পার্টির সম্বন্ধে


অসংখ্য আন্দোলনের সৈনিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পেরেছিলেন সিপিএম এর বর্বরতার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরও কঠোর ও ঘনীভূত করতে দরকার একটি আলাদা মঞ্চ। কংগ্রেস প্রতিটি পদে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৮ সালের ১লা জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাবনার সূত্র ধরেই।

mamta banerjee

সময়টা ছিল একাদশ ও দ্বাদশ লোকসভার সন্ধিক্ষণ। একজন সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনীতিক হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছিলেন, এটাই হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ্য সময়। এতেই বোঝা যাবে ভোটারদের মনের কথা। যারা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ গুনমুগ্ধ হয়ে দেখে চলেছিল। জানুয়ারি ১, ১৯৯৮ গঠিত হল তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলায় নিঃশব্দ আন্দোলন চলছে, জনগণ নতুন করে ইতিহাস লিখতে চলেছে, শুরু হতে চলেছে এক নতুন যুগ। ভাব ব্যক্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজেই এঁকে ফেললেন নতুন দলটির লোগো, ঘাসফুল।  তার মনে হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন যদি তাঁর পরিকল্পিত লোগোটি অনুমোদিত করে, তাহলে দুটি লাভ হবে। প্রথমত নতুন দলটি গঠিত হবে এবং দলটির প্রাথমিক দর্শন, ধর্মনিরপেক্ষতা, একই বৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু মুসলমান, একজন তাঁর নয়নমণি অন্যটি তাঁর

the-party-banner2

প্রাণ- এই তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের লোগো অনুমোদিত করলো কিন্তু সঙ্গে একটি অনুবিধি জুড়ে দিল যে, দ্বাদশ লোকসভা নির্বাচনে নতুন দলটি যদি ৬ শতাংশের নীচে ভোট পায় তাহলে দলের প্রতীক বাতিল করা হবে। দ্বাদশ লোকসভায় ৬ শতাংশের অনেক বেশি ভোট পেল নতুন দলটি। জন্ম হল তৃণমূল কংগ্রেসের। একটি নতুন দল গড়ে জনগণের কাছে ভোট দেওয়ার প্রার্থনা করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণের কাছে নিজে গিয়ে বলেছিলেন তাঁর দলকে ভোট দিলে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস অবধি তিনি তাঁর সঙ্গে থাকবেন। জনগণ তাঁকে বিশ্বাস

করেছে, তাঁর পাশে থেকেছে। তারাই তাঁকে দক্ষিণ কলকাতা থেকে নির্বাচিত করে লোকসভায় পাথায়। তাঁরা এখনও তাঁর পাশেই আছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর কথা রেখেছেন। সর্বদাই তিনি তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের জনগণের পাশে আছেন সুখে-দুখে সবরকম আয়োজনে। সংগ্রামের কোনও শেষ নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের প্রতিটি ধাপে। সব সময়েই বিরোধীপক্ষের থেকে চরম বিরোধিতা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনও অসহযোগই তাঁর ১৪ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনকে নত করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে সিপিএমের বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলন। তাঁর ওপর অমানুষিক অত্যাচার। কিন্তু কোনোদিনই তিনি যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যাননি।