’s speech:

Bengal is progressing like never before. It is emerging as the industrial destination.

Six and half years ago, the 34-year old Left Front rule came to an end. During their rule, perception about Bengal was not good; but now it has changed.

Our work culture has changed. Earlier, the mandays lost was about 78 lakh. Now it is absolutely zero. There are no strikes in Bengal. We maintain best of relations with the industry, working class and the people at large.

In Bengal, we have our own infrastructural facilities. We have built flyovers, bridges, power stations. From social sector to health, education sector to youth, agriculture to industry sector – we are surging ahead.

You will be happy to know, in the parameter of ‘ease of doing business’, Bengal was earlier ranked 30. Three years ago, the rank improved to 15. Now, we are third in India. Out of 372 parameters, we have fulfilled 336 and in a few months we will fulfill the rest.

We are facing a legacy and it takes time to undo it. I believe, there is no substitute to hard work, dedication, devotion, sincerity, punctuality. We have the vision, the mission and we show it in our action.

We met the Chairman of Horasis in Munich and they had made a commitment to come to India. But why will you choose Bengal? Strategically, geographically, economically, politically, Bengal is safe and sound.

Bengal is a gateway to south-east Asia. From here you can expand your business to Bangladesh – our neighbouring country, who we love so much. From Bengal you can expand to the eight north-eastern States. You can reach Bhutan and Nepal also. They are just half-an-hour away via flight from Bengal. There is easy access to Thailand, Malaysia and Kuala Lumpur.

Bengal believes in unity and togetherness – people of all castes, creed, religions live here in peace. We believe there can never be any geographical boundary for art or culture.

Advantage of Bengal is our skill, our talented young generation. The new generation is our asset. I am proud of our young generation. In skill development, we are No. 1 for four years. In small scale industries, we are No. 1 in India. We have started e-services in every sphere.

Our industrial growth is not bad. We are trying. GDP growth rate of India for 2016-17 was 7.1%. The GSDP growth of Bengal was 9.1%. In the industry sector also, India’s growth rate was 5.6%, and that of Bengal was 7.2%.

Bengal has the potential. We have lent investable capital to the tune of Rs 1.82 lakh crore. When we came in our GDP was 4.5 lakh crores. It has doubled. Our revenue earnings has doubled now. We have created 81 lakh new employment in six years and more than 100 crore mandays.

Bengal has several advantages – a strategic location, geographical advantage, peaceful situation in the State. We have best of relations with bordering countries. In Bengal, we are all united. We do not believe in divisive politics.

We have the land bank. We do not capture land forcefully. We have land map and land use policy. We have a surplus power bank. We give all facilities and support to the industry.

We have recently hosted the Under-17 FIFA World Cup football. The quarter final, semi final and final matches were held in Kolkata. FIFA showered us with praises for the superb and excellent arrangement.

In Bengal, we are committed to social empowerment also. Ninety per cent people in the State receive direct benefits from the State. We take care of the poor and disadvantaged people. This year, our flagship ‘Kanyashree’ scheme for the empowerment of girls, received the first prize at UN Public Service Award.

We have set up 46 new multi super speciality hospitals within six years. We have set up Mother and Child Hubs. We give free cycles, books and scholarships to the students.

If you want to invest, enough scope is there in every sector – engineering, jute, textile, servicing, IT, mining, transportation, agricultural marketing, manufacturing. We have deep forests, deep sea, even the Hills. There is enough scope for tourism. If you invest in Bengal, you will definitely go for re-investment.

I will request all the delegates present here to come and join the Bengal Global Business Summit on 16-17 January 2018. More than 30 countries are coming to this summit. We have set up an international convention centre, an eco-tourism park. Even a Financial Hub has been set up.

We believe in sweet relations with the industry. Our captains of industry will tell you the advantages of doing business in Bengal. We can take concrete decisions for investments in Bengal at the Bengal Global Business Summit in January.

My earnest request to you is that do not forget Bengal. Make this State your ultimate destination.


শিল্প গড়ার সুবিধা – ৩০ থেকে ৩ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলা: মুখ্যমন্ত্রী

শিল্পের বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’, হোরাসিস ভারতে তাদের প্রথম এশিয়া সম্মেলন করছে। এই সম্মেলন শুরু হয় কাল। এই বৈঠক হচ্ছে কলকাতায়, যা নিঃসন্দেহে রাজ্যের শিল্পে লগ্নি সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এক বিরাট উদ্দীপকের কাজ করবে। বিশেষ করে আর দেড় মাস পরেই যখন বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ একটি বিশেষ সেশনে মূল বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই সম্মেলনে ৬৫টি দেশের ৩৫০র বেশী কর্পোরেট লিডাররা যোগ দিচ্ছেন, যারা প্রতিষ্ঠাতা, মালিক, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রেসিডেন্টের মত মর্যাদাসম্পন্ন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু অংশ:

বাংলায় এখন পরিবর্তন এসেছে। শিল্পের গন্তব্য হয়ে উঠেছে বাংলা – এখানে রয়েছে শিল্পের জন্য উন্নততর পরিকাঠামো।

৩৪ বছরের বাম শাসনের পর বাংলায় পরিবর্তন এসেছে। বাম আমলে শিল্প নিয়ে দৃষ্টি ভঙ্গিতে গলদ ছিল, এখন তার পরিবর্তন হয়েছে।

আমাদের কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তন হয়েছে। আগে ৭৮ লক্ষ শ্রম দিবস নষ্ট হয়েছে, এখন এই সংখ্যা শূন্য। এখন বাংলায় কোন বনধ হয়না। আমরা শিল্পপতি থেকে শ্রমিক – সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলি।

বাংলায় আমাদের সবরকম পরিকাঠামো রয়েছে। আমরা ফ্লাইওভার, সেতু, পাওয়ার স্টেশন নির্মাণ করেছি। সামাজিক খাত থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প – সব ক্ষেত্রেই আমরা এগিয়ে চলেছি।

শিল্প গড়ার সুবিধার মাপকাঠিতে(ease of doing business) দেশের মধ্যে আগে বাংলার স্থান ছিল ৩০ নম্বরে। তিন বছর আগেও বাংলার স্থান ছিল ১৫ নম্বরে। আপনারা জেনে খুশি হবেন, এখন দেশের মধ্যে বাংলার স্থান তৃতীয়। ৩৭২টি প্যারামিটারের মধ্যে আমরা ৩৩৬টি পূরণ করেছি, কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা বাকিগুলোও পূরণ করব।

আমি বিশ্বাস করি কঠোর পরিশ্রম, ডেডিকেশন, নিষ্ঠা, আন্তরিকতার কোন বিকল্প হয় না। আমাদের ভিশন ও মিশন আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে দেখাই।

আমরা মিউনিখে হোরেসিসের সভাপতির সাথে সাক্ষাত করেছিলাম এবং তারা ভারতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কেন আপনারা বাংলাকে বেছে নেবেন? কারণ, কৌশলগতভাবে, ভৌগোলিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে বাংলা সেফ অ্যান্ড সাউণ্ড।

বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে। এখান থেকে বাংলাদেশে ব্যবসা প্রসারিত করতে পারবেন। বাংলা থেকে উত্তর পূর্বের ৮ টি রাজ্যে ব্যবসা প্রসারিত করতে পারবেন। এমনকি নেপাল ও ভুটানেও ফ্লাইটের মাধ্যমে মাত্র আধ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়। বাংলা থেকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং কুয়ালালামপুরে সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন।

বাংলা একতা ও ঐক্যবদ্ধতায় বিশ্বাস করে – সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে শান্তিতে বাস করে। আমরা বিশ্বাস করি শিল্প বা সংস্কৃতির কোনও ভৌগোলিক সীমানা নেই।

দক্ষতা বিকাশে এক নম্বরে বাংলা। বাংলায় অনেক মেধা আছে। তরুণ প্রজন্ম আমাদের সম্পদ, ওদের জন্য আমি গর্বিত। গত ৪ বছরে দক্ষতা বিকাশে বাংলা ১ নম্বরে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বাংলা ১ নম্বরে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ই-পরিষেবা চালু করেছি।

আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ খারাপ নয়। আমরা চেষ্টা করছি। ২০১৬-১৭ তে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.১% আর বাংলার জিএসডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৯.১%। শিল্পের ক্ষেত্রেও, ভারতের বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৬% এবং বাংলার বৃদ্ধির হার ছিল ৭.২%।

বাংলায় প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগযোগ্য মূলধন ঋণ দিয়েছি। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, রাজ্যের জিডিপি ছিল ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকা, এখন তা দ্বিগুন হয়েছে। আমাদের রাজস্ব আয় দ্বিগুন বেড়েছে। আমরা ৬ বছরে ৮১ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছি, ১০০ কোটির বেশী শ্রমদিবস তৈরি করেছি।

বিনিয়োগের জন্য বাংলার অনেক সুবিধা আছে – অবস্থানগত এবং ভৌগলিক সুবিধা, শিল্পবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক। আমরা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না।

আমাদের ল্যান্ড ব্যাঙ্ক আছে। আমরা বলপূর্বক জমি অধিগ্রহণ করি না। আমাদের ল্যান্ড ম্যাপ ও সুনির্দিষ্ট জমি নীতি আছে। আমাদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাঙ্ক আছে। আমরা পরিকাঠামোগত সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত।

কিছুদিন আগেই ফিফার অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হল কলকাতায়। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ কলকাতায় হয়। ফিফা কর্তৃপক্ষ আমাদের আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

শিল্পের পাশাপাশি বাংলায় আমরা সামাজিক ক্ষেত্রেও নজর দিই। রাজ্যের ৯০ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পান। গরীব ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নয়নের প্রতি আমরা দায়বদ্ধ। মেয়েদের উন্নয়নের জন্য আমাদের চালু করা কন্যাশ্রী প্রকল্প এবছর জন পরিষেবার জন্য রাষ্ট্রসংঘের প্রথম পুরস্কার পেয়েছে।

গত ৬ বছরে ৪৬টি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল গড়েছি আমরা। মাদার ও চাইল্ড হাব তৈরী করেছি। আমরা বিনামূল্যে সাইকেল, বই দিই ছাত্রছাত্রীদের। বিভিন্ন স্কলারশিপের সুবিধাও পায় তারা।

এখানে উপস্থিত সকল অতিথিকে আগামী ১৬-১৭ই জানুয়ারী ২০১৮য় অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ৩০টিরও বেশি দেশ থেকে অতিথিরা আসবেন। আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার গড়েছি। একটি ইকো-ট্যুরিজম পার্ক তৈরী হয়েছে এখানে। একটি ফিনান্সিয়াল হাবও তৈরী করা হয়েছে।

বাংলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিপুল। কারিগরি, পাট, বস্ত্র, পরিষেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, খনি, পরিবহন, কৃষি বিপণন – সব ক্ষেত্রেই অনেক সম্ভাবনা। আমাদের জঙ্গল, সমুদ্র, পাহাড় – সব আছে। পর্যটন ক্ষেত্রেও বিশাল সুযোগ। একবার বাংলায় বিনিয়োগ করলে, নিজেরাই পুনরায় বিনিয়োগ করবেন।

আমরা শিল্পপতিদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলি। এখানে উপস্থিত আমার ‘ক্যাপ্টেন্স অফ ইনডাস্ট্রি’রাই আপনাদের বলবেন তাদের বাংলায় ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা। আগামী বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে আসুন, সেখানেই বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

আপনাদের প্রতি আমার আবেদন, বাংলাকে ভুলবেন না। বাংলায় আসুন, শিল্প গড়ুন। বাংলাই হোক বিনিয়োগের গন্তব্য।