Demonetisation a man-made disaster, Modi looted taxpayers’ money: Mamata Banerjee

Bengal Chief Minister Mamata Banerjee on Thursday again lashed out at Prime Minister Narendra Modi as a month passed since the government announced that old Rs 1,000 and Rs 500 notes will cease to be legal tender.

Mamata Banerjee, who has been staunchly against the move since the start, on Thursday, claimed that people have been subjected to harassment and financial insecurity in the one month since demonetisation.

Urging the Prime Minister to clarify the situation and take entire responsibility for it, she alleged that ever since demonetisation, government’s every move has been shrouded in mystery.

“Everything is done in huge secrecy, like he (PM Modi) is some Ali Baba. He should realise he is occupying a constitutional post,” the Chief Minister said.

Earlier in the day, she tweeted a list of 90 people who have died due to hardships following demonetisation of high value notes.

“One month of harassment, pain, hopelessness, financial insecurity and utter chaos,” she wrote on her Facebook page, “that is all that the common people has got after the black decision on demonetisation announced a month back on November eight”. “PM must clarify the situation to the nation and take entire responsibility,” she said.

Mamata Banerjee, who has been spearheading protests against demonetisation outside the Parliament termed it a “man made disaster” and “financial emergency”. Hitting out at Modi, she said that he has “looted people’s money”.

“Where is the black money? This is public money that you have taken, without consulting anybody before making the decision,” she said lashing out at Modi. “He (Modi) thinks as if he is a tiger, and the only one who is right,” Mamata Banerjee added in disdain.

Claiming that no black money has been recovered, the Trinamool Congress Chairperson said, “Only white money of the common people has been snatched away.”

Mamata also questioned the motives behind the government’s move, alleging that nobody but the prime minister and his aides have benefited from the scheme.

“Even no black money has been recovered from foreign countries. In the name of recovery of so called black money, the ruling party at the Centre has created assets in the form of land, bank deposits, gold, diamonds and has become more and more capitalist,” the CM said.

She also hit out at the Prime Minister over his absence from the House. “Many prime ministers have assumed office but nobody did this what Narendra Modi has done… Parliament is liable to people. That was not taken into account,” she added.

She said in her statement, “Production has nosedived, agricultural activities have been shattered, buying and selling is down drastically, the economy is in shambles – the entire country is passing through an unprecedented financial emergency.

“Untold sufferings have come down in the lives of farmers, labourers, workers of unorganised sectors, tea garden, beedi and jute workers, employed class, students, sick, old and infirm people,” the chief minister said in her statement.

“The common man is helpless. Mothers and sisters have been forced to give away their small personal savings to run the family in the face of serious cash crunch.”

“No one knows when this unfortunate ordeal will end. No one knows when good senses will prevail to stop this mindless harassment and sufferings of common people. No one knows what good has happened to the country and its people with this big, black decision,” the chief minister said.

Calling for immediate action to restore trust and confidence of the people on banking and financial sectors, Banerjee said, “People must have hassle-free access to their own money and feel secure that their money is safe with banks and financial institutions.”

“We have raised the issue repeatedly in Parliament and in different other platforms. Leading economists have criticized this mindless demonetisation. But there is no response yet,” she added.

সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করছে মোদী সরকার: নোট বাতিলের পূর্তিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের যে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নভেম্বর মাসে করেছিলেন, তার এক মাস পূর্ণ হল আজ। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ আবারও এই জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন।

মুখ্যমন্ত্রী যিনি প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, আজও বলেন নোটবাতিল ঘোষণার এক মাস পরেও জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, এই সিদ্ধান্তর ফলে দেশবাসীর যে চরম দুর্ভোগ হয়েছে, তার দায়ভার যেন তিনি গ্রহন করেন। তিনি বলেন, এই নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপই রহস্যে মোড়া।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সব কিছু গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে কোনও আলিবাবা ভাবছেন, তার সঙ্গে এটা ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি সাংবিধানিক কোনও পদে আসিন।

নোটবাতিলের ফলে সাধারন মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরতে তিনি তার কিছুক্ষন আগে টুইট করেন যে ৯০ জন মানুষ এই নোটবাতিলের ফলে মারা গিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা দিয়ে।

তিনি ফেসবুকে লেখেন, “এক মাস ব্যাপী দুর্ভোগ, যন্ত্রণা, আশাহীনতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অরাজকতা, নোটবাতিল ঘোষণার পর এই এক মাসে এটাই মানুষের প্রাপ্তি।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিকে বলেন “ম্যান মেড ডিসাস্টার” ও “অর্থনৈতিক অরাজকতা” আখ্যা দেন। তিনি মোদীর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “উনি জনসাধারনের টাকা লুঠ করেছেন।”

“কোথায় কালো টাকা? এটা জনসাধারনের টাকা যেটা আপনি তাঁদের থেকে কেড়ে নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার আগে উনি কারও পরামর্শ নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেন নি।“ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেকে বাঘ ভাবেন ও একমাত্র নিজে যা করছেন, সেটাই ঠিক।“

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন কোনও কালো টাকা উদ্ধার হয়নি। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র করদাতা ও গরিবমানুষের টাকা তাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।“ তিনি প্রশ্ন তোলেন এই পদক্ষেপের ফলে কারা লাভবান হয়েছে? একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও তার অনুগতরা ছাড়া আর কাউর কোনও উপকার হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদেশ থেকে কোনও কালোটাকা উদ্ধার হয় নি, কালো টাকা উদ্ধারের নাম করে শাসক দল নিজেদের সম্পত্তি কিনে গেছে, জমি, বাঙ্কের টাকা, সোনা, হিরে আরও কত কিছু, ধনীরা আরও ধনী হয়ে উঠেছে।“

প্রধানমন্ত্রীর সংসদে না থাকার কথাও বলেন, তিনি বলেন,”অনেক প্রধানমন্ত্রী এর আগে অল্পবিস্তর গড়হাজির থেকেছেন, কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী যা করছেন, সেটা নজিরবিহীন, সংসদ জনগনের কাছে দায়বদ্ধ, এটা তিনি ভুলে গেছেন।“

তিনি জানান, উৎপাদন প্রায় বন্ধ, চাষের কাজ বন্ধ, কেনা বেচা অসম্ভব কমে গেছে। সারা দেশের অর্থনীতি এক ভীষণ রকম অরাজকতার সম্মুখীন হয়েছে।

কৃষক, শ্রমিক, অসংগঠিত খেত্রের কর্মী, চা বাগানের শ্রমিক, বিড়ি ও পাট শ্রমিক, চাকুরীজীবী মানুষ, ছাত্র, অসুস্থ মানুষ, বয়স্ক মানুষ, দুর্বল মানুষ সকলের জীবনেই চলছে অবর্ণনীয় কষ্ট।

“সাধারন মানুষ অসহায়, মা-বোনেদের বিপদের সংসারের সময় সামাল দেওয়ার সামান্য পুঁজিও সরকার জোর করে তাদের থেকে কেড়ে নিয়েছে“ তিনি বলেন।

ব্যাঙ্ক ও অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর ওপর থেকে মানুষের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রর এখনি কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “মানুষের নিজের টাকার ওপর যথেষ্ট অধিকার থাকা উচিত ও তাদের এটা বোঝা উচিত যে তাদের টাকা ব্যাঙ্ক ও অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোয় সুরক্ষিত আছে।“

“আমরা সংসদ ও অন্যান্য জায়গায় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছি, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা নামকরা অর্থনীতিবিদরাও করছেন, কিন্তু কেন্দ্রের থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।”

Demonetisation is a big scam: Mamata Banerjee at State Assembly

Today, on the second day of the 2016 Winter Session of the West Bengal Assembly, Chief Minister Mamata Banerjee gave an almost 50-minute speech during a discussion on demonetisation.

Her strongly-worded speech dwelt on the massive mistake committed by the Centre in bringing about demonetisation, as well as the huge loss caused to the economy of the country and the immense hardships borne by the people on a daily basis, that has caused more than 80 deaths (in the almost four weeks since the decision was announced).

To dispel all Opposition allegations, Mamata Banerjee declared at the very onset: “We do not support hoarding of black money. We are against black marketing. We want strict action to be taken against those who have crores of black money”.

She said that as a result of this policy of the Centre, the “economic infrastructure of the country has broken down”. Bengal’s revenue collection “has taken a hit”.

Also, the decision of demonetisation was “taken without planning”, as a result of which the “common people were facing huge a problem”.

She said, “Undeclared financial emergency has been imposed on the country. The Centre is bulldozing all decisions”.

Referring to the fact of people dying all over the country while standing in long queues in front of banks and ATMs, she said that the “Centre is treating people like guinea pigs. Healthy people have been forced into illness”.

Buttressing her point on the people being treated like guinea pigs, she said, “In 21 days they have modified their decision 21 times. Can you believe it? They have no idea what to do”.

She underlined some of the more serious challenges the State is facing as a result of demonetisation: “Farmers are facing problems. Workers and labourers are not getting their wages. Tea and jute workers are not getting salaries. Wages for 100 days’ work cannot be paid”. It is not just about wages – “A lot of man-days have been lost. Production has been hit severely”.

She also came down strongly on the shoddy ways the Centre is now apparently trying to right some wrongs. As an example she said, “Why did the Centre allow cash supply at Big Bazaar outlets? How many areas have Big Bazaars?”

She said the “BJP was well aware of the decision of demonetisation” as “the ruling party had bought land in several states in September and October, right before the announcement of demonetisation”. She demanded a “judicial probe into the financial transactions of BJP just before the announcement of demonetisation”.

Mamata Banerjee rejected downright the Central Government’s contention that demonetisation has resulted in a lot of black money being recovered, instead saying, “White money has been declared black money (as people are not being able to withdraw their own money due to a severe shortage in cash) while some people are easily converting black money into white”.

The Chief Minister asked the BJP what has come of its promise to bring back black money to the country: “How much black money has been brought back from Swiss banks?” She followed it up with the fact that “Global Financial Integrity (GFI), a global research organisation, has said that USD 51 billion was siphoned out of India per annum between 2004 and 2013”.

Mamata Banerjee then went on to lay bare the futility of the Central Government’s contention that demonetisation was all for a good cause. “People are dying in bank queues; daily wagers are losing their livelihood; and the Prime Minister talks of cashless banking”.

Indeed, cashless banking, that the Prime Minister has been harping on ever so frequently since the announcement of demonetisation, is not really meant for a country like India as “without even creating the infrastructure he is trying to forcefully enforce a cashless economy”. Mamata Banerjee also spelt out the dangers lurking in cashless banking, referring to the “nearly 29 lakh debit cards that were hacked, and their data compromised, a few months ago”.

The Chief Minister also came down strongly on the Prime Minister’s showing a lack of morality as he is “busy doing ads for Paytm”, followed by the rhetorical question, “Have you ever seen a PM endorse private companies?” She berated “Modi Babu” for “not having the qualifications to be a Prime Minister”.

The Chief Minister also criticised the Centre for meting out “differential treatment to the States in relation to the supply of new currency notes”. “This is embarrassing,” she said.

She said that people cannot even protest against their miserable condition as the “Centre is letting loose their agencies on anyone raising their voices”.

As possible remedies, Mamata Banerjee said, “We have already requested the Centre to increase circulation of currency notes of smaller denominations. The Centre must allow the use of old Rs 500 notes till the situation is normalised”.

Accusing some prominent BJP leaders of making a mockery of the common people‘s misery, she said, “People are unable to make ends meet and ruling party leaders are having lavish weddings”.

“Demonetisation is a big scandal. It is a big scam. This is a big crime”.

She warned, “If the situation is not addressed, there will be food crisis in future”.

The Chief Minister outlined her plan for protesting: “We have appealed to civil society, to the intelligentsia and especially to women to come forward in protest. This fight will continue. This is a fight for the people”.

She ended her speech by raising her voice for her beloved Bengal once again: “Banglar mati, banglar jol/ Punyo houk hey bhogoban”.



নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত একটি বড় কেলেঙ্কারিঃ বিধানসভায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী


আজ বিধানসভায় নোটবাতিল ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমরা কালো টাকার বিরুদ্ধে আমরা কালো বাজারিতে বিশ্বাস করি না।  কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগনের কথা সবার আগে মাথায় রাখা উচিত। তাঁর দাবি, কোটি কোটি কালো টাকা যাদের তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক”।

এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে গেছে। কেন্দ্রের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে রাজস্ব আদায় বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্ত উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী একজোট হয়ে লড়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এখন রাজনীতি করার সময় নয়, সকলে মিলে এই নোট সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। দেশ জুড়ে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে, অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে, বিরোধী ও সাধারণ মানুষের সব কিছু বুলডোজ করা হচ্ছে”।

তিনি আবারও অভিযোগ তোলেন, পরিকল্পনাহীন ভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে বাস্তব জীবনে মানুষের প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছে, প্রতি মুহূর্তে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে সমসসা হচ্ছে। প্রতিদিন তাদের সব কর্মব্যস্ততার মাঝে অনেক খানি সময় বার করতে হচ্ছে ব্যাঙ্ক ও এটিএম-এ লাইন দেওয়ার জন্য। তাতেও যে তারা সফল হচ্ছেন, তাও না, প্রায়ই অনেকক্ষণ লাইন দেওয়ার পর টাকা না পেয়ে তারা ফিরে আসছেন।

বিজেপির নেতারা আগে থেকে সব জানতেন, এই কথার প্রমাণস্বরূপ তিনি বলেন, “নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের ঠিক আগেই বিজেপি নেতারা সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে অনেক জমি কিনেছে, ওরা  আগে থেকেই এই বিমুদ্রিকরনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতো। নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের  আগে বিজেপির আর্থিক লেনদেন এবং জমি সংক্রান্ত তথ্যগুলির তদন্ত হওয়া উচিত এই দাবিও তিনি তোলেন”।

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে গিনিপিগের মত ব্যবহার করছে কেন্দ্র। সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে তোলা হচ্ছে।এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের সাদা টাকা কালো হয়ে গেছে আর কালো বাজারিদের কালো টাকা সাদা হয়ে গেছে।

পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সুইস ব্যাঙ্ক থেকে কত কালো টাকা ফেরত এসেছে? প্রধানমন্ত্রী এখন পে টি এমের বিজ্ঞাপন দিতে ব্যস্ত। কখনো কোন প্রধানমন্ত্রীকে বেসরকারি কোম্পানিকে প্রমোট করতে এর আগে দেখা যায়নি, একথাও তিনি বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রদীপের নিচে যে অন্ধকার সেটা কি মোদী বাবু দেখেছেন? মোদী বাবু কি জানেন দেশের কটা গ্রামে ব্যাঙ্ক আছে? আর উনি ক্যাশলেস পেমেন্টের কথা বলছেন”।

মুখ্যমন্ত্রী অসহায় মানুষের অশেষ দুর্গতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উজাড় করে বলেন, “মোদী বাবুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোন যোগ্যতাই নেই। ক্যাশলেস অর্থনীতির কোনোরকম পরিকাঠামো তৈরি করার বদলে তিনি গায়ের জোরে ক্যাশলেস অর্থনীতিকে আনার চেষ্টা করছেন”।

এ যাবৎ যে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেই কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে আর প্রধানমন্ত্রী ক্যাশলেস ব্যাঙ্কিং এর কথা বলছেন। কেন্দ্রের বৈষম্যমূলক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন নোট সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে নোট পাঠানো হলেও বাকি রাজ্যগুলিকে পাঠানো হচ্ছে না”।

মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কয়েক দিন আগেই ২৯ লক্ষ ডেবিট কার্ড হ্যাক হয়েছে, তাহলে কিসের ভরসায় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড নির্ভর হতে বলছেন? তিনি বলেন, কেন্দ্র নিজেও কতটা দিশাহীন তার প্রমাণ হল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কেন্দ্র ২১ দিনে তারা ২১ বার তাদের সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। এই সিদ্ধান্ত কি করে বাস্তবায়ন করা যায়,  কি করা উচিত সেই সম্পর্কে কেন্দ্রের কোন ধারণাই নেই।   

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে চোর বলে বেড়াচ্ছেন। এইরকম হঠকারী ভাবে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত এখন একটি বড় কেলেঙ্কারি। এটা একটা বড় অপরাধ।

এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের ফলে কৃষকরা সমস্যায় পরেছেন। শ্রমিকরা তাদের মজুরি পাচ্ছেন না, চা বাগান, জুট মিলের লোকেরা তাদের বেতন পাচ্ছেন না। ১০০ দিনের কর্মীরা তাদের মজুরি পাচ্ছেন না। কেউ যদি মজুরি না পায় তারা খাবে কি করে? প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনবে কি করে?

পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিগ বাজারের দোকানগুলোতে টাকা যোগানের অনুমতি কেন দিয়েছে কেন্দ্র? কটা এলাকায় বিগ বাজার আছে? সারা দেশের কটা জায়গায় বিগ বাজার আছে? তাঁর বক্তব্য, যে গরিব মানুষের পক্ষে সওয়াল  করে কেন্দ্রের প্রতিবাদ করছে, কেন্দ্র তার পিছনে এজেন্সি লাগিয়ে দিচ্ছে।  

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদন জানান ৫০/১০০ টাকার নোট সরবরাহ বৃদ্ধি করতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রকে তাঁর পরামর্শ, যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন পুরনো ৫০০ টাকার নোট চালু রাখা উচিত নতুন টাকার পাশাপাশি।

পরিস্থিতি ঠিক না হলে এরপর খাদ্য সংকট দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি সবশেষে বলেন, আমি সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, বিশেষ করে মহিলাদের এই প্রতিবাদ করতে আহ্বান জানাচ্ছি, এই লড়াই চলবে। এটা মানুষের লড়াই।


Five things Mamata Banerjee said at the West Bengal Assembly

Chief Minister Mamata Banerjee lashed out at the Opposition in the State Assembly for creating ruckus in the House and disrupting the course of business.

As the leader of the ruling party in the Assembly, she spoke during a discussion on the Governor’s Address.



Here are five things Mamata Banerjee said at the Bengal Assembly

1. There are some rules and regulations that need to be followed in the House. The elections were concluded just recently and the Opposition has no right to threaten the functioning of the House. Individuals have the right to speech in a democracy, but the Opposition is grossly misusing this right.

2. Just because I have some issue against you does not mean that I will attack Sonia ji or Rahul Gandhi, that is my decency. I keep it in mind not to cross the lines of verbal attack. Similarly, I do not attack Buddhadeb or Jyotibabu personally.

3. The Trinamool Congress is fighting the BJP and the CPI(M) ideologically and the fight will continue in the time to come.

4. Bengal has lagged behind over the years and we must be more positive in the Assembly and the Opposition should be constructive and provide guidance for more development in the state. It is the Assembly”s responsibility towards the young generation to provide them with a bright future. The Opposition must join us in doing more constructive work in the House.

5. The Centre has been slashing budgets for ICDS, Sarva Shiksha Abhiyan and for the development of the Jangalmahal areas. Despite all odds, we are carrying on with these programmes. We had come to power with a huge burden of debt, in the last five years we have taken loans of 1,13,000 crore out of which 94,000 crore was spent in repaying the debt left by the Left government. The center is pushing the states into a debt trap. The Center should call for a meeting of the debt-ridden states like Punjab, Kerala and Bengal.


শিষ্টাচারে দেউলিয়া হয়ে গেছেন আপনারা: বিধানসভায় বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

বিধানসভায় তীব্র ভাষায় বিরোধীদের কটূক্তির জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদলের নেত্রী হিসেবে এদিন তিনি রাজ্যপালের ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখছিলেন।

বিরোধীদের উদ্দেশ্যে যে পাঁচটি বিষয় মুখ্যমন্ত্রী বলেন সেগুলি হল:

বিধানসভার একটা ঐতিহ্য, পরম্পরা আছে। এত ঔদ্ধত্য যে এখানে দাঁড়িয়ে হুমকি দিচ্ছেন। গণতন্ত্র কথা বলার সুযোগ দিয়েছে মানে তার অপব্যবহার করা উচিত নয়। কথার লক্ষ্মণ রেখা অতিক্রম না করা উচিত নয়।

আপনারা আমার বিরুদ্ধে কুমন্তব্য করেছেন তার মানে এই নয় যে, আমি আপনাদের নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নামেও একই কথা বলব। এটাই শিষ্টাচার। শিষ্টাচারে দেউলিয়া হয়ে গেছেন আপনারা। কংগ্রেস দলটাকে সাইনবোর্ডে পরিণত করেছেন। জোট করতে গিয়ে দলটাকে শেষ করেছেন। জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবুকে কোনওদিন খারাপ কথা বলিনি।

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট আমাদের ন্যাচারাল চয়েস ছিল। মুলায়ম-মায়াবতীর সঙ্গে জোট করতে পারি, এনডিএ র সঙ্গে জোট করেছিলাম, কিন্তু সিপিএমের সঙ্গে কখনোও জোট হতে পারে না। বিজেপির সঙ্গে নীতিগত লড়াই চলছে, চলবে। সিপিএমের সঙ্গে লড়াই চলবে, যদিও সব বাম দল খারাপ নয়। কংগ্রেসের সাইনবোর্ডটা খুলে সিপিএমকে দিয়ে দিন।

বাংলা অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের আরও ইতিবাচক হওয়া উচিত। আরও গঠনমূলক হতে হবে, কিভাবে ভালো কাজ করা যায় আমায় সে ব্যাপারে পরামর্শ দিন। আজ যদি কাজ না করতে পারি তবে কবে করব? কাজ না করলে ক্ষমা করবে না নতুন প্রজন্ম।

এরপর বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেনার পাহাড় মাথায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলাম। ৫ বছরে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছি। ৯৪ হাজার কোটি টাকা দেনা মেটাতেই চলে গেছে। সর্বশিক্ষা, ICDS, জঙ্গলমহলের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। ঠিকমতো প্যাকেজ দিচ্ছে না। রাজ্যগুলি ঋণের ফাঁদে জড়াচ্ছে কেন্দ্র”। পাঞ্জাব, বাংলা, কেরালার মতো কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণে জর্জরিত রাজ্যগুলিকে নিয়ে একটি পৃথক আলোচনা সভা করার আহ্বান করেন তৃণমূল নেত্রী। বাংলাকে বিশ্বসেরা করতে বিরোধীদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।