মা, মাটি, মানুষ


পিছিয়ে পড়া মানুষেরা কিভাবে নিজেদের হৃতগৌরব পুনরোদ্ধার করবেন? একদা যাদের সাফল্য, সমৃদ্ধি ও কৃতিত্ব সারা বিশ্বে বহুচর্চিত ছিল, তারা বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা ও হতাশা থেকে কিভাবে নিজেদের উদ্ধার করবেন?

মুক্তির পথ অতীতকে ছোট করে দেখলে মিলবে না। কিংবা কোনো বিদেশী আদর্শকে চোখ বন্ধ করে অনুসরণ করে গেলেও পাওয়া যাবেনা মুক্তি।

আমাদের নিজেদের স্বতন্ত্রতা ও ভারতীয়তাকে উপলব্ধি করতে হবে আমাদের। আমাদের দেশ আমাদের মাতৃভূমি। দেশকে আমরা মাতৃ রূপে বন্দনা করি। এই দেশভক্তিই আমাদের বহু বছরের বৈদেশিক শাসনকে উত্খাত করতে সাহায্য করেছিল। বন্দে মাতরম – এই দুই শব্দে দীক্ষিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন।

জাত, ধর্ম, মতবাদ নির্বিশেষে মানুষ নিজেদের দেশমাতৃকার সাধনায় নিয়োজিত করেছিলেন। মঙ্গল পান্ডে থেকে শুরু করে বাহাদুর শাহ জাফর, বিরসা মুন্ডা, রানী লক্ষ্মী বাই, বেতাজি সুভাস চন্দ্র বসু, বাল গঙ্গাধর তিলক, কিংবা ভগত সিং – সকলেই উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন ভারতমাতার সন্তান হিসেবে নিজেদের কর্তব্যপালনে।

দুর্ভাগ্যের কথা হল আমরা আদর্শচ্যুত হয়েছি, স্বাধীনতা আন্দোলনের আখ্যান থেকে বিস্মৃত হয়েছি। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির খাতিরে একতার পথ থেকে সরে এসছি আমরা। আজ আমাদের সমাজ দুর্নীতিগ্রস্ত, সংকীর্ণমনা ও অলস।

এই দুর্দিন থেকে নিজেদের পরিত্রাণ করতে আমাদের আবার দেশমাতৃকার স্মরনাপন্ন হতে হবে। আবাহন করতে হবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্দে মাতরম-এর। এই গানটির সুর করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং।

ma-mati-manush-didi

বন্দে মাতরম্৷
সুজলাং সুফলাং
মলয়জশীতলাম্
শস্যশ্যামলাং
মাতরম্!

শুভ্র-জ্যোত্স্না-পুলকিত-যামিনীম্
ফুল্লকুসুমিত-দ্রুমদলশোভিনীম্,
সুহাসিনীং সুমধুরভাষিণীম্
সুখদাং বরদাং মাতরম্৷৷

সপ্তকোটীকন্ঠ-কল-কল-নিনাদকরালে,
দ্বিসপ্তকোটীভুজৈধৃতখরকরবালে,
অবলা কেন মা এত বলে!
বহুবলধারিণীং
নমামি তরিণীং
রিপুদলবারিণীং
মাতরম্৷

তুমি বিদ্যা তুমি ধর্ম্ম
তুমি হৃদি তুমি মর্ম্ম
ত্বং হি প্রাণাঃ শরীরে৷
বাহুতে তুমি মা শক্তি,
হৃদয়ে তুমি মা ভক্তি,
তোমারই প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে৷

ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী
কমলা কমল-দলবিহারিণী
বাণী বিদ্যাদায়িণী
নমামি ত্বাং
নমামি কমলাম্
অমলাং অতুলাম্,
সুজলাং সুফলাং
মাতরম্

বন্দে মাতরম্
শ্যামলাং সরলাং
সুস্মিতাং ভূষিতাম্
ধরণীং ভরণীম্
মাতরম্৷