October 14, 2026
কালীঘাটের বাড়ির সামনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ

তৃতীয়ার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেতাঁর উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালীঘাট মিলন সংঘের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে যাওয়ার সময়ই ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতার সঙ্গে ছিলেন তিনি এবং তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় এক মহিলা ‘পিসি’ বলে সম্বোধন করে মমতার দিকে ছুটে আসেন। তাঁকে আক্রমণের চেষ্টা করার পাশাপাশি গালিগালাজ করারও অভিযোগ উঠেছে। পরে উপস্থিত লোকজন ওই মহিলাকে ধরে ফেলেন।
সাংসদ দোলা সেনের দাবি, অভিযুক্ত মহিলা নিজেকে মমতার আত্মীয় তথা ‘ভাগ্নি’ পরিচয় দিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে পৌঁছেছিলেন। মমতা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুজোর উদ্বোধনে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন ওই মহিলা। এমনকি, নেত্রীর শাড়ি ধরে টান দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে ছুরি উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের হাতে ছুরি ছিল এবং তিনি নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন। দোলা জানিয়েছেন, ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি কালীঘাট থানার ওসি-কে ইমেল করেছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশকর্মীকে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা কলকাতা পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় ব্যবস্থা নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তাহলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কী?
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কুণাল ঘোষ, সাকেত গোখলে, বাবুল সুপ্রিয় সহ অন্যান্য নেতা নেত্রীরা।
এই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,“অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে নয়, উনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে নয়, উনি একজন মহিলা। যেভাবে কাল ঘটনাটি ঘটেছে। আমি কালীঘাট কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম যখন এই ঘটনাটি ঘটে, আমি যতটুকু শুনেছি বা সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, যেভাবে ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন যে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেন। এই যদি জেড প্লাস নিরাপত্তার নিদর্শন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বা নারীদের নিরাপত্তা কোথায়, তা আপনারাই বুঝে নিন।”