১৫ লক্ষ বিধবা ভাতা ও পেনশনের আবেদনে অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার

আজ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি জানান, উদ্বাস্তুদের যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্যের সব নার্সিংহোম এবং হাসপাতাল আবশ্যিক ভাবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, ১৫ লাখ বিধবা ভাতা ও পেনশনের আবেদনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু বিষয়:

উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে ৬০ বেডের হাসপাতাল ছিল, বেড সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫০ করা হচ্ছে

আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দুয়ারে সরকারের চতুর্থ পর্যায় চলবে। কিন্তু মানুষের আরও আগ্রহ, ইচ্ছাপ্রকাশ দেখে এবং যারা দেরিতে এই প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পেরেছেন, তাদের কথা মাথায় রেখে আরও এক দফায় এই কর্মসূচি চলবে। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুয়ারে সরকারএর ৫ম পর্যায়ের কর্মসূচি চলবে

এখনও পর্যন্ত দু’কোটির বেশি মানুষ ‘দুয়ারে সরকার’-এর শিবিরে হাজির হয়েছেন। ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনের কাজ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন

বিধবা ভাতা এবং পেনশনের জন্য ১৫ লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। ১০০ শতাংশ আবেদনেই অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার। আগামিকাল সেই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে

কথা দিয়েছিলাম উদ্বাস্তুদের যোগ্য মর্যাদা দেব। আমরা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা ধরে সার্ভে করে প্রতিটি কলোনিকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। গত দু’বছরে ২১৩ উদ্বাস্তু কলোনিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কোনও উদ্বাস্তু বাদ যাবেন না

৩০ হাজার পাট্টা দিয়ে দিয়েছি। ১২০০০ তৈরী আছে, যেকোনো সময় বিলি করা হবে। আরো ৩১ টি কলোনিকে অনুমোদন দিলাম ৩৮৪০ জন পাট্টা পাবে। অতএব ইতিমধ্যেই মোট ২ লক্ষ ৭৯ হাজার পাট্টা ইস্যু হয়েছে। মতুয়ারাও পাট্টা পাবেন, ইতিমধ্যেই অনেকে পেয়েছেন

আমাদের কাছে খবর এসেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু দফতর উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছিল। কিন্তু আমরা বলছি, কাউকে এ ভাবে উচ্ছেদ করা যাবে না। উদ্বাস্তুরা অধিকার মতো জমির পাট্টা পাবেন

মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়েছে প্রায় ২১ হাজার স্কুল

অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ, বই, জুতো দেওয়া হয়

১০০ শতাংশ স্কুলে মিড ডে মিল চালু যা কোভিডের সময়েও বন্ধ হয়নি

স্কুল ছুটের হার মোট ৯%

রাজ্যে ৪২২ টি সাঁওতালি মিডিয়াম স্কুল, ১৫৬১ টি হিন্দি মিডিয়াম স্কুল, ৪৮২ টি উর্দু মিডিয়াম স্কুল, ৩৬৭ টি নেপালি মিডিয়াম স্কুল, ৩৪ টি ওড়িয়া মিডিয়াম স্কুল, ২৫ টি তেলেগু মিডিয়াম স্কুল আছে

গত ২ বছরে ১২১ টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরী হয়েছে। এরাজ্যে মোট ৭৫০ টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে, আগামীদিনে আরও হবে

রাজ্যে তৈরি হয়েছে ৩০টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, ৫১টি নতুন কলেজ, ৭ হাজার নতুন স্কুল, ২৭২টি আইটিআই এবং ১৭৬টি পলিটেকনিক কলেজ

ঐক্যশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে ২.৪০ কোটি ছাত্রছাত্রী

শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে ৯০ লক্ষ তপশিলি ও আদিবাসী ছাত্রছাত্রী

স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ পেয়েছে ৫.৫০ লক্ষ

কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় ৭০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী

সিলিকন ভ্যালির জন্য এই এস এই কে অল্প মূল্যে নিউটাউনে জমি দেওয়া হয়েছে

‘স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নতুন রেট করতে বলা হয়েছে। একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। রেট ফ্লেক্সিবল করা হবে, যাতে সকলেই সুবিধা পান

নার্সিংহোম এবং হাসপাতালগুলিকে অনুরোধ করব সামাজিক সুরক্ষা দিতে। অনেকে সুবিধা পাচ্ছেন, আশীর্বাদ করছেন। ১০ হাজারে একটা ভুল হচ্ছে। ভুল সংশোধন করে নেওয়া হবে। আসল কথা কেউ বলছে না, যারা সুবিধা পাচ্ছে তাদের কথা বলছে না. সব কিছুতে রাজনীতি করা উচিত নয়

এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘‘সকল নার্সিংহোম এবং হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আবশ্যিক ভাবে থাকবে। যত খরচ হবে তার জন্য যাতে অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ থাকে সে ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। পর্যালোচনা করবে কমিটি।’’

সাতদিনের মধ্যে ১০,০০০ টাকা পাবে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ নবান্নে ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা পাবে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা। আজ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু বিষয়:

আগামী সাতদিনের মধ্যে রাজ্যের ৯ লক্ষ পড়ুয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছে যাবে

বাজারে একসঙ্গে ন’লাখ ট্যাব বা স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হচ্ছে। তাহলে পড়ুয়ারা নিজেদের পছন্দমতো ডিভাইস (ট্যাব বা স্মার্টফোন) কিনে অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারবে

সব পড়ুয়াদের আমার অনেক শুভেচ্ছা ও অভিন্দন

যারা যারা উপস্থিত, প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দেব

আমি ছাত্র রাজনীতি করেছি, ছাত্রদের কেউ মাথা নত করতে পারে না, ছাত্ররা স্বচ্ছ ও পবিত্র হয়, ১৮ বছর কোন বাধা মানে না

যে যেখানেই যাই না কেন, আমাদের অস্তিত্ব মনে রাখতে হবে। কোনওরকম সাহায্যে লাগতে পারলে, আগামীদিনে আরও ভাবব। ভবিষ্যতে যেখানেই থাকবেন, মাতৃভূমিকে ভুলবেন না

মিডিয়ার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়:‌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বুধবার বাইপাস সংলগ্ন ‘বরুণ সেনগুপ্ত সংগ্রহশালা’র উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথিতযশা সাংবাদিক তথা ‘বর্তমান’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বরুণ সেনগুপ্তের স্মরণে গড়ে উঠেছে এই মিউজিয়াম।

কলকাতা পুরসভার এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সংগ্রহশালাটি তিনতলা। এখানে রয়েছে দু’টি আর্কাইভ, একটি সেমিনার হল এবং একটি অডিটোরিয়াম। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান যুগের সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।

১৯৯৩ সালে ২১ জুলাইয়ের ঘটনার পর বরুণদার পরামর্শে একটি বিশেষ ফান্ড তৈরি করেছিলাম। সেই টাকায় একুশে জুলাইয়ের আহত এবং নিহতদের পরিবারবর্গকে সাহায্য করা হয়। কিছু টাকা ভূমিকম্পের জন্য দান করা হয়েছিল।

যখনই সমস্যায় পড়েছি, তখন বরুণদার পরামর্শ নিয়েছি।

কেউ কেউ সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে কিনে নিতে চাইছে। কিন্তু মাথা বিক্রি করে সাংবাদিকতা হয় না। বরুণদা সেই নির্ভীক সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এখনকার সময়ে দিল্লি থেকে কোনও নির্দেশ এলেই সকলের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সেই দিনগুলির পরিস্থিতি খুব আলাদা ছিল

সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষ এবং নির্ভীক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে

মাথা নত না করে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে হবে

যদি সংবাদপত্রকে অবাধে লেখার অনুমতি না দেওয়া হয় তবে কি কোনও গণতন্ত্র প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারে?‌’‌

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা যায় না

‌সংবাদপত্রের অধঃপতনের যুগ চলছে

আমি চাই আগামী দিনে সাংবাদিকদের জন্য ইনস্টিটিউশন বা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হোক

ধূপগুড়ির দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা রাজ্য সরকারের

ধূপগুড়ির দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা রাজ্য সরকারের

ধূপগুড়িতে মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনায় মৃত ১৪ জনের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পাশাপাশি দুর্ঘটনায় যারা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ৫০ হাজার ও যারা অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন তাদের ২৫ হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।

বুধবার পুরুলিয়ায় নতুন প্রকল্প উদ্বোধনের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। গতকাল রাতেই আমি খবর পেয়েছি। অরূপ বিশ্বাসকে পাঠিয়েছি। গৌতম দেব যাচ্ছেন। মৃত্যুর কোনও বিকল্প হয় না। সবাইকে বলব, এই শীতকালে কুয়াশা থাকার সময় সাবধানে গাড়ি চালানো উচিত। আর তাড়াহুড়ো করে জীবন না দিয়ে, একটু সময় লাগে লাগুক, ধীরে গাড়ি চালান।’

এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, ‘‌১৪ জন যারা মারা গিয়েছেন তাদের পরিবারকে আড়াই লাখ টাকা দেবে সরকার। দুর্ঘটনায় যারা গুরুতর জখম হয়েছেন তাদের ৫০ হাজার টাকা ও যারা অল্প আহত হয়েছেন তাদের ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’‌

 

বিজেপি মাওবাদীদের থেকেও ভয়ানক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ পুরুলিয়ার হুটমুড়া হাইস্কুল ফুটবল ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু বিষয়:

সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি

লোকসভায় ভোট নিয়ে পালিয়েছে দিল্লি। ভোটের আগে মন্ডা-মিঠাই, ভোটের পর কাঁচকলা। টাকা দিতে এলে নিয়ে নেবেন, আর ভোট দেবেন না

আগামী বিধানসভায় বিজেপি ক’টা আসন পাবে? অমিত শাহের ভয়ে বিজেপি-র সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম যা বলবে তার থেকে চার ডবল বেশি ভোট পাবে তৃণমূল

বিজেপি ফেক ভিডিয়ো ছাড়ে। বেনামি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে লোককে ভুল বোঝাচ্ছে

মাওবাদীরা অস্ত্র ফেলে মূলস্রোতে ফিরে আসছেন। তাঁদের চাকরি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনছি আমরা। বিজেপি মাওবাদীদের চেয়েও ঢের বেশি ভয়ঙ্কর। বিজেপির এক ছোবলেই সব শেষ। অজগর, ময়ালের চেয়েও বিষধর

১৫ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি পালন করেছে বিজেপি? ভোটের আগে ফের বাড়ি বাড়ি যাবে

একটা মেয়ে সিনেমা করে, তাকেও ধমকাচ্ছে। স্বাধীন ভাবে কথা বলার অধিকার নেই ওর? সায়নীকে ধমকাচ্ছে ওরা। এত বড় ক্ষমতা ওদের? উত্তরপ্রদেশে ধমকাও, বিহারে ধমকাও, বাংলায় এলে মুখে প্লাস্টার করে দেব। সায়নীর গায়ে হাত দিয়ে দেখাক। টলিউডের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক, ক্ষমতা থাকলে বাংলার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখাও

পুরুলিয়া কখনও বহিরাগতদের কাছে মাথা নত করেনি। বিজেপি এলে পুরুলিয়া আর রূপসী বাংলা থাকবে না। মাওবাদীদের থেকে বিজেপি আরও ভয়ঙ্কর’

বিজেপি শিখিয়ে পড়িয়ে পাঠায় কিছু লোককে। তাঁরা আমার প্রত্যেক সভায় ঝামেলা বাঁধান। আমার মিছিলে গোলমাল পাকাতে লোক পাঠায় বিজেপি। আমিও কিন্তু এ বার বিজেপি-র মিছিলে লোক পাঠাব

আমার কাছে যতটা টাকা আছে, ততটাই করতে পারি আমি। তার বেশি পারি না। বিনা পয়সায় রেশন দিতে কত কোটি টাকা খরচ হয় জানেন? আজ রেশন, স্বাস্থ্য, পড়াশোনা, জল, ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনা পয়সায় দিচ্ছি

আমি আপনাদের পরিবারের একজনই, আমি কিছু ঘোষণা করলে তা পূরণ করি।

আমরা চাই সারনা ও সারি ধর্মকে জনগণনায় মর্যাদা দেওয়া হোক। ইতিমধ্যেই এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকেচিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের তরফে

পুরুলিয়ায় জলের একটা সমস্যা আছে, সেটা আমি জানি। জাপানের জাইকা এখানে কাজ করবে। ওরা দেরি করছে। জাইকাতে ১৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা বিকল্পও ভেবে রেখেছি

লকডাউনে ভিন রাজ্যে কাজ হারিয়ে পুরুলিয়ায় ফিরে এসেছিলেন। প্রায় ১৯ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কাজ পেয়েছেন

জেলায় ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকরণ করা হয়েছে

জেলায় ৩৫ হাজার স্বনির্ভর দল সুবিধা পেয়েছে

২৬টি কর্মতীর্থ তৈরি করা হয়েছে।

ডানকুনি-অমৃতসর প্রকল্প রঘুনাথপুর পর্যন্ত চলে আসবে। সেখানে ফ্রেড করিডরে শিল্প তৈরি হবে। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। এছাড়াও জয়পুরের আঘরপুর মৌজায় ২২ একর জমিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি করা হচ্ছে

পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরে ডোম এবং কালিন্দি সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন, যাঁরা লোকসঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদেরও আগামী দিনে লোকপ্রসার প্রকল্পের আওতায় এনে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে

৩১৬ জন সাঁওতালি শিক্ষক এবং এক হাজারের বেশি পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে

নবম শ্রেণীর পড়ুয়ারা আগামী এক দেড় মাসের মধ্যে সবুজ সাথীর সাইকেল পেয়ে যাবে। আরও ২০ লক্ষ সাইকেল তৈরি করা হয়েছে

দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে আগামী দু’-একদিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে ঢুকে যাবে। তারা ওই টাকায় ট্যাব বা স্মার্ট ফোন কিনতে পারবে। পুরুলিয়ায় প্রায় ১২ হাজার ছেলে মেয়ে আছে যারা উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় পড়ে। তারা প্রত্যেকে ওই টাকা পাবে।

প্রাণিমিত্র, আশা থেকে আইসিডিএস সবাইকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে

অযোধ্যা পাহাড়কে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম সার্কিট গড়ে তোলা হয়েছে। পুরুলিয়া জেলায় কত সিনেমা ও সিরিয়ালের শ্যুটিং হচ্ছে। পুরুলিয়ায় আরও প্রচুর সংখ্যক হোটেল তৈরি হোক। পুরুলিয়াতেই পর্যটনে বিনিয়োগ আসুক।

পুরুলিয়ায় কুর্মি, মাহাত সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। মানভূম কালচারাল অ্যাকাডেমিও তৈরি করা হয়েছে

পাঁচতারা হোটেল থেকে খাবার এনে, দলিতদের সরিয়ে দিয়ে তাদের বাড়িতে খাবার খাওয়ার নাটক করছে। দলিতের ঘরে নাকি খাচ্ছে, ওদিকে বোতলে হিমালয়ের মিনারেল ওয়াটার। আমরা কিন্তু সরকারের তৈরি ৬ টাকা বোতলের জল খাই। আর ওরা কাঁসার থালায় ফাইভ স্টার হোটেল থেকে খাবার আনিয়ে খেয়ে পগার পার

খাবার খাওয়ার আগে টাকা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও, টাকা না দিয়েই পালিয়ে যায়। দলের কর্মীদের বলব, ওদের খাওয়ার টাকা না হয় গরিব মানুষদের আমরাই টাকা দিয়ে দেব। দরকার পড়লে নিজেদের মাইনে থেকে টাকা দেব

রাজনীতিতে তিন ধরনের লোক থাকে, একজনরা লোভী, আর এক জনরা ভোগী আর এক ধরনের লোক আছেন, যাঁরা ত্যাগী। আপনারাই হলেন ত্যাগী। ত্যাগীদের বাড়িতে গিয়েই এ বার ভোট চাইছে। আমি বলছি, টাকা দিতে এলে নিয়ে নেবেন। মাংস কিনে খাবেন। ওটা আপনাদেরই টাকা। কিন্তু ভোট দেবেন না

সংখ্যালঘুদের ভাগাভাগি করে ভোট কাটতে চাইছে বিজেপি। না হলে জেলে ঢোকানোর হুমকিও দিচ্ছে

হরিয়ানা, পঞ্জাব, দিল্লিতে রাস্তায় পড়ে থেকে লড়াই করছেন কৃষকরা। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে এই কৃষকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লডা়ই করেছিলাম। কৃষকরা আমাদের গর্ব। সেই কৃষকদের সঙ্গে এমন আচরণ

পুলওয়ামা বেরিয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে আরও অনেক কিছু বেরোবে

বিজেপির কারাগার, ভেঙে করো চুরমার

মা-বোনেরা প্রস্তুত হন। আপনারা ছেলেকে মারতে এলে, আপনাদের ধমকাতে এলে, হাতা-খুন্তি নিয়ে এগিয়ে যাবেন। দু’টো থাপ্পড় কষিয়ে দেবেন। বাংলাকে বিক্রি হতে দেবেন না, বাংলাকে পরাজিত করতে চায় বিজেপি, বাংলাকে বিক্রি হতে দেব না আমরা। বিজেপি-র কাছে মাথা বিক্রি করব না

রোজ রোজ শাড়ি বদলানো যায়, কিন্তু রোজ রোজ চরিত্র এবং আদর্শ বদলানো যায় না

লোভী আর ভোগীরাই দল ত্যাগ করছে, এঁদের দলবদলে আপদ বিদায় হচ্ছে

আমি বেঁচে থাকতে বাংলাকে বিক্রি করতে দেব না: নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী

আজ নন্দীগ্রামে তেখালির মাঠে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি নন্দীগ্রাম সংঘর্ষে ১০ জন নিখোঁজের প্রত্যেক পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু বিষয়:

  • তেখালি ব্রিজের সামনে গুলি করেছিল, সেই সব ঘটনা একটু স্মরণ করা যাক. নন্দীগ্রাম আন্দোলন তৈরি হয়েছিল সিঙ্গুর থেকে। আমি তখন রাস্তায় বসে অনশন করছি। অনেকে বড় বড় কথা বলে কিন্তু আন্দোলন তৈরি হয় সিঙ্গুর থেকে
  • তাপসী মালিক কে পুড়িয়ে হত্যা করা হল
  • আমি ২৬ দিন অনশন করেছিলাম
  • আমার আন্দোলনের ফলে কেন্দ্রীয় সরকার বাধ্য হয়েছিল বলতে, কৃষিজমি জোর করে দখল করা যাবে না, আমি আইনটাকে বদলে দিয়েছিলাম
  • আমার শরীর খারাপ হয়, ২ টো অপারেশন করতে হয়, তারপর ও আমি চিকিৎসকদের নিষেধ না শুনে আসছিলাম নন্দীগ্রামে, কোলাঘাটের কাছে পেট্রোল বোমা দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিল
  • আমাকে তৎকালীন রাজ্যপাল ফোন করে বললেন আমি যেন ফিরে যাই , আমাকে মারার জন্য সবাই ব্যবস্থা করে রেখেছে
  • আমার গাড়িতে ২-৩টি বুলেট এসে লেগেছিল, নানাভাবে আটকানোর চেষ্টা চলেছিল, সব বাধা পেরিয়ে নন্দীগ্রাম পার হই। তখন কাউকে দেখতে পাইনি
  • আমি কারও কাছে জ্ঞান নেব না, সূর্যোদয়ের পর সিপিএম এখানে মিডিয়াকেও ঢুকতে দেয়নি। আমি বসে বসে পাহারা দিতাম
  • রক্তস্নাত সেই দিনগুলির কথা ভুলতে পারিনি আজও, আমিই লিখেছি, নন্দী মা। নন্দীগ্রাম নিয়ে আমার বই আছে, কবিতা আছে।
  • নন্দীগ্রাম থেকে হলদিয়া যোগাযোগের জন্য রাস্তা-ব্রিজ করা হবে
  • নন্দীগ্রামে একটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট সেটাও করে দেওয়া হবে, এর ফলে কর্মসংস্থান হবে
  • চণ্ডীপুর ও নন্দকুমার ব্লকে ৭০ হাজার পরিবারে বাড়ি বাড়ি জলের কল পৌঁছতে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে
  • নন্দীগ্রামে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করা হয়েছে, এই জেলায় ৭ টি কিষান মান্ডি হয়েছে
  • নন্দীগ্রামে নিখোঁজ ও শহিদ পরিবারকে পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার
  • যদি কোনও সমস্যা হয়, সরাসরি দুয়ারে সরকারে যাবেন, তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে
  • আজ দেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলন করছে, আমরা তাদের সমর্থন করি।  বিজেপি ফসল চুরি করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রকে ৩ টি আইন প্রত্যাহার করতে হবে,  দরকার হলে আবার কৃষক আন্দোলনে আমরা অংশ নেব। ‘কৃষি আইন প্রত্যাহার না করলে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো করে দেখাব’
  • নন্দীগ্রামের সাথে আমার আত্মার টান, ১৪ই মার্চ আমরা কৃষক দিবস পালন করি
  • বুদ্ধ জয়ন্তীতে রঘুনাথ মুর্মু র জন্মদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা হল
  • কেউ কেউ ‘ইধার-উধার’ করছে, অত চিন্তা করার কারণ নেই। আগে তো সুপ্রকাশ গিরিকে লড়, তারপর তৃণমূল কংগ্রেসকে লড়বে।
  • রাজনীতিতে তিন ধরনের লোক হয়, একদল লোভী, একদল ভোগী, আর একদল ত্যাগী। যারা ত্যাগ করতে জানে তারা কোথাও যাবে না। ত্যাগীরা শত প্রলোভনে মায়ের কোল ছাড়ে না
  • আর একদলের প্রচুর সম্পত্তি, প্রচুর টাকা। সেই টাকা রক্ষা করতে তারা দল ছাড়ছে। বিজেপি নেতারা বলছে, হয় জেলে নয় ঘরে। তৃণমূল করলে জেলে ভরব, বিজেপি ওয়াশিং মেশিন। কালো হয়ে ঢুকবে, সাদা হয়ে বেরিয়ে আসবে।
  • তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই এত সহজ নয়, তৃণমূলের কংগ্রেসের জন্মদিনে তোমরা ছিলে না
  • ‌‌ফেক নিউজ ছড়ায় বিজেপি, সব হোয়াটস অ্যা‌প বিশ্বাস করবেন না। লোকসভা ভোটের সময় পুলওয়ামা গেম প্ল্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল
  • কেউ কেউ সার্ভে উল্টে দিচ্ছে, যারা সার্ভে করছে, বিজেপির নেতারা তাদের সেই সংখ্যা বদলে দিচ্ছে আর সংবাদমাধ্যম ভয়ে চুপ. কতদিন চুপ থাকবেন? ভয় দেখিয়ে জনমানুষের অভিব্যক্তি চেপে রাখতে পারবেন না
  • আমি সব জানি ভেতরকার গেম প্ল্যান। আসল সমীক্ষায় আছে তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন পাবে। বিজেপি পাবে মাত্র ৫১টা। সব ভিডিও বিশ্বাস করবেন না। ফেক মানে ভেক। ভেকধারীরা নাটক তৈরি করে তা ছেড়়ে দিচ্ছে, মানুষ বিশ্বাস করছে। বিজেপি হাজার হাজার কোটি টাকার মানুষ, মিথ্যে কুৎসা রটায়।
  • নন্দীগ্রামের শহিদদের কোনওদিন ভুলিনি, ভুলব না। অত্যাচার, অনাচারকে সহ্য করে যেভাবে আপনার আন্দোলন করেছিলেন, তার কোনও তুলনা হয় না
  • আমায় ২৯৪ টি সিটেই লড়তে তবে, আমি নিজেই যদি নন্দীগ্রামে ভোটে দাড়াই কেমন হয়? আমি ভবানীপুরকেও অবহেলা করছি না
  • নন্দীগ্রাম থেকেই তৃণমূলের জন্ম, এটা আমাদের লাকি জায়গা তাই ঘোষণাটা এখন থেকেই শুরু করলাম। নন্দীগ্রাম থেকেই ২০২১-এ জেতার পালা শুরু হল

 

করোনা পরিস্থিতিতে ভাল পরিষেবার জন্য ‘স্কচ অ্যাওয়ার্ড’ পেল বাংলা

কোভিড মোকাবিলা এবং জনপরিষেবায় অসাধারণ কাজের সুবাদে আরও একবার জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত বাংলার সরকার। এই দুই বিভাগে ‘স্কচ গোল্ডেন’ অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলা।

গত ১৬ই জানুয়ারি পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা হয়েছে আর সেখানেই করোনা কালে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা খুব ভাল কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রশংসনীয় কাজ করেছে রাজ্য সরকারের পরিবহণ সংস্থা।

এর আগেও নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘স্কচ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। এবার সেই মুকুটে যোগ হল আরেক পালক। কোভিড পরিস্থিতিতে ও লকডাউন পর্বে জরুরি ভিত্তিতে পরিবহণ ব্যবস্থাও কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, তা নিয়েও একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্মী, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করা তার মধ্যে অন্যতম।

জনপরিষেবার জন্য বাংলা ‘স্কচ অর্ডার অফ দ্য মেরিট’ পুরস্কার লাভ করেছে এবং SBSTC’র মাথায় উঠেছে ‘স্কচ গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’।

আদিবাসী, তফসিলিদের দ্রুত সার্টিফিকেট প্রদান, ‘দুয়ারে সরকারে’র সাফল্যে টুইট মুখ্যমন্ত্রীর

কর্মসূচি শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগেই টার্গেট পূরণে রেকর্ড গড়ে চলেছে রাজ্য প্রশাসনের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। আজ টুইট করে ফের সেই সাফল্যের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।

টুইটে তিনি লেখেন, ”১ মাসেরও কম সময়ে, রাজ্যের তফসিলি, আদিবাসী এবং অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের মধ্যে ১০ লক্ষেরও বেশি SC/ST/OBC সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়েছে।” এরপর তিনি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রাজ্যবাসীর একেবারে দোরগোড়ায় সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা পৌঁছে দিতে ডিসেম্বর মাস থেকে দু’মাস ব্যাপী এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। দেড় মাসের মধ্যে ২ লক্ষ মানুষ এই শিবিরে এসে সুবিধা পেয়েছেন। তাদের নানা সমস্যার সমাধান হয়েছে

‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির মাধ্যমেই যাতে রাজ্যের প্রত্যেক আদিবাসী, তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এই সার্টিফিকেট পৌঁছে যায়, সেই নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে কাজ দ্রুতই হচ্ছে। এক মাসেরও কম সময়ে ১০ লক্ষ এসসি, এসটি, ওবিসিদের হাতে এসেছে জাতিগত শংসাপত্র।

স্বামীজি কারও একার নন, উনি সবার: মুখ্যমন্ত্রী

বাবুঘাটে গঙ্গাসাগরের মেলার শিবিরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বিবেকানন্দের জন্মদিনের আগের দিনই তাঁর ছবিতে ফুল ও মালা দেন। এদিন বাবুঘাটের গঙ্গাসাগরের শিবির থেকেই মুখ্যমন্ত্রী কাশীপুর এবং গঙ্গাসাগর অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু বিষয়:

হিন্দু ধর্ম কি এবং এই ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের মিল কোথায় এই নিয়ে শিকাগোতে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, উনি প্রথম ব্যক্তি যিনি আমেরিকায় গিয়ে হিন্দুস্থান এর মাথা উঁচু করেছিলেন

বিবেকানন্দ কারও একার নয়, উনি আমাদের সকলের

বিবেকানন্দই হলেন দেশের প্রকৃত নেতা। তাঁর আদর্শ নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বহু সমস্যার মুখে পড়েছে আমাদের দেশ। সেই পরিস্থিতি অতিক্রমও করে এসেছি। তবু দেশকে ভাঙতে পারেনি কেউ। এ দেশকে ভাঙতে দেব না।

দেশের নানা সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু দেখতে হবে মানুষের মধ্যে যেন কোনও বিভাজন না থাকে। দেশকে এক রাখার জন্য আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে

ভারতের মণীষীরা কারও একার সম্পত্তি নন। তাঁরা সকলের। তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তাঁরা কোনও জাতি বা ধর্মকে ছোট করে দেখেননি। সকলকে নিয়ে চলতে শিখিয়েছেন

সবচেয়ে কঠিন গঙ্গাসাগর যাওয়া। কারণ কুম্ভমেলায় যাওয়ারও রেলপথ আছে। শুধু গঙ্গাসাগর জল পেরিয়ে যেতে হয়

গঙ্গাসাগর মেলার সঙ্গে মানুষের ভাবাবেগ জড়িত। পরিস্থিতির প্রয়োজনে ছোট করেই মেলার পক্ষপাতী, কিন্তু বন্ধ করা যাবে না কারণ এটা আমাদের সেন্টিমেন্ট

গঙ্গাসাগরে এখন অনেক পরিষেবার উন্নতি হয়েছে। তাই এখন গঙ্গাসাগরে এখন বারবার যাওয়া যায়। প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ আসেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে

আগে গঙ্গাসাগর যেতে হলে ট্যাক্স দিতে হত আমরা বন্ধ করেছি

১২ই জানুয়ারি -১৭ই জানুয়ারি তারিখের মধ্যে কোন দুর্ঘটনা হলে (যেন না হয়) প্রত্যেকে ৫ লক্ষ টাকা করে বীমা পাবে

আমাদের মন্ত্রীরা ওখানে থাকবেন যাতে মানুষের কোন অসুবিধা হয়, আমায় ঘন্টায় ঘন্টায় তারা রিপোর্ট দিচ্ছেন

তাড়াহুড়ো করবেন না, পুলিশের সিস্টেম ফলো করুন

আমরা ওখানে থাকার ব্যবস্থা, হাসপাতাল, এম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করেছি। ই-স্নানের ও ব্যবস্থা করা হয়েছে

মতুয়ারা বাংলার নাগরিক: মুখ্যমন্ত্রী

আজ নদিয়ায় জনসভায় বক্তব্যে রাখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে। এ দিনেই সভা ছিল রানাঘাট মহকুমার হাবিবপুরের ছাতিমতলায়।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু বিষয়:

নদিয়ায় চৈতন্য মহাপ্রভুর জায়গা যেমন আছেন, তেমন এখানে রাশ যাত্রা, সব পুজো হয় তেমন এখানে অনেক চার্চ আছে

ইস্কন মন্দিরে একটি ধর্মীয় শহর হবে, সেজন্য রাজ্য সরকার ৭০০ একর জমি দিয়েছে। আগামী দিনে এটি নদিয়া জেলার বড় পর্যটন কেন্দ্র হবে

আমরা কল্যাণীতে ট্রিপল আই টি হয়েছে, অল ইন্ডিয়া মেডিকেল ইনস্টিটিউট তৈরি করার জন্য বিনামূল্যে সম্পূর্ণ জমি দেওয়া হয়েছে

মসলিন তীর্থ করা হয়েছে। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া নেই

আগে কাজ হত না, রাজনীতি হত। আগে এখানে শুধু লোডশেডিং হয়ে যেত, হাসপাতালে কোন চিকিৎসা হত না। আজকের প্রজন্ম জানে না লোডশেডিং কী, আমরা বলতাম, সিপিএমের কোলে, লোডশেডিং দোলে। কিন্তু এখন আর লোডশেডিং নেই।

গতবার রাণাঘাটে এক কর্মী (সত্যজিৎ বিশ্বাস) খুন হয়, তার স্ত্রী কে আমরা প্রার্থী করেছিলাম, কিন্তু জেতাতে পারিনি। জিতলো এমন এক মহামানব যার কুকীর্তি সবাই দেখতে পাচ্ছে

তৃণমূলে গেলে কালো আর বিজেপিতে গেলেই সাদা হয়ে যাচ্ছে। বিজেপিতে গেলেই ওয়াশিং মেশিন হয়ে যাচ্ছে। মিথ্যে বলার জুড়িদার কেউ নেই ওদের মতন।

‘কালো’ টাকা ‘সাদা’ করতেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কয়েকজন নেতা। সঙ্গে তাঁদের টাকা গচ্ছিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাই বিজেপিকে ‘ভারতীয় জাঙ্ক পার্টি’. কেউ টাকা আত্মসাৎ করে বিজেপিতে যোগ দিলেই তাঁদের দোষ মাফ হয়ে যায়।

নির্বাচন এলে বলবে, চাকরি দেব, টাকা দেব, মতুয়াদের নাগরিক করে দেব আর নির্বাচন হয়ে গেলে পালিয়ে যাবে

আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বলছি মতুয়ারা সবাই বাংলার নাগরিক. আমরা সবাই নাগরিক। বিজেপি সরকার একটা বিল করেছে। বলছে, আমরা মায়ের জন্ম কবে বলতে হবে। আমার ঠাকুরদাদার জন্ম কবে বলতে হবে। আপনি যদি তা না বলতে পারেন, তা হলে আপনি এ দেশের নাগরিক নন। আপনাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেবে। যারা এসব বলছে, নির্বাচনের মাধ্যমে, গণতন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের আমরা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেব।

আমরা মা মাটি মানুষের সরকার, আমরা সবার জন্য কাজ করি, কোন ভেদাভেদ নেই। আমরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা এন আর সি , এন পি আর করতে দেব না, এটা আমাদের পলিসি ডিসিশন

১ লক্ষ ছেলেমেয়েদের বিনা পয়সায় সাইকেল দেওয়া হয়েছে। আরও ২০ লক্ষকে এই জানুয়ারি মাসে দেওয়া হবে

১২ লক্ষ ট্যাব বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে ১০০০০ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে

দুয়ারে সরকার কর্মসূচীতে ২ কোটি মানুষ গেছেন। এর মধ্যে ৬০% মানুষ পরিষেবা পেয়ে গেছে

শুধুমাত্র নদীয়া জেলায় ৯.৮৭ লক্ষ মানুষ এসেছেন ১২০০ শিবিরে। রানাঘটাই ২.২৫ লক্ষ মানুষ এসেছেন। ৯০% মানুষ পরিষেবা পেয়ে গেছে

কেউ জানেন হরিয়ানায় কী চলছে? কৃষকদের উপর জুলুম চলছে। দিল্লির দাঙ্গায় কতজন মারা গেছে?

কিসের আয়ুষ্মান? ওরা ৬০ টাকা দেবে ৪০ টাকা আপনাকে দিতে হবে। আর স্বাস্থ্যসাথীতে ১০০ টাকায় সরকার দেবে। স্বাস্থ্যসাথী আমার সাথী, আমি নিজেও সদস্য হয়েছি। ওই কার্ডটার দাম ৫ লক্ষ টাকা।

অনেক বড় বড় হাসপাতাল আছে কখনও কখনও বলে দেয় আমরা স্বাস্থ্যসাথী করব না। আমরা তাদের সঙ্গে মিটিং করে বলে দিতে চাই করতেই হবে

আমরা জেলার ছোট ছোট নার্সিংহোমকে বলছি স্বাস্থ্যসাথী নিতে। যদি কেউ চিকিৎসা না দেয় সরকারের হাতে লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা আছে, এটা গরীবদের প্রকল্প, তাদের যেন হয়রানি করা না হয়

স্বাস্থ্যসাথীর নামে কেউ হয়রানি করলে থানায় গিয়ে ডায়েরি করবেন, এফআইআর করবেন। বললেন মমতা।

দেশভাগের পর থেকে উদ্বাস্তুরা এসেছেন, এতদিন তাঁদের কথা কেউ চিন্তায় করেনি। ১৯৮৭ সালে আমি উদ্বাস্তুদের জমির দলিল করিয়েছিলাম

উদ্বাস্তুরা যে যেখানে যেমনভাবে আছেন, সে সেখানে তেমন ভাবেই পাট্টা পাবেন। ৯৬টি কলোনি পাট্টা পেয়ে গিয়েছে। ২১৩টি রিফিউজি কলোনি ১.৫ লক্ষ পরিবারকে পাট্টা দেওয়া হবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বললেন মমতা। উদ্বাস্তুরা যে যেখানে যেমনভাবে আছেন, সে সেখানে তেমন ভাবেই পাট্টা পাবেন। ৯৬টি কলোনি পাট্টা পেয়ে গিয়েছে। ২১৩টি রিফিউজি কলোনি ১.৫ লক্ষ পরিবারকে পাট্টা দেওয়া হবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কার্যকরী ও হবে। আমি চাই বাংলায় একটাও উদ্বাস্তু পরিবার থাকবে না, পাট্টা পাবে না

নদীয়া জেলায় ৫০০০ পরিবারকে পাট্টা দেওয়া হবে

আই সি ডি এস এর পুরো টাকা এখন রাজ্য দেয়, মাইনেও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে

বিনা পয়সায় চাল, বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য, বিনা পয়সায় শিক্ষা। পৃথিবীতে এরকম একটা রাজ্য দেখান তো। দেখালে আমি নাকে খত দিয়ে বেরিয়ে চলে যাব। রাজনীতি করব না। আমার কাছে রাজনীতির চেয়ে মানবিকতা বড়

আমরা সবাই নাগরিক। বিজেপি সরকার একটা বিল করেছে। বলছে, আমরা মায়ের জন্ম কবে বলতে হবে। আমার ঠাকুরদাদার জন্ম কবে বলতে হবে। আপনি যদি তা না বলতে পারেন, তা হলে আপনি এ দেশের নাগরিক নন। আপনাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেবে। যারা এসব বলছে, নির্বাচনের মাধ্যমে, গণতন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের আমরা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেব

আমিও অনেক সময় গরিব মানুষের বাড়িতে যাই, কখনও চায়ের দোকানে যাই, খাবার দোকানে যাই। কিন্তু নাটক করি না। যে অবস্থায় আছি, সেই অবস্থায় যাই। ধুলো অবস্থায় যাই। আর এঁরা সেজেগুজে ফাইভ স্টারের খাবার নিয়ে প্রাইভেট প্লেনে করে এসে মিনারেল ওয়াটার খায়।

আমি যে জল খেলাম। সেটা ‘প্রাণধারা’। এটা আপনাদের এখানেই হয়। এটার দাম ৬ টাকা। এটা যে কেউ খেতে পারেন। আর একটা ‘হিমালয়’-এর বোতলের দাম কত? দেখবেন খাচ্ছে, পাশে জলের বোতল রাখা আছে। এত সহজ! জিন্দেগি এত সহজ নয় রে ভাই! জিন্দেগী কামিয়াবি করার জন্য পথের ধুলোয় নামতে হয়। বিজেপিকে তোপ মমতার।

রাস্তার ধুলো তোমাদের গায়ে লাগে না। তোমরা মানুষ খুন করে কালিমালিপ্ত হও। তোমরা মানুষকে ভালোবাস না। আর মিথ্যে কথা বলো। মিথ্যে কথার অমাবস্যা

২০১৪ র নির্বাচনের আগে বলেছিলো ১৫ লক্ষ টাকা দেবে। ২ কোটি লোকের চাকরি দেবে বলেছিল। তার বদলে ৪০% লোক বেকার হয়ে গিয়েছে। রেল, এয়ার ইন্ডিয়া, বিএসএনএল, ব্যাঙ্ক বিক্রি করে দিয়েছে। আপনার টাকা আপনি পাবেন কিনা জানেন না

পুরো ভারতবর্ষ ভেঙে পড়েছে। একবার করল নোট বন্দি, আরেক বার কোভিডে আমরা হলাম গৃহবন্দি, এর পর করবে জেলবন্দি। তারপর ভারতবর্ষটাকেই বন্দি করে রেখে দেবে। যেমন ট্রাম্প করছে। ট্রাম্প হেরে গিয়েই বলছে, আমি জিতেছি। ওরা তাই হেরে গিয়েই বলবে হাম জিতা হ্যায়। কোনও পার্থক্য নেই। একই জিনিস, কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ। ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীকে একাসনে বসিয়ে আক্রমণ মমতার
আমরা বাজে কথা বলি না, কাজে করে দেখাই

উদ্বাস্তু কলোনিতে শুধু জমির দলিল দেওয়া নয়। আমরা তাঁদের ওখানে রাস্তাঘাট, জল, নিকাশির মতো পরিকাঠামো উন্নয়ন আস্তে আস্তে দেব

বাংলায় যা শিল্প তৈরি হচ্ছে। তাতে আগামিদিন বাংলায় লক্ষ লক্ষ কাজ তৈরি হবে। কারও বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই কাজগুলো শুরু হয়ে গিয়েছে। করতে ২-৩ বছর সময় লাগবে

আমরা ৩০০ ট্রেনে করে ৩০ কোটি খরচ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় নিয়ে এসেছিলাম। কেন্দ্র এক টাকাও দেয়নি। প্রায় ৫০০০ পরিযায়ী শ্রমিককে আমরা কাজ দিয়েছি

বহিরাগতরা এসে টাকা দিলে নিয়ে নেবেন। একদম হজম করে দেবেন। ওটা জনগণের টাকা। ওদের টাকা নয়। খেয়ে নেবেন একদম। কার টাকা কাকে দিচ্ছে। মাছের তেলে মাছ ভাজা। আগে খেতে পেত না। আর এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে

বাংলায় নাকি কিছুই হয়নি। বাংলায় কিছু বাকি আছে সোনার বাংলা তৈরি করতে? সোনার বাংলা অলরেডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই বাংলাটা এখন বিশ্ব বাংলা হচ্ছে

এই বিজেপি থাকলে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর দেখা যাবে। মানুষ খেতে পাবে না

এই যে কয়েকজন গিয়েছে। কেন গেছে বলুন তো? অনেক টাকা করেছে। কাউকে ইডির, সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়েছে। এইসব ভয় দেখিয়ে বলেছে, যদি টাকা রাখতে চাও, তাহলে বিজেপিতে যাও। যদি কালো টাকা সাদা করতে চাও, তবে বিজেপিতে যাও। বিজেপি ‘জাঙ্ক পার্টি’ হয়ে গিয়েছে। ডাস্টবিনের মধ্যে সব ফেলে দিচ্ছে। আর সেই ডাস্টবিন থেকে বিজেপি করলে সাত গুণ মাপ, অন্যরা করলে বন্ধ ঝাঁপ

এখন সবাই বলছে বিজেপি ওয়াশিং মেশিন। কালো হলেও বিজেপি। দলটা ওয়াশিং মেশিন হয়ে গিয়েছে

বিজেপি আসবে কোথা থেকে? তফসিলি, আদিবাসি, মতুয়া, নমশুদ্র, সংখ্যালঘুরা ভোট দেবে? দেবে না। অনেক ঠকিয়েছে

সারা দেশে ডিক্টেটরশিপ চলছে। মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে জব্দ করছে

ওরা আমাকে পছন্দ করে না। কারণ ওরা জানে, আমি নিজেকে বিক্রি করি না। আর এটাও ওরা জানে, আমি মরে যাব, কিন্তু বাংলাকে বিক্রি করতে দেবো না। হুঙ্কার মমতার।