Latest News

September 18, 2026

‘গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়, অগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত কমিশনের’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়, অগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত কমিশনের’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না, নির্বাচন কমিশন এই রায় দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই পছন্দের নাম ও প্রতীক নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) পাঠিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার কমিশন সিলমোহর দেওয়ার পর প্রকাশ্যে আসে নতুন নাম ও প্রতীক। আগামী উপনির্বাচনে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকে লড়াই করবে দল। এরপরই বিকেলে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৈঠকের শুরুতেই নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আজ ব্ল্যাক ডে। গণতন্ত্রের কালো দিন। অসাংবিধানিক, পক্ষপাতদুষ্ট কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক। আমরা মাথা নত করব না, এর জবাব আমরা দেব। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছি না। যদি সত্যিই কেউ তৃণমূলকে ভালবাসত, তাহলে তৃণমূলের মা-কে কেড়ে নিত না। তৃণমূলকে মাতৃহারা করত না। জোড়াফুলটা রক্ত দিয়ে গড়া। অনেক সংগ্রাম দিয়ে গড়া। অনেক ভালবাসা দিয়ে গড়া। গদ্দাররা প্রমাণ করে দিল, তাঁরা তৃণমূলটাকে ভালবাসে না। জোড়াফুলটাকে ভালবাসে না। প্রত্যেকটা চোর-ডাকাত। যাঁরা করেছেন নিজের দায়িত্বে করেছেন। আমরা কোনওকিছুতে ঢুকিনি। আমার কাছে যা অভিযোগ আসত, সেই অনুযায়ী অ্যাকশন নিতাম। কিন্তু আমার অজান্তে যদি কেউ কিছু করে থাকে, তাহলে সেটা আমার দায়িত্ব নয়। আমি ভগবান নই। আমি মানুষ।”

তাঁর প্রশ্ন, ”২৮ বছরের দলের প্রতীক এভাবে কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া যেতে পারে? দলের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দিয়েছে। অনেক তো বেনামি রাজনৈতিক দল আছে, তাদের প্রতীক তো নিচ্ছে না। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমরা একদম তৃণমূল স্তর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন করি। আমাদের সব সাংগঠনিক নির্বাচন আমরা করেছি। তার রেকর্ড আছে, কমিশনকেও সব রেকর্ড দেওয়া আছে। তাও এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এটা ঠিক নয়।” কমিশনকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে।

মমতা আরও বলেন, “আমাদের কর্মীরা কাল সারারাত কেঁদেছে। আর তাঁরা নাচ করেছে। এটাই হল তফাৎ। মা যদি সন্তানকে হারায়, সন্তান যদি মাকে হারায়, সেই মা-ই বোঝে সন্তানের দুঃখ, আর সন্তানই বোঝে মায়ের দুঃখ। এরা বোঝে না। কারণ এরা এসছে তৃণমূলকে শেষ করার জন্য। চার মাস আগে যারা নির্বাচিত হল, আজ সেটা বেআইনি হয়ে গেল? এটা হতে পারে কখনও? আপনার ইমারত যে গড়ল, সেই ইমারতে আপনারা ঢুকতে দিচ্ছেন না? আপনাদের তো টাকার অভাব নেই। গাড়ির অভাব নেই। কে সাপ্লাই দিচ্ছে?”

শুক্রবার সকালেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এরপরই বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসকে সমর্থন প্রসঙ্গে নেত্রী জানান, ‘‘রাহুলজি গতকাল (শুক্রবার) কল করেছিলেন। আমরা সকলে একসঙ্গে আছি, আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমরা সমস্ত স্বাভাবিক জোটকে সমর্থন করব। আমাদের সিস্টার দলকে সমর্থন করব। আমরা অসমে কংগ্রেসকে সাহায্য করছি। ঠিক একই ভাবে আমরা ঠিক করেছি নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করব। দেশের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল। এটা আমি রাহুল গান্ধীকে জানতে দিইনি, এটা তো পার্টির সিদ্ধান্ত, ও আমাকে ফোন করে বলেছে যে কোনওরকম হেল্প করবে, তাই মনে মনে রেখেছিলাম। সারপ্রাইজ! কংগ্রেস এই বিষয়ে কিছু জানত না। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের জন্য সমর্থন। । ওদের প্রার্থী ভালো, সেই জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব।”

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই বিজেপি দেশ থেকে সরে যাক। আমরা শক্তভাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গেই রয়েছি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গতকালই আমাকে ফোন করেছিলেন। এই উপনির্বাচনে আমরা আমাদের সিস্টার পার্টি এবং প্রাকৃতিক মিত্রদের সমর্থন করতেই পারি।”

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দলীয় নাম এবং প্রতীক হারানোর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর দায়ের করা মামলা সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে গৃহীত হয়েছে। আসন্ন উপনির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানান মমতার আইনজীবী তথা প্রবীণ সাংসদ-আইনজীবী কপিল সিবাল। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই মামলাটি শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।