Latest News

October 10, 2026

‘‘দেশকে বাঁচান, গণতন্ত্রকে বাঁচান’’ দিল্লীতে ধর্নায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘‘দেশকে বাঁচান, গণতন্ত্রকে বাঁচান’’ দিল্লীতে ধর্নায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শনিবার (১০ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুরে যন্তরমন্তরের ধর্ণার উদ্দেশ্যে রওনা হলে প্রথমেই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন সাংসদরা – দোলা সেন, সাকেত গোখলে, শামিরুল ইসলাম, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন।

সেখানে সাংবাদিকদের নেত্রী জানান, “আমরা এখানে এসেছিলাম সিজেপির ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের আমন্ত্রণে। কিন্তু ইতিমধ্যেই অনেক নেতাকে আটক করা হয়েছে। কাউকেই যন্তর মন্তরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখানেই বসে ছাত্র-যুব ও দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াব।”

এরপর দিল্লি পুলিশ এসে তাঁদের সরতে বলেন। দিল্লিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই কারণ দেখিয়েই ধর্না প্রত্য়াহার করতে বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই আটক করা হয় তাঁদের। জোর করে তাদের পুলিশের গাড়িতে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যন্তর – মন্তরে যেতে না-পেরে, বুকে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে, তাঁরা একটি বাসস্ট্যান্ডে বেঞ্চের উপর বসে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল ‘Save India, Save Democracy’ লেখা ব্যানার। বুকে ব্যাজ লাগিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন তাঁরা। কিন্তু সেখানেও তাঁদের বসতে দেওয়া হয়নি। এরপর তাঁদের একটি প্রিজন ভ্যানে চাপিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘এভাবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব নয়। বিজেপি যেখানে ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে । মানুষের কাছে আমার আবেদন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সাধারণ মানুষ জেগে উঠুন, আর কতদিন মানুষ মুখ বুজে এই পরিস্থিতি সহ্য করবেন?”

প্রিজন ভ্যান থেকেই লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “আমাদের কয়েদির মতো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানিনা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বলব, দিদি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদের অধিকার রক্ষার জন্য দিদি যা লড়াই করে চলেছে, সকলে তার জন্য কৃতজ্ঞ।”

এরপর বিকেল ৪টে নাগাদ তাদের দ্বারকা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে নেমে পুলিশদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন কেন তাঁদের ওরিয়ানা বর্ডারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ তাঁর ফ্লাইট মিস হলে তিনি সোমবার ইন্ডিয়া জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে অংশ নেবেন। এরপর থানাতেই ধর্নায় বসেন তৃণমূল নেত্রী। নেত্রী জানান, ‘বিকেল ৪টে, চার সাংসদ-সহ আমাকে দ্বারকা নর্থ থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানেই ধরনা শুরু করছি।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘অপহরণ করে প্রিজন ভ্যানে করে দুই ঘণ্টা ধরে ঘোরানো হল। আজ রাতে আমি কলকাতায় ফিরছি না। বরং সোমবারের ‘ইন্ডি’ (I.N.D.I.A) জোটের মিছিলে যোগ দেব।’

https://twitter.com/MamataOfficial/status/2108870977010442659/history

কেন্দ্রের কড়া পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পরিস্থিতি এখন জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এটা অতি জরুরি অবস্থার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে পদক্ষেপ নিয়ে ওরা আসলে আন্দোলনকারীদের আরও জনপ্রিয় করে তুলছে। আমাদের একটাই স্পষ্ট বার্তা, ভারতকে বাঁচান, গণতন্ত্রকে বাঁচান।”

প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়, সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, “আইন না ভাঙা সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশ জোর করে ক্রিমিনালদের মতন আমাদের জোর করে জেলের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়েছে, লক করে রেখেছিলো, ওই সাফোকেটিং জায়গায় আমাদের রেখে ২ ঘন্টা ঘুরিয়েছে, আমি আমার এতো বছরে এরকম কখনও দেখিনি, আমাদের সঙ্গে একজন ডায়াবেটিক পেশেন্ট ছিলেন, তাঁকে বাথরুমে পর্যন্ত যেতে দেয়নি। এতো অত্যাচার আমি আগে দেখিনি, এতো সরকার, এতো প্রধানমন্ত্রী দেখেছি এরকম কখনো দেখিনি। ক্রিমিনাল আর সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বেসিক পার্থক্য রয়েছে সেটা বিজেপির জানা উচিত। আমি বিশ্বাস করি গণতন্ত্রের জয় হবে। ৪ জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে – এটা ইতিহাস, গণতন্ত্রই ইতিহাস তৈরী করে।”

উল্লেখ্য, শনিবার রাতেই কলকাতা ফেরার ফ্লাইট ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের। সেই বিমানের রিজার্ভেশন বাতিল করে দিয়েছেন তিনি। থানায় থাকাকালীন তাঁকে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে।