সংগ্রামের ১২ বছর


আমরা বাংলার মানুষেরা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা কি কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত, পরিশ্রমবিমুখ, নিজ-সম্মানবৃদ্ধিকারী, হীনচেতা, অনুদার মানুষের ঝোঁক ও খেয়ালের ওপর চলব? নাকি আমরা সারা দেব ভবিষ্যতের ডাকে, নিজেদের নিয়োজিত করব মহৎ কাজে যা আমাদের আসল ভবিতব্য? আমরা কি কূপমণ্ডক হয়ে নিজেদের মধ্যে নিজেকে রেখে দেব আর ভাবব যে ‘যা চলছে চলুক, যতক্ষণ আমাদের ওপর কোন আঁচড় না আসে কিছু আসে যায় না’? নাকি আমরা সময়ের সাথে নিজেদের অধিকারের লড়াইয়ে সামিল হব। এই সময়টা হল নিজেদের অভিমত জানানোর। নিজেরদের একটা সুচেতন ও সুচিন্তিত অভিমত জানানোর। এই সময়টা হল ঠিক আর ভুলের মধ্যে বিভেদ ঘটানোর, সত্যি এবং মিথ্যেকে আলাদা করার।

দুটি রাস্তা আছে। একটা সহজ এবং একটা কথিন ও কষ্টসাপেক্ষ। প্রথমটি তুচ্ছ চাহিদা, ছোট ছোট বাসনাকে পুরণ করবে কিন্তু শেষে নিয়ে যাবে ধ্বংস ও ক্ষয়ের দিকে। অন্য রাস্তাটি কঠিন হতে পারে, পেঁচালো হতে পারে, আমাদের ক্ষীণ শক্তির তুলনায়। কিন্তু এই রাস্তায় হাঁটলে মায়ের আশীর্বাদে যিনি সর্বদা আমদের হৃদয়ে আছেন এবং আমাদের সব কাঠিন্যকে তুচ্ছ করে চলেছেন, আমারা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে যাব।

অসম্ভবকে সম্ভব করতে প্রস্তুত থাকতে হবে চরম আত্মবলিদানের জন্য। অনেকেই এই মহাযজ্ঞে সচেতনভাবে বা অসচেতনভাবে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁরা যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে প্রস্তুত, যার দ্বারা মহৎ উদ্দেশ্যগুলিকে আমরা রূপ দিতে সক্ষম হব। তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। এখন সময় নিজেদের তৈরি করার যাতে মাতৃভুমির যোগ্য সন্তান হিসেবে আমরা পরিচিতি পেতে পারি।