মে ১৫, ২০২৬
কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence)পর কর্মীদের উদ্দেশ্যে এদিন বার্তা দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (AITC General Secretary) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি বললেন, এই সময়টা ‘অগ্নিপরীক্ষার’। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের প্রতিটি লড়াকু সৈনিক সদস্য ও সহযোদ্ধাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছে, বাংলার এই মাটি বরাবরই আন্দোলন, বিপ্লব এবং সংগ্রামের মাটি, এই মাটি প্রতিবাদের মাটি, যা শিখিয়েছে মাথা নত না করতে, আর এই মাটিই শিখিয়েছে অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের আলোয় ফিরতে। গত কয়েকদিন ধরে, বিশেষ করে ৪ তারিখের পর থেকে আপনাদের ওপর দিয়ে যে ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেছে এবং যে তান্ডবলীলা চলেছে। বাংলা বিরোধী বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হয়েছে এবং আমাদের দলীয় কার্যালয়গুলিতেও ভাঙচুর করা হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাদের সাহস আর লড়াইয়ের জন্য। একটি অত্যন্ত কঠিন ও আপস করা নির্বাচনেও আপনারা হাল ছাড়েননি। গণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ১০০-র বেশি আসনের ফলাফল লুট করা হয়েছে। আমরা মানুষের রায়কে সম্মান করি, কিন্তু জালিয়াতিকে নয়। আমাদের এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ভোটের পর বাংলাজুড়ে যে হিংসা চলছে, সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শক। আমাদের কর্মীদের বাড়ি পুড়ছে, অথচ কেন্দ্রের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি কোথায়? আমি কথা দিচ্ছি, প্রতিটি জালিয়াতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আমরা সাংবিধানিক ও আইনি লড়াই লড়ব। সত্যকে চিরকাল চাপা দিয়ে রাখা যায় না। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।”
ভোট লুট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেভাবে লুট করা দেখেছি, আমরা বিশ্বাস করি এই রায় মানুষের রায় হতে পারে না। যারা লুট করে ক্ষমতা এসেছে,তারা ক্ষমতায় বেশিদিন টিকবে না। যারা মানুষের আদেশকে প্রভাবিত করেছে। তারা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। মানুষের রায় আমরা মাথা পেতে নেব। আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। সে আশি হতে পারে, আট হতে পারে, ধস হতে পারে.পঞ্চাশ হতে পারে, দুশো হতে পারে। কিন্তু একশোর বেশি আসনে, কাউন্টির দিন একতরফা লুঠ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে। আমরা বিচার চাইব। আমি ইতিমধ্যেই দাবি করেছি, কাউন্টিং সেন্টারের ফুটেজ প্রকাশের করার দাবি করেছি।”
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম সংগ্রামে কথা স্মরণ করিয়ে এদিন ভিডিওতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কর্মীদের হার না মানা লড়াইয়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এটা অগ্নিপরীক্ষা, সোনা আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়। তৃণমূলের সর্বস্তরের সংগঠন, কর্মীদের এই অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে। আমাদের অস্ত্র আপোসহীন লড়াই, আমাদের অস্ত্র হার না মানা মানসিকতা, কর্মীদের একতাই আমাদের ঢাল।”
ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে ভিডিও বার্তায় তৃণমূল কর্মীদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “নতুন করে দলীয় কার্যালয়গুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে। প্রয়োজনে যেখানে আপনারা ডাকবেন, আমি নিশ্চিত যাব। আমার ঘরের বাইরে এরা কী অত্যাচার করেছে, আপনারা দেখেছেন। সব আমরা দেখেছি। বিজেপির আসল স্বরূপ আমরা দেখেছি। আমার লড়াই বিজেপির সাথে, আপনার লড়াই বিজেপির সাথে। কিন্তু পরিবারের ছোট সন্তান, ছেলে-মেয়ে, কাউকে এরা রেয়াত করেনি। এই সংস্কৃতি কোনওদিন বাংলার মানুষ দেখেনি। এর বিচার এবং সদুত্তর মানুষ দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই আমি সবকিছু মানুষের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। মনে রাখবেন আমরা সেই দলের কর্মী, যারা মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেও কোনওদিন পিছ পা হতে শেখেনি।”
বিজেপির এই আক্রমণ প্রসঙ্গে অভিষেকের প্রশ্ন, “কেন এই আক্রমণ? কখনও ভেবে দেখেছেন? কেন হিংসা, কেন লুঠপাঠ, কেন এই গুন্ডামি, কেন ভাঙচুর? বিজেপি খুব ভালো করে জানে, বাংলার মানুষের শক্তি কতটা। যারা কাপুরুষের মতো অন্ধকারে হামলা চালায়, তারা আসলে আপনার সাহসের মোকাবিলা করতে ভয় পায়। তারা জানে লুঠপাট করে ক্ষমতায় এসেছে।”
অভিষেকের কথায়, “জয় বা পরাজয় রাজনীতির অঙ্গ। জয়ী হওয়ার প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠা তাদের চারিত্রিক দুর্বলতা বহিঃপ্রকাশ। আমাদের ১০ জন সহকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বিজেপি হার্মাদ, জল্লাদরা। এই দশজনের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের পিছু হঠার কারণ হতে পারে না। বরং তাদের দেখা স্বপ্নগুলি পূরণ করাই হবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব ও আগামীদিনের শপথ।মনে রাখবেন তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটা দল যাদের জন্ম হয়েছে রাজপথের ধূলোয়, আন্দোলনের মাধ্যমে, লড়াইয়ের ময়দানে, হার মানা মানসিকতা মাধ্যমে।”