মে ৩০, ২০২৬
ওরা আমায় মারতে চায়! মেরে দিক! আমি এখান থেকে যাব না: সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রাণঘাতী হামলার সম্মুখীন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কামালগাজির কাছে গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চড়ে গন্তব্যে যেতে চাইলে সেখানেও তাঁর ওপর হামলা করে বিজেপি কর্মীরা।
নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সেই বাড়িতে বসেই সাংবাদিকের অভিষেক জানান, ‘‘এই হল ডবল ইঞ্জিনের নমুূনা। সবাই চেয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। আমার মাথা দু’টুকরো হয়ে যেত আজকে। আমার সঙ্গে দু’তিনজন মহিলা সহকর্মী এসেছেন। তাঁদের লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা বাঙালির সংস্কৃতি? আমার দলের একজন কর্মী মারা গিয়েছে। আমি সেই বাড়িতে দেখা করতে আসতে পারি না? আমার চোখে সাত বার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ইট-পাটকেল ছুড়েছে। চশমার অবস্থা দেখুন। বিজেপি যদি এর সঙ্গে জড়িত না থাকে, তা হলে বিজেপি পদক্ষেপ করছে না কেন? পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি।কিন্তু এই পরিবারের উপর হামলা হবে তারপর। আমি এখন এঁদের ছেড়ে যেতে পারব না। বাহিনী পাঠিয়ে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। আমি এই ঘটনা নিয়ে হাই কোর্টেও যাব, সুপ্রিম কোর্টেও যাব। আমি হাই কোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। (নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির) দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। পুলিশের কেউ নেই এখানে। আমি এসপি এবং আইসি-কে জানাতে বলেছি। এখনও কোনও বাহিনী আসেনি।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দল জানিয়েছে, “বিজেপির রাজনীতির আসল চেহারা আজ আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আজ আমাদের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা প্রমাণ করে দিল, এই শাসকের অধীনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কত দ্রুত অবনতি ঘটেছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। যদি একজন বিরোধী দলের সাংসদকে দিনের আলোয় নিশানা করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ভরসা কোথায়? এটাই কি বিজেপির গণতন্ত্র? এটাই কি সেই “সুশাসন”, সারাক্ষণ যার বড়াই করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? হিংসা, ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক গুন্ডামি আজ বিজেপির শাসনের প্রধান পরিচয়। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তারা হয়তো আজ রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে, কিন্তু এর জবাবদিহি ওদের করতে হবে।বাংলা দেখছে। ভারত দেখছে। গোটা বিশ্ব দেখছে।”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখলেন, “শাসকই ঘাতক হয়ে উঠল। লজ্জা হওয়া উচিত বিজেপির।”
https://x.com/MamataOfficial/status/2060705457610858918