সাম্প্রতিক খবর

মে ১৫, ২০১৯

বিদ্যাসাগর কলেজে বিজেপির তাণ্ডব সম্পর্কে তৃণমূলের বিবৃতি

বিদ্যাসাগর কলেজে বিজেপির তাণ্ডব সম্পর্কে তৃণমূলের বিবৃতি

পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মহাসচিব, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস

বিজেপি বলছে যদি ভেতর থেকে বিদ্যাসাগর কলেজ তালাবন্ধ থাকে, তাহলে বিজেপি ঢুকল কিকরে? তালা ভাঙছে, ভেঙে ভিতরে ঢুকছে বিজেপি। বিদ্যাসাগরের মূর্তি বের করছে, করে ফেলে দিচ্ছে। এর পরে এই ভিডিও দেখার পরে লজ্জায় কোথায় মুখ ঢাকবে বিজেপি? এই নির্লজ্জরা যারা বাইরে থেকে গুন্ডাদের নিয়ে এসেছে, যারা বাংলার সংস্কৃতি জানে না, যারা বিদ্যাসাগরকে বোঝে না, যারা রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেন, তারা আজ সাফাই গাইছে? বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে সাফাই?

এই ধরণের পূর্ব পরিকল্পিত এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন লোকরাই আছে এই চক্রান্তের পিছনে। এই চক্রান্ত করতে গিয়ে তারা বিদ্যাসাগরের গায়ে হাত লাগাল, ক্ষমতা এতোটাই দরকার যে বিদ্যসাগরের নামাঙ্কিত কলেজের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি তারা ভাঙবে আর ভেঙে বলবে তৃণমূলের কাজ? আমাদের শিক্ষা দপ্তর দায়িত্ব নিয়েছে যে এই বিদ্যাসাগরের মত হেরিটেজ কলেজ এবং বাকি সমস্ত যে সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, শিক্ষা দপ্তর থেকে তা করে দেওয়া হবে। এখন যেহেতু নির্বাচন বিধি আছে, তা সত্ত্বেও বলব, বিদ্যাসাগরকে লাঞ্ছনা, বিদ্যাসাগরকে অপমান, বাংলার সমস্ত মানুষকে, সমস্তও শিক্ষাবীদ, মননশীল মানুষকে অপমান। আমরা সমস্ত রকমভাবে এই হেরিটেজ কলেজকে সবরকম সাহায্য দেব এবং আবার পুরোনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা আমাদের দপ্তর থেকে সাহায্য দরকার, আমরা সেই সাহায্য নিশ্চয়ই দেব।

অন্যদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়, কত নামী দামী লোক এখানে যুক্ত ছিলেন। এখনও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে স্মারক, বক্তৃতা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, তাঁরা ঘটা করে করেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বিজেপি আক্রমণ করল। আবার বলছে ফ্লেক্স ছিঁড়েছে। ফ্লেক্স তো লাগানোই উচিৎ না। সরকারি সম্পত্তিতে কিকরে ফ্লেক্স লাগাচ্ছে? সরকারি সম্পত্তিতে এক্তার পর একটা পোস্টে তারা ফ্লেক্স লাগিয়েছে। কাল রাতে গিয়ে দেখলাম। নির্বাচন কমিশনের লোকরা আর পুলিশরা মিলে ঐ ফ্লেক্স নামিয়েছে। ওরা বলছে ফ্লেক্স ভাঙছে।

ছবি কি আমাদের কাছে নেই? এতে কি প্রমাণ করে? কোথা থেকে বাঁশ এল? কোথা থেকে পেরেক লাগানো লাঠি এল? আবার ওরা ফটো দেখাচ্ছেন? দপ্তরে বসে প্রার্থী বলছেন। আগে বিজেপি জবাব দিক, জবাব দিতেই হবে। যারা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মারধোর করে আহত করলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নষ্ট করলেন, তারা কোন মুখে দিল্লীতে সাফাই গাইতে বসেন?
এরা কারা? (ভিডিও দেখিয়ে) কারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙছে দেখুন। আমরা কি দেখাচ্ছি সেটা দেখুন। বিজেপির পতাকা গায়ে দিয়ে বাইরে থেকে গেট ভেঙে, গেট টপকে ঢুকছে।

এর পরেও ভারতবর্ষের মানুষের কাছে মুখ দেখান? মূর্তি ছুঁড়ে ফেলে ভাঙছে। বাঁশ নিয়ে ঢুকছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি কে ভাঙল? এই ছবি লোকাবেন কি করে? সমস্ত ভারতবর্ষ জেনে গেছে যে বিজেপির গুন্ডারা এই জিনিস করেছে। অত্যন্ত লজ্জার। লজ্জায় কোথায় মাথা হেঁট করে মুখ ঢাকবেন, তা না করে বীর বিক্রমে এটাকে রাজনৈতিক করার চেষ্টা করছেন। এটা পূর্বপরিকল্পিত ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে এই গভীর চক্রান্ত হয়েছে এবং সেটা অমিত শাহ বাবুর উপস্থিতিতে হয়েছে। দিলীপ বাবু এবং তার প্রার্থী রাহুল সিনহার উপস্থিতিতে হয়েছে।

আমি যখন কাজ গেলাম, পুরো তালা ভাঙা ছিল, কলেজের গৌতমবাবু পাঁচটা তালা কিনতে বললেন। দরজা ভেঙেছে, ল্যাপটপ পর্যন্ত ভেঙেছে। ওরা হাহুতাশ করছে, ১০ বছরের সমস্ত ডেটা এই ল্যাপটপে আছে, আধার কার্ড আছে, ন্যাকের সমস্ত তথ্য আছে।
অমিত শাহকে একটা গল্পের বই লিখতে বলুন। রবীন্দ্রনাথ কোথায় জন্মেছে, তাই যে অমিত শাহ জানেননা, সে বিদ্যাসাগরকে জানবেন কি করে? অমিত শাহ জানে বর্ণপরিচয় কার লেখা? দিনদয়াল উপাধ্যায়ের লেখা নয়।

কোথায় ওনাদের কলেজের ভিতর থেকে ইট ছোড়া হয়েছে, আমাদের দেখান। ভিডিওতে দেখুন কারা ছুঁড়ছে? সাংবাদিকরা সোজাভাবে প্রশ্ন তুলুন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙল কে? তদন্তের দরকার নেই, ভিডিও দেখেই বোঝা যাচ্ছে। যা সত্য, তা ঢাকা পড়বে না।

এই আক্রমণ, বাংলার মনিষীদের ওপর আক্রমণ। বাংলার রবীন্দ্রনাথ, বাংলার নজরুল, বাংলার জীবনানন্দ। বিজেপি রাজনীতির নামে একটা দস্যুদের দল। যারা দেশভক্তির নাম করে আর দেশ সম্পর্কে জানেনা, যারা ধর্মকে বিকৃত করছে, যারা মানুষে মানুষে বিদ্বেষ এনে দিচ্ছে, তারাই এই কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন যদি চুপ করে বসে থাকে, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আমাদের শিক্ষা দপ্তর, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাবে। আমাদের বিবেকানন্দ, আমাদের শরৎচন্দ্র, আমাদের বঙ্কিমচন্দ্র, আমাদের বিদ্যাসাগর, সবাইকে নিয়ে আমরা থাকব।

মূর্তি ভাঙা বিজেপির ইতিহাস। ভারতের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এ জিনিস ভারতের মানুষ মানেনি আর আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে বহুদিন ধরে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে, এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা মুখে খুলেছি, রাস্তায় নেমেছি। কোনও কিছুর বদলে আমরা মাথা নোয়াবনা।