October 8, 2026
দিল্লী রওনা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যোগ দেবেন ইন্ডিয়া বৈঠকে, হতে পারে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর, ২০২৬) দিল্লী রওনা হওয়ার আগে কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে যেতে বলা হয়েছে, তাই আমি যাচ্ছি ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের নেতাদের পক্ষ থেকে ৮ বা ৯ তারিখে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে; সেই তালিকায় আমার নামও রাখা হয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমি যাব না, বরং অভিষেককে পাঠাব; কিন্তু ওরা আমাকেই যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং আমার নাম জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের পাশে না দাঁড়ালে তা ঠিক দেখাত না, বিশেষ করে বাংলার মানুষও চায় আমি যাই। এখন পুজোর সময়, সবাই ব্যস্ত, তবুও আমাকে যেতেই হচ্ছে। তাই রাষ্ট্রপতি যদি সাক্ষাতের সময় দেন, তবে ভালোই; আমার সেখানে উপস্থিত না থাকাটা ঠিক হতো না। সেই কারণেই আমি যাচ্ছি, যদিও এরপর আর কী কী কর্মসূচি থাকবে, তা আমার জানা নেই।”
গতকাল দিল্লীর যন্তরমন্তরের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি অনেক নৃশংসতা দেখেছি। সমগ্র ভারতে সবারই প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সাথে যা ঘটেছে তা ঠিক নয়। সবার ঘরেই বোন, মা কিংবা সন্তান রয়েছে। নারীদের প্রতি আমাদের সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।”
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের সরব হন নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, “গত পাঁচ মাসে রাজ্যে ৬০০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে সরকারি প্রকল্প বন্ধ, বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া, দোকান লুট, হকার উচ্ছেদ।‘যুবসাথী’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা থেকেও বহু মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রায় ৯২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দোকান লুট হয়েছে এবং হকারদের জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
উপনির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে নেত্রী বলেন, “উপনির্বাচনই হয়নি। মূল কথা হলো, ভোট গণনার সময় কোনো কারচুপি হওয়া উচিত নয়, অথচ ইভিএম-এ কারচুপি করা হয়েছে। আপনাদের পুলিশ গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে; পুলিশই গিয়ে বোতাম টিপে দিয়েছে। মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগই পায়নি; তাদের আধার কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সব দলের মুখেই নিশ্চয়ই এ বিষয়ে কথা শুনেছেন। আমি নিজে হয়তো দেখিনি, কিন্তু মোদ্দা কথা হলো—আসলে কোনো নির্বাচনই হয়নি। বিজেপি নেতাদের কখনও শুনেছেন কি, ঠিক কত ভোটে তারা জিতবে—সে বিষয়ে আগেভাগেই ভবিষ্যদ্বাণী করতে? এর অর্থই হলো—হিসাব করা ভোট, কারচুপি করা ভোট, ছাপ্পা ভোট এবং লুট করে পাওয়া ভোট. লুঠ করে লুঠেরা বাহিনী বেশিদিন টিকতে পারবে না। “
বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নানা পাটেকর আমাদের দেশের জন্য এক বড় গর্বের বিষয় ছিলেন। তিনি প্রচুর কাজ করেছেন এবং আমাদের সবার কাছেই তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর সৃজনশীলতা, চলচ্চিত্র, গান ও অভিনয় সবকিছুই চিরকাল মনে রাখা হবে।”
সবশেষে, সিপিএম আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিকাশদার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আজকে থাকলে হয়তো এখানে ওনার বাড়ি যেতাম, আমি বলেছি আমি ফিরে এসে আপনার বাড়িতে যাব। কিন্তু এই attack আমরা মানছিনা। যে হি partyই করুক না কেন। কোনও attack-ই কোনও party-র উপরে আমরা চাইনা।”