সঙ্গে আলাপচারিতায়

শ্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
মাননীয় মন্ত্রী, সেচ ও জলপথ বিভাগ

পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় সেচ ও জলপথ বিভাগের মন্ত্রী শ্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে কথা বললেন AITMC WEB TEAM – এর প্রতিনিধিরা

পশ্চিমবঙ্গের এই উন্নয়নের জোয়ারে সেচ দফতর কিভাবে নতুন পথ দেখাচ্ছে?

আগে মানুষের কোন ও ধারণাই ছিলনা সেচ দফতর কি করে। Ultimately সেচ দফতর মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নির্ভরশীল। একদিকে কৃষি কাজের উন্নতির জন্য সেচের জল আরেকদিকে বন্যা প্রতিরোধ করার জন্য যে মুখ্য ভূমিকা, অর্থাৎ জীবন-জীবিকার উপর নির্ভরশীল মানুষ ভুলতে বসেছিল। মানুষ শুধু ভাবত ফি-বছর Man-made বন্যা হয় আর সেচ দফতর গিয়ে boulder ফেলে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরে একদম নতুন আঙ্গিকে সেচ দফতরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। যা জীবনে কোনদিন হয়নি, তা আমরা করার চেষ্টা করেছি।

Irrigation Structure –এর কথা বলি; Irrigation Structure কখনো তৈরি হয়নি। বাম আমলে একটা ‘তিস্তা ব্যারেজ’ এর কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সালে, আজ অবধি তা শেষ হয়নি। প্রথম আমরা চেষ্টা করছি তিস্তা ব্যারেজকে একটা shape দিতে। তাতে যে সুবিধা হয়েছে, তা হল গত বছর আমরা তিস্তাতে Highest বোরো চাষে জল দিয়েছি ১,১০,৭৪০ একর। এটা আমাদের কাছে একটা বড় achievement।

এর সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিরভুমে ‘মিনি ব্যারেজ’ তৈরি করেছি, প্রত্যেকটা জেলায় সেচ খাল তৈরি করেছি। কুচবিহার থেকে সুন্দরবন, প্রত্যেকটা জেলায় সেচের জল দেওয়ার জন্য কিছু না কিছু ব্যবস্থা করেছি এই সরকার আসার পর। গত বছর বোরো চাষে আমাদের রাজ্য প্রথম হয়েছে কারণ আমরা সেচের জলটা দিতে পেরেছি। এবছর আমরা টার্গেট নিয়েছি প্রায় ১৪ লক্ষ হেক্টর কৃষি জমিতে বোরো এবং রবি ধান চাষ করবো। গত বছর এটা ছিল ১২ লক্ষ হেক্টর। তার আগের বছর ১১ লক্ষ হেক্টর। এবছর চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে ১৪ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ করা যায়।

কৃষি হচ্ছে আমাদের রাজ্যের প্রধান জীবিকা। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী একটা সবুজ বিপ্লবের আশা করেছেন। সেই কথা মাথায় রেখে সেচের জল tail-end অবধি পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছি। এর পাশাপাশি নদী-খাল-বিল সংস্কারের চেষ্টা করছি। এবছর আমরা টার্গেট নিয়েছি উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে প্রায় ২৫০ কিমি নদী-খাল-বিল সংস্কার করার।

তাছাড়াও আমরা কাঠের ও বাঁশের সাঁকোগুলিকে পাকা করার কাজের চেষ্টা করছি। এতে asset creation ও হবে এবং সাধারন মানুষেরও সুবিধা হবে। ২০০৬ থেকে ২০১১ এর মধ্যে মাত্র ৬টা সেতু তৈরি হয়েছিল। আমরা এই দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় বছরে ৫৬ টি সাঁকোকে পাকা করা হয়েছে। আরও ৮২ টি সাঁকো পাকা করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। যেখানে আনেকগুলো সাঁকো আছে সেখানে concrete এর Bridge করে দেওয়া হবে, যাতে গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স যেতে পারে। আমরা এগুলো সার্ভে করছি,চেষ্টা করছি কুচবিহার থেকে সুন্দরবন,সব জায়গায় concrete এর সেতু করে দেওয়ার।

নতুন কিছু প্রকল্পেও আমরা হাত দিয়েছি। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনিপুরে দ্বারকেশ্বর-দন্দেশ্বর প্রকল্প, তাছাড়াও আছে সুবর্নরেখা প্রকল্প। ৩৪ বছরে কোনও প্রকল্প হয়নি। এই কবছরের মধ্যে আমরা একটা নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। খাল-বিল সংস্কার থেকে দিঘার সৌন্দর্যায়ন, টালি নালা, বেলেঘাটা- সব কাজ হচ্ছে। আমাদের কাছে ম্যাজিক নেই, একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আশা করছি আমরা একটা milestone achieve করবো।

বন্যা নিয়ন্ত্রণে আপনার দপ্তর কি ভূমিকা পালন করে?

আমাদের কাছে বড় issue হল বিভিন্ন জায়গায় Flood Protection দেওয়া। এবারে উত্তরবঙ্গে প্রায় ১৩৯ কিমি ও দক্ষিণ বঙ্গে প্রায় ২০০কিমি Flood Protection এর কাজ দেওয়া হয়েছে। গত ৩৫ বছর কোনও কাজ হয়নি। প্রচুর দেনা। প্রতিটি মুহুর্তে struggle করতে হচ্ছে। এইসময় দাঁড়িয়েও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং পরামর্শকে কাজে লাগিয়ে আমরা কাজ করে চলেছি।

এখন আমাদের কাছে আগামী দিনে ২ টো important issue হচ্ছে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ ও ‘কান্দি মাস্টার প্ল্যান’| আমাদের State Funding ready আছে| কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা নেই। আগে মোডালিটিস ছিল কেন্দ্র দেবে ৭৫% ও রাজ্য দেবে ২৫% টাকা। এখন তা বদলে গিয়ে হয়েছে ৫০:৫০| মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়ে চিঠি লিখেছেন। আমরা যতরকম ভাবে সম্ভব Flood Protection এর ওপর জোর দিয়েছি কারণ আমরা Flood prone zone -এ আছি।

আসাম হোক বা সিকিম, ভূটান হোক বা উত্তরাখণ্ড, বিহার হোক বা ঝাড়খণ্ড, এমনকি উড়িষ্যায় বৃষ্টি হলেও ভেসে যাবে পশ্চিমবঙ্গ। Flood gate গুলো এরকম ভাবেই করা আছে। কিন্তু যেভাবে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা লড়াই চালিয়েছি, তাতে কিছুটা হলেও সুফল হয়েছে। এবছর বৃষ্টিতেও সেভাবে disaster হয়নি। যেটুকু ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে, সেতা জল না জানিয়ে ছাড়ার জন্য। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে আরও ব্যাপক আকারে Protection work করার চেষ্টা করছি। বাম আমলে,২০০৯ সালে আয়লা হয়েছিল,২০১১ সাল অবধি ১ টাকারও কাজ হয়নি। মাত্র কয়েক একর জমি অধিগ্রহণ হইয়েছে। আয়লার নদী বাঁধের ৬০ কিমির মধ্যে ২০ কিমির কাজ শেষ, বাকি ৪০ কিমির কাজ চলছে। 1st phase –এর যে ২০০কিমি আছে অতি দ্রুত যাতে ধরা জায় আমরা চেষ্টা করছি।

মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা:

আমি গর্ব করে বলি, আমার জীবনের সৌভাগ্য। আমি এক বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করতাম। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তখন আমাদের নেত্রী। তার ডাকেই রাজনীতিতে প্রবেশ। তিনি একটা কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন, ১ লক্ষ টাকা মাইনে পাওয়ার চেয়ে ১ লক্ষ লোকের চাকরির সংস্থান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে করতে পারলে তার থেকে বড় সম্মান আর কিছু হয়না। ওই কথাটা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছিল। এটা আমার গর্ব ও অহংকার যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নেত্রীর সঙ্গে তার মন্ত্রীসভার হয়ে কাজ করছি। আমরা প্রশাসনিক কাজ আগে করেছি। কিন্তু কটা ব্যাপার আমার নেত্রীর মাথায় থাকে। উনি ভোলেন না। উনি প্রত্যেকটা জিনিস খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানেন। ওনার জ্ঞান ব্যাপক। দীর্ঘদিন প্রশাসনিক কাজ করেছি, অনেক boss কে পেয়েছি, কিন্তু এরকম জ্ঞানের অধিকারি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত boss কোনদিন পাইনি।

লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে দলের কর্মীদের প্রতি বার্তা:

প্রথমে আমি দলের কর্মী, তারপর আমার অন্য পরিচয়। আমি ৩৬৫ দিন দলের কাজ করার চেষ্টা করি। হাওড়ায় পরপর নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটা জায়গায় দলের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখেছি,জনসংযোগ বাড়িয়ে চলেছি। হাওড়া জেলায় দলের কর্মীরা শহরে হোক বা গ্রামে জনসংযোগ বাড়িয়ে চলেছে। কর্মীরা already তেতে রয়েছে, motivated। লোকসভার ঘণ্টা আজ পড়ুক বা কাল, আমাদের কাছে কোনও factor নয়। আমরা পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিচ্ছি। পড়াশোনা চিরকাল করছি, প্রত্যেকদিন করছি।