পিএম কিষাণ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

ক্ষমতায় এলে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রত্যেক কৃষককে পিএম কিষাণ প্রকল্পের আওতায় ১৮ হাজার করে টাকা দেওয়ার। সেই টাকা কৃষকদের দ্রুত দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই মর্মে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যে বার বার এসে আপনি বলেছেন, প্রত্যেক কৃষককে ১৮ হাজার করে টাকা ভাতা দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও রাজ্যের কোনও কৃষক সেই ভাতা পাননি। তাই আমি অনুরোধ করছি যত দ্রুত সম্ভব পিএম কিষাণ প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকদের টাকা দেওয়া হোক ও ২১ লক্ষ ৭৯ হাজার কৃষকের তথ্য প্রকাশ করা হোক’।

চিঠিতে তিনি আরও জানিয়েছেন, গত বছর ৩১ ডিসেম্বর তিনি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু সেই চিঠির কোনও নির্দিষ্ট জবাব তিনি পাননি। গত বছর ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর একটি চিঠি অনুযায়ী, রাজ্যের ২১ লক্ষ ৭৯ হাজার কৃষক পিএম কিষাণ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তার মধ্যে ১৪ লক্ষ ৯১ হাজার কৃষকের তথ্য পোর্টালে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯.৮৪ লক্ষ কৃষক ভাতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু এখনও তা পাওয়া যায়নি।

রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কৃষকরা কী সুবিধা পেয়েছেন তা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের আওতায় ৫৭ লক্ষ ৬৭ হাজার কৃষকের দেওয়ার জন্য ১ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কৃষকদের মৃত্যুর পরে ভাতা হিসেবে ২৪২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।’’

এ ছাড়া ৬০ বছরের নীচে কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মাস্ক অবশ্যই পড়ুন, ভয় পাবেন না, আগামী ১৫ দিন সাবধানে থাকুনঃ মুখ্যমন্ত্রী

আজ নবান্নে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশঃ 

রাজ্য জেলা মহকুমা স্তরে ১০৫ টি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হবে

ডায়মন্ড হারবার ও কোচবিহার মেডিকেল কলেজে ইতিমধ্যেই অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হয়ে গেছে

যারা ইন্টার্নশিপ করছে, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করছে তাদের আমরা করোনা পরিস্থিতিতে কাজে লাগাবো এর ফলে আমাদের ২০০০ ডাক্তার নার্স বাড়বে, যে কোয়াক ডাক্তার আছেন তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বন্ধু/কর্মী বলে কাজে লাগানো হবে করোনা পরিস্থিতিতে

সব নার্সিং হোম ও হাসপাতালে ৪০% বেড বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, প্রাইভেট হাসপাতালে ২০০০ করে বেড বাড়বে

জুট শিল্পে একটা শিফটে ৩০% শ্রমিক কাজ করবে

নির্বাচনের পর যারা মারা গেছে তাদের ২ লক্ষ টাকা সাহায্য করা হবে. সব রাজনৈতিক দলের যাদের ই কর্মী খুন হয়েছে তাদের সকল কে দেওয়া হবে.

নির্বাচন কমিশনের হাতে আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব থাকাকালীন ১৬ জন মারা গিয়েছিলো, তাতে অর্ধেক বিজেপি, অর্ধেক তৃণমূল আর এক জন সংযুক্ত মোর্চার কর্মী ছিল

করোনা পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক জমায়েত নিষদ্ধ করা সত্ত্বেও কিছু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এখন এখানে আসছেন আর গ্রামে গিয়ে লোককে উস্কাচ্ছেন, দাঙ্গার প্ররোচনা দিচ্ছেন, আমি অনুরোধ করব এভাবে দাঙ্গার প্ররোচনা দিয়ে

যেখানে যেখানে বিজেপি বেশি সিট পেয়েছে সেখানে বেশি গুন্ডামি করছে, সেই জায়গা গুলোকে ব্ল্যাক স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে inefficiency বেশি ছিল, অনেক এস পি অফিসার বদল করে দেওয়া হয়েছে

নির্বাচনের পর আমি বিজয় উৎসব বন্ধ করে দিয়েছি সবাইকে শান্তির বার্তা দিয়েছি

আমি বিজেপিকে বলব সংযত হন, মানুষের ম্যানডেট মেনে নিন. এই জয় োর মানতে পারেনি তাই এসব চলছে

উদয়ন গুহ র হাত ভেঙে দিয়েছে। যেহেতু কোচবিহারে বিজেপি বেশি সিট পেয়েছে তাই ওখানে গুন্ডামি বেশি হচ্ছে। আমি আমাদের ছেলেমেয়েদের ও বলব কেউ গন্ডগোল করলে আমি কিন্তু কাউকে রেহাই দেব না

৬ মাস ধরে বাংলায় এসে দিল্লির নেতারা করোনা পরিস্থিতি তৈরী করেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিয়ে চলে গেছে

কই অক্সিজেন না পেলে, ভ্যাকসিন না পেলে টিম আসে না , সাংবাদিক খুন হলে, হাতরাস হলে টিম আসে না তো., দিল্লি উত্তরপ্রদেশে দাঙ্গা হলেও টিম আসে না, আমি শপথ নেওয়ার ২৪ ঘন্টা না হতেই টিম পাঠাচ্ছে? অতিথি আসতেই পারে, ধন্যবাদ

বাইরে থেকে যে কেউ এলে আর টি পি সি আর সার্টিফিকেট আনতে হবে, না থাকলে আমরা টেস্ট করব, আইন সকলের জন্য সমান সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। স্পেশ্যাল ফ্লাইটে এলেও এই টেস্ট মাস্ট, করোনা হলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন এ থাকবে

নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন পি এম কিষান যোজনায় সব কৃষকদের ১৮০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। আজ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। ১৪.৯১ লক্ষ কৃষকের নাম নথিভুক্ত করে পাঠানো হয়েছে। , আমরা চাই টাকাটা সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হোক

১ লা জানুয়ারি ২০১৯ থেকে এখনও পর্যন্ত কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় ৩৪৫৪ কোটি টাকা আমরা দিয়ে দিয়েছি। ডেথ বেনিফিট স্কিমের আওতায় ২০৬৭৮ জন কৃষকের পরিবারকে ৪১৩. ৫৬ কোটি টাকা দেওয়া হবে

করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে কৃষকদের যে ১০০০০ টাকা দেওয়ার কথা হয়েছে সেই প্রক্রিয়া, দুয়ারে রেশন, মহিলাদের পেনশন এইসব প্রক্রিয়াও আমরা শুরু করব

মাস্ক টা অবশ্যই পড়ুন, ভয় পাবেন না, সাবধানে থাকুন আগামী ১৫ দিন, সতর্ক করছি নিজেদের যত্ন নিন

গ্রামের মানুষ সব ক্লাব, পুজো কমিটি সহ সব ধর্মীয় সংগঠন কে বলব দায়িত্ব নিন, সকল কে বোঝান, জমায়েত করবেন না ৫০ জনের বেশি, সম্ভব হলে ঘরে বসে প্রার্থনা করুন

মিথ্যে কথা রটানো হচ্ছে বাংলার বদনাম করার জন্য। বাংলার মা বোনের সম্মান আমার কাছে হিমালয়ের চূড়ার মতন

কাউকে কোন দাঙ্গা করতে দেওয়া হবে না, সরকার কঠোর হাতে এসব দমন করবে

আমাদের অক্সিজেন অন্য রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে, ৩০০০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন দিচ্ছে না অথচ ২০০০০ কোটি টাকা দিয়ে সংসদ ভবন হচ্ছে, মূর্তি তৈরী হচ্ছে, কেন মানুষ ভুগছে? ওরা বাংলার নির্বাচনের জন্য করোনাকে অবহেলা করেছে, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি

পরাজয় মানতে পারছে না, এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দাঙ্গা করার জন্য মন্ত্রী পাঠাচ্ছে, কেন ওদের মন্ত্রীরা কোভিড হাসপাতাল পরিদর্শনে যাচ্ছে না?

আমাদের প্রথম কাজ কোভিড মোকাবিলা করা: মুখ্যমন্ত্রী

তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই কোভিড মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ নবান্নে বৈঠক শেষ করে সাংবাদিক বৈঠক করেন।

তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ:

এখন আমাদের প্রথম কাজ কোভিড মোকাবিলা করা

আজ বিস্তারিত আলোচনার পর আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছি

রাজ্যে মোট ২৭০০০ বেড আছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও ৩০০০ বেড বেড়ে ৩০,০০০ হবে. ৩৫০০ আই সি ইউ বেড আছে

২ লক্ষ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন। আমার ৩ কোটি ভ্যাকসিন চেয়েছি পাচ্ছি দেড় লাখ, ডবল ডোজ কে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি

সাংবাদিক, পরিবহন কর্মী ও হকারদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে , জেলায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার কোয়াক চিকিত্সককে নির্দেশ দেওয়া হবে

রাজ্যের অক্সিজেন অন্যরা নিয়ে চলে যাচ্ছে। তাই অক্সিজেন সঙ্কট সামলাতে সরকার শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত অক্সিজেন, চিকিত্সার জন্য নেওয়া হচ্ছে

জনসাধারণের যাতে কোন সমস্যা না হয় সেসব ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন, হাত ধুয়ে নিন, স্যানিটাইজ করুন

সরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ হাজিরা করছি। বেসরকারি ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কর্মীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করাতে হবে

শপিং মল, রেস্তোঁরা, বার, জিম, স্পোর্টস একাডেমি এসব পরবর্তী নির্দেশ আসা পর্যন্ত বন্ধ

৫০ জনের বেশি কোনওরকম জমায়েত নিষিদ্ধ করা হল তাতেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে, যে কোন রাজনৈতিক জমায়েত বন্ধ

সকাল ৭-১০, বিকেল ৫- সন্ধে ৭টা খোলা থাকবে বাজার-দোকান

সব লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখা হচ্ছে পরবর্তী নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে সংখ্যায় অর্ধেক হবে রাজ্য পরিবহণের বাস ও মেট্রো রেলও

বিমানে আসা-যাওয়া করতে গেলে অবশ্যই থাকতে হবে কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট

জরুরি ভিত্তিতে বাইরে থেকে কেউ এলে ১৪ দিন থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে

সকাল ১০ থেকে দুপুর ২ পর্যন্ত ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে

ওষুধ কিনতে আমাদের খরচ হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা।কেন্দ্রকে জানিয়েছি, অক্সিজেন ও ভ্যাকসিন নিয়ে নীতিতে স্বচ্ছতা চাই। কোনও রাজ্য পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না

গয়নার দোকান বেলা ১২ থেকে দুপুর ৩ পর্যন্ত খোলা রাখা হবে

হোম ডেলিভারি, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় থাকবে

সুফল বাংলা বাড়ানো হবে, অনলাইন অর্ডার চলবে

কোভিড ওয়ারিয়র ক্লাব করা হচ্ছে জেলায় জেলায়

প্লাজমা ব্যাংক ২০ টি আছে আরো বাড়ানো হবে

সব জায়গায় স্যানিটাইজেশন মাস্ট

 

স্বচ্ছতা আসুক ভ্যাকসিন নীতিতে, প্রধানমন্ত্রীকে কড়া চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জয়ী হওয়ার পরেই সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানিয়েছিলেন সর্বপ্রথম কোভিড ইস্যুর উপরেই তিনি জোর দিচ্ছেন। আজ তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিয়েও প্রথমেই করোনা মোকাবিলার পদক্ষেপ করবেন বলে জানান তিনি। আর তার পরেই ভ্যাকসিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দাবি, সবাইকে বিনামূল্যে টিকাকরণ করাতে হবে।

চিঠিতে ভ্যাকসিনের জোগান বাড়ানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি লিখেছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি আপনাকে চিঠি লিখেছিলাম মনে করে দেখতে পারেন। রাজ্য টিকা কিনতে চায় বলেছিলাম। রাজ্যের মানুষ যাতে বিনামূল্য টিকা পায় সেই চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এখনও কোনও উত্তর পাইনি। এখন হাসপাতালে বেড ও অক্সিজেন, ওষুধ, ভ্যাকসিনের সঙ্কট। তাই আবার লিখছি।

আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী:

১) প্রথমত টিকার জোগান বাড়াতে হবে। সরকার ইতিমধ্যেই ১৮ বছরের উর্ধ্বেও টিকা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু টিকার জোগান নেই।

২) করোনা মহামারীতে ওষুধ, রেমডেসিভির এর ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে হাজার ডোজ রেমডেসিভির লাগবে প্রতিদিন। এই সমস্ত করোনার অত্যাবশ্যক ওষুধের জোগান যাতে দ্রুত বাড়ানো তার ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়েছেন।

৩) সংক্রমণের হার বাড়ায় অক্সিজেনের ঘাটতি (Oxygen shortage) দেখা দিয়েছে। আর তাই অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ করার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে দৈনিক হারে অক্সিজেনের চাহিদা ২২০ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪০০ মেট্রিক টন হয়েছে। খুব শীঘ্রই চাহিদা গিয়ে ঠেকবে ৫০০ মেট্রিক টনে। তাই রাজ্যের জন্য অবিলম্বে ৫০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন বরাদ্দের দাবি তুলেছেন তিনি।

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে করোনা যুদ্ধ সমন্বয়ের মাধ্যমেই জেতা যাবে।’

শীতলখুচিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল নেত্রী

প্রচারের নিষেধাজ্ঞা উঠতেই আজ সকালে প্রথমেই কোচবিহারের শীতলখুচি গিয়ে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থ দফায় ভোট চলাকালীন সেখানে দফায় দফায় মোট ৫ জন নিহত হন।

তাদের সরকারের তরফে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানিয়েছেন ঘটনার তদন্ত করে আসল দোষীদের খুঁজে বের করা হবে। নিহত সকলের জন্য শহিদ বেদি তৈরি হবে।

নিহত মনিরুল হকের স্ত্রী-র কোল থেকে তাঁদের সদ্যোজাত সন্তানকেও কোলে তুলে নেন তিনি। প্রথম বার ভোট দিতে যাওয়া ১৮ বছরের আনন্দ বর্মণের মৃত্যুরও তীব্র নিন্দা করেন তিনি। কথা বলেন আনন্দ বর্মণের মামা ও দাদুর সঙ্গেও।

তিনি বলেন,‘‘আমি আপনাদের সকলের ঘরের লোক। দোষীরা শাস্তি পাবেই। মানুষ এই হত্যার জবাব দেবে। এখন নির্বাচন চলছে, নির্বাচন মেটার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যা তদন্ত করার আমরা করব।

তবে ভোট মিটলে ফের শীতলখুচি আসবেন বলে সকলকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। .

বিজেপি হচ্ছে ছদ্মবেশী শয়তান: উত্তরপাড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ হুগলী জেলার উত্তরপাড়ায় তৃতীয় জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্যের কিছু বিষয়ঃ 

আজ এক ঝাঁক টেলি শিল্পী এখানে এসেছে কাঞ্চনের জন্য। ওরা কাঞ্চনকে জেতাতে সঙ্ঘবদ্ধ। আমি ওদের কাছে কৃতজ্ঞ

কোন্নগর একটা পবিত্র জায়গা, বরণীয় এবং স্মরণীয় মানুষদের জায়গা। এখানকার সঙ্গে মোহনবাগানের যোগ আছে। এখানে বড় শিবের মন্দির আছে, আরও অনেক অনেক তীর্থস্থান আছে

আগে যারা চলে গেছে তাদের স্বাগত, গেছে তাই বেঁচে গেছি। আমরা এমন প্রার্থী দিয়েছি যে অন্যত্র চলে যাবে না। এই জায়গা হচ্ছে একটা বিখ্যাত মানুষের জন্মস্থান। ‌ এখানে প্রচুর শিল্প হবে

ডানকুনি অমৃতসর ফ্রেট করিডর যেটা আমি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তৈরি করেছিলাম, সেটা এবার চালু হবে। বিজেপি রেল, SAIL, বীমা, সব বেসরকারিকরণ করে দিচ্ছে

যারা নেতা আছে, তাদের বলছি, এমন কাউকে এজেন্ট করবেন না যে ভয় পায় বা বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করে পালিয়ে যাবে। আমার কন্যাশ্রীর মেয়ে, বঙ্গজননীর মেয়েদের এজেন্ট করুন

আমি নন্দীগ্রামে দেখেছি, ওরা কী রকম ভয় দেখায়। EVM ভালো করে চেক করবেন, খারাপ হলে অপেক্ষা করবেন, ভোট দিয়ে যাবেন, ভোটের পর EVM পাহারা দেবেন

ওরা বলছে বাংলাকে গুজরাট বানাবে। বানাতে দেব না, যত দূর যেতে হয় যাব, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই কর

আমরা বিনা পয়সায় খাদ্য দেব, বিনা পয়সায় রেশন বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেব, মা-বোনেদের হাত খরচ দেব ৫০০ থেকে হাজার টাকা প্রতি মাসে। বিধবারা হাজার টাকা পেনশন পাবেন

কৃষকরা যাদের এক একর জমি আছে, তারা ৫ হাজার টাকা পাচ্ছে, সেটা ১০ হাজার টাকা করে দেবো, প্রান্তিক চাষীরা ৫ হাজার টাকা পাবে

নবম শ্রেণীতে সাইকেল পাচ্ছে সেটা পাবেন, দ্বাদশ শ্রেণীতে ট্যাবের ১০ হাজার টাকা পাবেন, এবার ১০ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ড করে দেবো যাতে উচ্চ শিক্ষায় অসুবিধা না হয়। স্বাস্থ্যসাথীর জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে

সব করেছি। বাকি আছে শুধু বিজেপি, ওদের খেলার মাঠে হারাতে হবে। বিজেপির কথায় দাঙ্গায় পা দেবেন না, সর্বধর্ম নিয়ে কাজ করবেন

বিজেপি হচ্ছে ছদ্মবেশী শয়তান

বঙ্গভঙ্গ হতে দিচ্ছি না, দেব না, বাংলাই বাংলা শাসন করবে, দুটো গদ্দার আর দুটো মীরজাফর বাংলা শাসন করবে না

আমরা তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ তৈরি করেছি: তারকেশ্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ হুগলি জেলার তারকেশ্বরে তৃতীয় জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্যের কিছু বিষয়ঃ 

তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ আমরা তৈরি করেছি। এখানে মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছে

চন্দননগরের আলোর হাব, মিষ্টির হাব, তাঁতিদের জন্য হাব তৈরি করা হয়েছে

আমাদের সরকারের প্রচুর শাড়ি, জামা কাপড় লাগে। আগামী তিন বছরের অর্ডার তাঁতিদের দিয়ে দিয়েছি আগাম

প্রফুল্ল সেন হুগলির মানুষ। ওনাকে আরামবাগের গান্ধী বলা হত। উনি আমাকে ওনার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিল। নবদ্বীপে ইসকনের জন্য জমি দিয়েছি

আমাদের বাংলায় দুটো জিনিস বেশি আছে। অনেক নদী আছে, তাই বন্যাও হত, এখন অনেক কমিয়ে দিয়েছি। আর বাংলায় আছে অনেক মন্দির। বিষ্ণুপুরের পুঁথি আমরা ডিজিটাইজড করেছি, বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয়, বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি আছে

বাংলায় যখন বঙ্গভঙ্গ হচ্ছে, তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, আবার সেই দিন আসছে, মোদী আর অমিত শাহ বাংলাকে ভাগ করতে চাইছে। মোদীর আজকে মিটিং আছে, আবার উল্টোপাল্টা বলবে। সোনার বাংলা বলতে পারেনা, সুনার বলে। কেন বাংলাকে অপমান করবে, আমি আমি ঠিকভাবে গুজরাটিতে ‘কেম ছো’ বলি

সুভাষ চন্দ্র বোসের জন্মদিনে উল্টোপাল্টা স্লোগান তুলে নেতাজি কে অপমান করেছে বিজেপি

১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছে? বিনা পয়সায় চাল দিচ্ছি আর গ্যাসের দাম ৯০০ টাকা। প্রাইম মিনিস্টার চলবে বলে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে প্লেন কিনছে, নতুন পার্লামেন্ট কিনছে, ওদিকে কৃষকরা আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনে আমরা সমর্থন করছি। আমি জানি চাষীদের কি জ্বালা, তাই কৃষক বন্ধু প্রকল্প করেছি। চাষিরা এবার ১০ হাজার টাকা করে পাবে একর প্রতি

বিনা পয়সায় চাল দুয়ারে দুয়ারে করে দেব। বাড়ির মেয়েদের জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার করে দেব। তারা ৫০০ থেকে হাজার টাকা পাবে প্রত্যেক মাসে। কন্যাশ্রী আছে, রূপশ্রী আছে, শিক্ষাশ্রী আছে, সংখ্যালঘুদের জন্য স্কলারশিপ আছে

সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে ওরা, ওদের কথা শুনবেন না, এখানকার বিজেপি প্রার্থী রাজ্যসভা মনোনীত সদস্য, হেরে গেলে আবার দিল্লি চলে যাবে, আমাদের প্রার্থী এখানকার ছেলে, এখানেই থাকবে

নন্দীগ্রামে আমি দেখেছি ওরা হিন্দু-মুসলিম ভাগ করার চেষ্টা করছে, তৃণমূল করে বলে বাড়ি ভেঙে দিয়েছে, তাও একটা হিন্দু ছেলের বাড়ির লোককে মুসলিমের বাড়িতে আশ্রয় নিতে পেরেছে। বয়ালে ঘিরে রেখেছিল বিজেপির গুণ্ডারা। তিন ঘণ্টা বসেছিলাম। ভয় পাইনি। ওরা পেট্রোল বোমা নিয়ে ঘিরে রেখেছিল’

সিপিএমের হার্মাদরা এখন বিজেপির বন্ধু, বিহার থেকে, মুজাফফরনগর থেকে, বন্দুক, বোমা নিয়ে এসেছে। বাড়িতে বাড়িতে তান্ডব করেছে

যখন বিপদ হয়, তখন কি হিন্দু-মুসলমান দেখে সাহায্য চায় মানুষে? নরেন্দ্র মোদীরা গণতন্ত্র মানে না, ধনতন্ত্র মানে, এরা স্বৈরাচারী। এরা একটা হিটলার আরেকটা চাউসেস্কু। বলছে বাংলা দখল করেঙ্গা- আগের দিল্লি সামলা তারপরে আসিস বাংলা

এই বাংলাকে যদি বাঁচাতে হয়, আমাদের ভাষাকে বাঁচাতে হয়, তাহলে মা বোনেরা বেঁধে জোট, জোড়া ফুলে সব ভোট

ওদের ফুলে আটটা পাপড়ি, মানে আটটা গোষ্ঠীতে ভাগ করে দিচ্ছে। নজরুল লিখেছিল, জাতের নামে বজ্জাতি, এরা সেই বজ্জাত

এই মাটি আমাদের মাটি। আমাদের ধর্মস্থল। ওরা রামকৃষ্ণের ধর্ম মানে না। যে রামচন্দ্র মা দুর্গাকে পূজা করেছিল, ওরা সেই মা দুর্গাকে গালাগাল করে। ওরা চণ্ডীপাঠ‌ও করতে পারেনা। ওরা মহিলাদের বিরুদ্ধে

ওরা ক্যাশ দিলে নিয়ে নেবেন, কারণ ওটা আপনারই অধিকার। মা-বোনেরা বিজেপিকে হঠানোর জন্য, আর নিজেরা ভালো থাকার জন্য, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি দিন

গঙ্গাসাগর মেলার জন্য একটা টাকাও দেয় না কেন্দ্র: কুলপিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে দ্বিতীয় জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ:

আমি চিরকাল সাগরের দিকে আসছি। গঙ্গাসাগরকে বাদ দিয়ে, কুলপি, কাকদ্বীপ, ক্যানিং, মথুরাপুরকে বাদ দিয়ে আমাদের দেশ হয়না। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে আমি প্রতিবছর এখানে আসছি

গঙ্গাসাগর মেলায় প্রতিবছর যে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন, আপনারা আতিথেয়তা না দিলে তা কোন‌ওদিন সম্পন্ন হতে পারে না। আপনাদের আমি প্রণাম, সালাম জানাই। আমি একটা পায়েই প্রচার করে বেড়াচ্ছি। মা-বোনেদের দুটো পা-ই আমাকে সাহস যোগাচ্ছে

গঙ্গাসাগর মেলার জন্য একটা টাকাও দেয়না কেন্দ্র

এটা দিল্লির নয়, বাংলার নির্বাচন। বাংলা কি বাংলায় থাকবে নাকি বাইরের গুন্ডাদের হাতে চলে যাবে, এই নির্বাচন সেই রায় দেবে। আপনাদের একটা ভোট সেটা ঠিক করবে। আমাকে যদি আপনাদের পছন্দ হয়, তাহলে দয়া করে এখানকার প্রার্থীকে ভোট দেবেন

দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৃণমূলের জন্মদাত্রী মা। আপনার ভোট তৃণমূলকে দেবেন কারণ আমরা কন্যাশ্রী করে দিয়েছি, সংখ্যালঘু, তপশিলি, আদিবাসী, ছাত্র-যুবদের, মৎস্যজীবীদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছি

এত বড় আমফান ঝড় হলো। কয়েক লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হলো। আমরা ২০ লক্ষ মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছি। বিদ্যুতের খুঁটি ঠিক করে দিয়েছি। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। যারা পাননি, তারাও পেয়ে যাবেন। চিন্তা করার কারণ নেই। সেদিন আমি যদি নবান্নে বসে না সামলাতাম, কি অবস্থা হতো বলুনতো মা-বোনেরা? ওরা একটা টাকাও দেয়নি আর শুধু মিথ্যে বলছে

ফনি থেকে আমফান-সব থেকে আমরা আপনাদের বাঁচিয়েছি। আয়লার সময় সরকার আপনাদের সাহায্য করেনি। আমি কিন্তু রেলমন্ত্রী হিসেবে ছুটে এসেছি। লক্ষীকান্তপুর, নামখানা ট্রেন কে করে দিয়েছে? বিজেপি কিন্তু করেনি। ওদের মতো বজ্জাত, গুন্ডা, দস্যু, জঘন্য পার্টি কোথাও নেই

বলে কিনা ডবল ইঞ্জিন সরকার বানাবে। কি করেছে যে ভোট পাবে? দিল্লিতে সিঙ্গল ইঞ্জিন কি করেছে? আর এখন আসছে বাংলা দখল করতে

গ্যাসের দাম কত হলো? বিনা পয়সার চাল ৯০০ টাকার গ্যাস দিয়ে ফোটাতে হবে। টাকা দিলে নেবেন না, বলবেন ক্যাশ না গ্যাস দিন। কেরোসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাঙ্কের সুদ কমিয়ে দিয়েছিল, যেই মনে পড়েছে নির্বাচনের কথা, নির্দেশিকা ফেরত নিয়ে নিয়েছে। জ্বালানীর দাম বেড়েছে, মানুষের জীবনের দাম কমেছে

বিজেপি থেকে সাবধান, ওদের হাতে আছে স্টেনগান। ওদের দেবেন না ভোট জনগণ। দাঙ্গাবাজ গুন্ডা। সাত বছর ক্ষমতায় আছ

১৫ লক্ষ টাকা কোথায় গেল? উজ্জ্বলা গ্যাস এর কি হল? চোর-ডাকাত গুন্ডা গুলো বিহার, ইউপি থেকে এসেছে

সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করতে হায়দ্রাবাদ থেকে এসেছে একটা দল। ভোট ভাগ হলে বিজেপির মজা হবে। আর যে এসেছে ভাগ করতে, তাতো টাকায় টাকায় বাড়ি উঠবে। এইভাবে বিহারে হারিয়েছে। ইউপিতে হারিয়েছে। বাংলায় এসব হবে না

বাইরের গুন্ডা গুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে হিন্দু-মুসলমান আলাদা হয়ে যান। বাংলার সংস্কৃতি হলো হিন্দু মুসলমান একসাথে চা খান, উৎসব পালন করেন। নন্দীগ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছে

ওরা হিন্দু নয়, মুসলমান নয়। ওরা বিজেপির গুন্ডা। বজ্জাতের দল। ওদের দূরে সরিয়ে রাখুন

এরা দেবতা মানে না। আমরাও দুর্গাও মানি, কালীও মানি। ওরা বলে কি মা দুর্গা? আমরা বলি, তুমি কে হে? আমরা সব ভগবানের পুজো করি। সব ধর্মের মানুষ নিজেদের ধর্ম পালন করেন

উত্তরপ্রদেশে মেয়েকে ধর্ষণ করে জ্বালিয়ে দিয়েছে। তার বাবাকেও খুন করে দিয়েছে। আসামে এনআরসির নাম করে বাঙালির নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। দিল্লিতে মানুষ খুন করেছে

আমার মাঝে মাঝে ঘৃনা হয়। এ কোন দেশে আমরা আছি। যাদের হাত রক্তে রাঙা, তাদের মিটিং আমি শুনতে যাব? এ আমি কোন বাংলাকে দেখছি?‌

ওদের বিশ্বাস করোনা। টাকা নিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার চেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত। এত অধঃপতন আমাদের কেন হবে?

বাংলার মানুষ মাথা নত করে না। মাথা উঁচু করে চলে। আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের দেশের লোক। আমরা ওদের পছন্দ করিনা। ওরা এলে বাংলাকে শেষ করে দেবে। এটা মাথায় রাখবেন

সব কাজ দিদি করছে। বিজেপিকে ভোট দেবে কেন? আগামীদিনে আমাদের সরকার জিতলে বিনা পয়সায় রেশন দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দেব। বিজেপি এলে সব প্রকল্প উঠিয়ে দেবে

মা-বোনেদের হাত খরচ দেব ৫০০ থেকে হাজার টাকা। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার চিন্তা মা-বাবাকে করতে হবে না। ১০ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ড করে দেবো। এর জন্য জামিনদারি লাগবেনা। কৃষক বন্ধুর টাকা ৬ হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকা হবে

৫ লক্ষ ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান হবে। দেড় কোটি ক্ষুদ্র শিল্প করে দেব। চোর চিটিংবাজ, দাঙ্গাবাজ, ধর্ষণকারীদের দলকে ভোট দেবেন না।

নির্বাচনের আগে আমার পা চোট করে দিয়েছে। অনেকবার আমায় মেরেছে। কিন্তু আমি তো মা বোনেদের পা দিয়ে যাব। ওদের সব প্রার্থী ধার করা

দিল্লির ইঞ্জিন জিরো হয়ে গেছে, ওরা নাকি বাংলা চালাবে। এখনো কৃষকরা সিঙঘুতে বসে আছে। কয়েকদিন পর ব্যাংকের টাকা পাবেন না। বীমা বেসরকারি করে দিয়েছে। সব বিক্রি করে দিয়েছে। হঠাৎ একদিন বলবে, নোট নোট বন্দির মত, ব্যাংক বন্ধ, তোমার টাকা তুমি পাবে না। ভোটের সময় টাকা দিয়ে আপনার মাথা খারাপ করে দেবে

আগে দে গ্যাস, তারপরে দিস ক্যাশ। হাজার টাকা যদি গ্যাসের দাম হয়, মানুষ খাবে কি? সেই জন্যেই তো, খেলতে হবে, জিততে হবে, বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাংলা থেকে বের করে দিতে হবে

মোদী বড় মিথ্যাবাদী। অমিত শাহ শুধু দাঙ্গা করবে। আমি সব সম্প্রদায়ের তরফে প্রার্থনা করে যাই। ওরা একদিন আসবে, আগুন জ্বালাবে, ভোট নেবে, পালিয়ে যাবে। কিন্তু আপনারা ৩৬৫ দিন আমাকে পাহারাদার পাবেন

বাংলা মা- কে রক্ষা করতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেব। এটাই আপনাদের শপথ হোক। জয় হিন্দ, জয় বাংলা

 

দেশের সেরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সংস্থার

ভারতের উচ্চশিক্ষা মানচিত্রে সাফল্যের উত্থান ঘটল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সাংহাই র‌্যাঙ্কিং ২০২০ অনুযায়ী দেশের একমাত্র রাজ্য সরকার পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সেরার শিরোপা পেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের এই সম্মানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘‘Shanghai Ranking 2020-এ বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের মধ্যে যোগ্যতা ও কৃতিত্বের জন্য প্রথম স্থান পাওয়ায় আমি খুশি হয়েছি। ভারতের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও CU তৃতীয় স্থান পেয়েছে। এই সাফল্য গোটা রাজ্যের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সব শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’’

 

 

নন্দীগ্রামের মাটি সংগ্রামের মাটি: বাসুলি চকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ বাসুলি চকে দ্বিতীয় জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ:

অন্তত ১ লক্ষ মানুষ রাস্তার দু ধারে দাঁড়িয়েছিলেন। দেখে মন ভরে গেল।

আমি ছোট বেলা থেকে শিখেছি সবাইকে ভালবাসতে সম্মান করতে। কখনো ভাগাভাগি করতাম না।

ছোটবেলায় রবীন্দ্র জয়ন্তি, গান্ধী জয়ন্তি, আম্বেদকারের জন্মদিন পালন করতাম। এভেবেই কবে দেশপ্রেমিক হয়ে গেছি বুঝতে পারি নি।

আইসিডিএস, আশার মেয়েরা খুব ভালো কাজ করেছেন। করোনার সময়েও ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ রেখেছে সকলের।

কাল আমাদের মিছিল যখন যাচ্ছে তখন নিজে থেকেই বাড়ির মেয়েরা জল এনে দিচ্ছে। নন্দীগ্রাম আতিথেয়তা জানে।

নন্দীগ্রামের মাটি সংগ্রামের মাটি

আমি যেখানেই দাঁড়াতাম জিততাম। সবাই আমাকে ভালোবাসে। আমি প্রথমবার লাল দুর্গ যাদবপুরে সোমনাথ চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জিতেছিলাম। আমি মোট সাত বার সাংসদ হয়েছি। দু”বার মুখ্যমন্ত্রী। এইবার জিতলে মোট ১০ বার হবে।

আমি নন্দীগ্রামে কেন দাঁড়িয়েছি জানেন। আমি যেদিন এখানে সভা করতে এলাম দেখলাম সবাই খোল-করতাল নিয়ে নাচ-গান করছেন। তখন আমার মনে হল এখানে কি আমার দাঁড়ানো উচিত। তখনই আমি ঠিক করলাম এখন থেকে দাঁড়াব।

এখন নন্দীগ্রামে কোনও বিধায়ক নেই। যাকে জিতিয়েছিলেন সেই গদ্দার তো পালিয়েছে। আমি কিন্তু ভবানীপুর থেকে এখনও বিধায়ক। এ বার নন্দীগ্রামের বিধায়ক হব।

নন্দীগ্রাম তোমায় এতো দিল আর তুমি কি করলে?

আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আর ও হরিদাস আমাকে বলে কিনা বহিরাগত। ভাবুন।

ভবানীপুরের মানুষ খুব কষ্ট পেয়েছেন। আমি ওখানকার মানুষদের বুঝিয়েছি, এ বার আমি গ্রাম থেকে দাঁড়াতে চাই। আর গ্রাম থেকে দাঁড়ালে তো নন্দীগ্রামের থেকে ভাল কিছু হয় না।

যার বাড়ি থেকে গুলি চলেছিল সেই নব সামন্তকে দলে নিয়েছে বিজেপি। এখন গদ্দারের ডান হাত হয়েছে। ওকে দায়িত্ব দিয়েছে বয়াল, গোকুলনগর দখল করার। দেখব কী করে দখল করে। এই গুন্ডাদের শায়েস্তা করতে হবে।

রবি মান্না বলে ছেলেটাকে মেরেছে। বাঁচবে কি না জানি না। আমার পায়ের এই অবস্থাও বহিরাগতরাই করেছে। নন্দীগ্রামের মানুষেরা এরকম করতে পারে না।

কাল দেখলাম গুন্ডা নিয়ে ৩০-৩৫ টা গাড়ি নিয়ে ঢুকছে ওরা। নির্বাচন কমিশনের কোন নিয়ম নেই। আমি প্রার্থী আমি ৫ টার বেশি গাড়ি রাখতে পারব না। ওরা কি করে পারবে?

সন্ধ্যে ৬ টার পরে কোন বহিরাগতকে থাকতে দেবেন না। ওরা সব জায়গায় ভয় দেখায়। ভয় দেখাতে এলে, গুন্ডামি করতে এলে হাতা খুন্তি নিয়ে তেড়ে যাবেন মা-বোনেরা।

দিল্লি থেকে ১০০০ নেতা এনেছে টাকার বাক্স নিয়ে বসে আছে, ওদের টাকা গাড়ি ভরে টাকা পাঠানো, এতো টাকা আগে জানতাম ই না

কাল একজন বলল ওর ৭০টা ট্রলার আছে। অন্য জন বলল ওটা ৭০০ হবে। পেট্রোল পাম্প থেকে আইটিআই কলেজ, হলদিয়া, কলকাতায় বাড়ি কি নেই ওদের?

বলছে সম্মান দেয় হয়নি। সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তারপরেও বলল আমি অপমানিত। শুধু চেয়ার নেই ম্যান আছে, ওর চেয়ার বিজেপিকে বিক্রি করে দিয়েছে।

আজকে হোম মিনিস্টারকে নিয়ে এসেছিল। পুলিশকে ধমকানো আর চমকানোর জন্য। আর তো ৪৮ ঘণ্টা। এই ৪৮ ঘণ্টা ঘুরে নে। তারপর তো পগার পার হতেই হবে। আর হলদি নদীর ধারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তখন আমরাই থাকব।

আমরা চাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট হোক। তোমাদের তো এত টাকা। তাহলে ভয় দেখাচ্ছ কেন। তাহলে কি আগে থেকেই হেরে বসে আছ। গণভোট নিয়ে দেখ না। আমি তাতেও রাজি।

গন্ডগোল করে নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা করছে। ১ লা এপ্রিল তো এমনিতেই এপ্রিল ফুল। ওই দিন বিজেপিকে এপ্রিল ফুল করে দিন। আর সব ভোট আমাদের দিন।

সকাল সকাল ভোট দিতে যাবেন। আর মাস্ক পরে যাবেন। মাস্ক না পরে থাকলে অনেক সময় সেন্ট্রাল ফোর্স বের করে দিচ্ছে। অনেক সময় গ্রামে গিয়ে বলছে বিজেপি-কে ভোট দিতে। বললেই রেকর্ড করে নেবেন। তারপর আমাকে পাঠাবেন।

ওদের একটা প্ল্যান আছে। নিজেদের দলের একটা মেয়েকে মারবে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে যেসব গুন্ডাদের নিয়ে এসেছে ওদের দিয়ে অত্যাচার করাবে। তারপর পুরোটাই হিন্দু- মুসলমান করে দেবে। খেয়াল রাখবেন।

দু’দিন বাদেই ওরা পগারপার হবে। ওদের বোল্ড আউট করে কান ধরে মাঠ থেকে বের করে দেব।

গুজরাট, দিল্লি, মুম্বাইয়ে দাঙ্গা করেছে। কিন্তু আমি বাংলায় দাঙ্গা বরদাস্ত করব না। আমি আপনাদের পাহারাদার

একমাত্র আমিই এনপিআর , এনআরসি করতে দিই নি রাজ্যে। এখন সিপিএমের যে হার্মাদরা সেদিন আপনাদের মেরেছিল তারাই বিজেপির হয়ে ভোট চাইতে আসছে।

আপনাদের বাড়িতে বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেব। আমার বিনে পয়সায় দেওয়া চাল আপনাদের ৯০০ টাকার গ্যাসে ফোটাতে হবে। বলবেন দুশো টাকা না দিয়ে বিনে পয়সায় গ্যাস দে।

টাকা দিতে এলে খরচা করে ভোট বাক্সেও ওদের খরচা করে দিন।

মা-বোনেদের প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দেব। ছাত্র-ছাত্রীদের ১০ লক্ষ টাকা করে কম সুদে ঋণ দেব। ১০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেব। হলদি নদীতে ব্রিজ তৈরি করে দেব। নন্দীগ্রাম থেকে হলদিয়া যাওয়ার জন্যে।

বারো ক্লাসের ছেলে মেয়েদের ট্যাব দিচ্ছি। তাজপুর গভীর বন্দর হচ্ছে সেখানে ২৫ হাজার ছেলে মেয়ে কাজ পাবে।

১০০ দিনের কাজে আমরা প্রথম। এমএসএমই তে আমরা প্রথম।

গোটা দেশে মোদীর সরকারের আমলে দেশে ৪৫ বছরে বেকারত্ব সর্বাধিক। আমরা এই মহামারিতেও ৪০% বেকারত্ব কমিয়েছি। ১লা এপ্রিল ওদের ভোট না দিয়ে বোকা বানান।

ঠান্ডা মাথায় ভোট করুন। মাস্ক পরে যাবেন ভোট দিতে। পুলিশরা বিজেপিকে ভোট দিতে বললে রেকর্ড করে আমাকে পাঠাবেন আমি নির্বাচন কমিশনকে পাঠাব। একটি মেয়েকে মেরে আমাদের নামে দোষ দেবে। সাবধান থাকুন।

একজন বৃদ্ধা মারা গেছে ওদের প্রার্থী পোস্ট মর্টেম না করেই ডেথ সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। কি করে দেয়?

নজর রাখুন বিজেপিকে নোংরা খেলা খেলতে দেবে না, ফেক বুক কইরছে, ফেক ভিডিও তৈরী করছে